সাইকেল শোভাযাত্রা
সাইকেলে চড়ে সবুজের পথে...
সাইকেলে চড়ে সবুজের পথে—একদল তরুণের স্লোগান। পরিবেশ রক্ষায় সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে পথ চলছেন তাঁরা। বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ার লক্ষ্য তাঁদের। সংগঠিত তরুণের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস অ্যাডভেঞ্চার ক্লাব অব চিটাগাং (এসিসি)। চট্টগ্রামের সাইক্লিস্টদের সংগঠন এটি।
গত বছরের ২৮ জানুয়ারি পথচলা শুরু করেন তাঁরা। হয়ে গেল এক বছর। তাই সংগঠনের সদস্যরা ঘটা করেই পালন করলেন বর্ষপূর্তি। গত শুক্রবার সারা দিনব্যাপী ছিল সাইকেল শোভাযাত্রা, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী, কেক কাটাসহ নানা আয়োজন।
বছরপূর্তি অনুষ্ঠানে প্রাণসঞ্চার করতে সংগঠনের আহ্বানে ছুটে আসেন টানা দুইবার এভারেস্টজয়ী এম এ মুহিত ও সাইকেল নিয়ে বিভিন্ন দেশ ভ্রমণকারী মোহাম্মাদ হেজলুল ইসলাম। তাঁরা শোনান সাফল্যের গল্প। প্রেরণা দেন আরও এগোনোর। তাঁরা দুজন ছাড়াও অতিথি ছিলেন আলিয়ঁস ফ্রঁসেজের পরিচালক স্যামুয়েল বার্থে।
প্রথম বর্ষপূর্তিকে উপলক্ষ করে নগরে সকালে সাইকেল শোভাযাত্রা বের করা হয়। চট্টগ্রাম ক্রিটিকাল মাস শিরোনামে দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজন করা হয় এই শোভাযাত্রা।
ক্লাবের সদস্য মোহাম্মদ জাফর জানান, বিশ্বব্যাপী সাইক্লিং ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে সারা বিশ্বের ৩৩০টি শহরে একযোগে প্রতি মাসের শেষ ছুটির দিনে আয়োজন করা হয় এই শোভাযাত্রার। বাতাসে কার্বন বিষ ছড়ানো যান্ত্রিক যানবাহনের বিপরীতে সাইকেল-বিপ্লব ঘটাতে এই আয়োজন। চট্টগ্রাম নগরে সাইক্লিং ছড়িয়ে দিয়ে পরিবেশ বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির এই কাজটি করছে অ্যাডভেঞ্চার ক্লাব অব চিটাগাং।
শোভাযাত্রাটি নগরের জিইসি মোড় থেকে টাইগার পাস হয়ে ইপিজেড পর্যন্ত এবং সেখান থেকে ফিরতি পথে চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমী প্রাঙ্গণে এসে মিলিত হয়। বর্ণাঢ্য এই সাইকেল শোভাযাত্রায় অংশ নেন অ্যাডভঞ্চার ক্লাব অব চিটাগাংয়ের শতাধিক সদস্য।
আয়োজকেরা জানান, গত ২৮ সেপ্টেম্বর সাপ্তাহিক সাইকেল ভ্রমণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামে দলগত সাইক্লিংয়ের সূচনা করে এসিসি। এর আগে তারা বিজয় রাইড, উইক অ্যান্ড রাইড, নাইট রাইডসহ নানা কর্মসূচি পালন করে আসছে। এ ছাড়া নারীর ওপর সহিংসতা ও নির্যাতন প্রতিরোধসহ নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংগঠনটি সোচ্চার ভূমিকা রাখছে।
সন্ধ্যায় নগরের জিইসি মোড়ের একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজন করা হয় কেক কাটা অনুষ্ঠান, পর্বতারোহণ এবং পাহাড়ি অঞ্চলে সাইকেল চালানোর ওপর প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীর। নেপাল এবং তিব্বত দুই দিক থেকে এভারেস্টকে জয় করা এম এ মুহিত বিভিন্ন স্লাইড ও ভিডিওচিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে অভিযানের কথা বর্ণনা করেন উপস্থিত তরুণদের মধ্যে। এ ছাড়া পাহাড়ি অঞ্চলে সাইকেল চালানোর ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন এবং বিশ্বের সর্বোচ্চ পাহাড়ি সড়কখ্যাত ভারতের লাদাখ জয়ের বর্ণনা করেন সাইক্লিস্ট মোহাম্মাদ হেজলুল ইসলাম। এ সময় তিনি সাইকেলে চড়ে সারা বিশ্ব ভ্রমণের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এরপরই আয়োজন করা হয় কেক কাটা অনুষ্ঠানের। অতিথি এবং ক্লাবের সদস্যদের অংশগ্রহণে বিশাল কেকটি কাটা হয়। এসিসির বছরপূর্তি অনুষ্ঠান পরিণত হয় তারুণ্য উৎসবে।
পাঠকের মন্তব্য
- আপনার মতামত দিন






