কোন্দলে স্থবির লোহাগাড়া বিএনপি
অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও জামায়াতের সঙ্গে টানাপোড়েনের কারণে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) লোহাগাড়া উপজেলা শাখার সাংগঠনিক কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়েছে। উপজেলা বিএনপিতে এখন স্পষ্টত দুটি পক্ষ। এ কারণে দলীয় কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে দু-পক্ষের নেতা-কর্মীরা সংঘর্ষে জড়াচ্ছেন। পাশাপাশি বিগত উপজেলা নির্বাচনের সময় জামায়াতের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হওয়ায় ১৮ দলীয় জোটের কর্মসূচিতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনও হচ্ছে না।
উপজেলা বিএনপির এক পক্ষের নেতৃত্বে আছেন আবু সেলিম চৌধুরী , অন্য পক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আসহাব উদ্দীন চৌধুরী। দুইজনই নিজেদের উপজেলা বিএনপির বৈধ প্রতিনিধি দাবি করছেন। উপজেলা বিএনপির (একাংশের) আহ্বায়ক আবু সেলিম চৌধুরীর দাবি, তাঁর পেছনে দক্ষিণ জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক নাজমুন মোস্তফা ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গাজী শাহজাহানের সমর্থন রয়েছে। অপরদিকে উপজেলা বিএনপির (একাংশ) সভাপতি আসহাব উদ্দীন দাবি করেন, তাঁর নেতৃত্বাধীন কমিটির পেছনে কেন্দ্র ও জেলা বিএনপির সভাপতি জাফরুল ইসলামের সমর্থন রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০০৯ সালের ৭ নভেম্বর উপজেলা বিএনপির সন্মেলনকে কেন্দ্র করে কোন্দলের সূত্রপাত। ওই সম্মেলনে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাফরুল ইসলাম আসহাব উদ্দীন চৌধুরীকে সভাপতি এবং ছলিম চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। ক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা তখন গঠন করেন আরেকটি আহ্বায়ক কমিটি।
এ ব্যাপারে লোহাগাড়া উপজেলা বিএনপির (একাংশ) সভাপতি আসহাব উদ্দিন চৌধুরী প্রথম আলোকে অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাদের কমিটিই কেন্দ্রের অনুমোদনপ্রাপ্ত। দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গাজী শাহজাহান কোনো ধরনের কমিটির অনুমোদন দিতে পারেন না। ’ এ ব্যাপারে নাজমুন মোস্তফা জানান, উপজেলা বিএনপির ত্যাগী ও আন্তরিক নেতা-কর্মীদের বাদ দিয়ে কমিটি গঠন করায় আমরা তার প্রতিবাদ করছি।
বিগত কয়েক বছরে এই দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে অনেক কর্মসূচি পণ্ড হয়েছে। ২০১২ সালে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের জন্য এক পক্ষ উদ্যোগ নিলে অপর পক্ষ একই স্থানে পাল্টা সমাবেশ ডাকে। স্থানীয় প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা অবনতির আশঙ্কায় সমাবেশস্থলে ১৪৪ ধারা জারি করেন।
দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি সাংসদ জাফরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আসহাব উদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত কমিটিই বৈধ। নাজমুন মোস্তফাকে দল থেকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে জানি।’
জামায়াতের সঙ্গে বিরোধ: উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিএনপি প্রার্থীকে জামায়াত সমর্থন দেয়নি বলে অভিযোগ উপজেলা বিএনপির (একাংশের) সভাপতি আসহাব উদ্দীনের। তাঁর অভিযোগ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নির্বাচনী ব্যয়ের টাকাও আত্মসাৎ করেছে স্থানীয় জামায়াতের নেতারা। অনেক কেন্দ্রে তাঁদের কোনো কর্মী বা এজেন্ট ছিল না। এ ব্যাপারে টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য জামায়াত নেতৃবৃন্দকে একাধিকবার মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া ছাত্রশিবিরের কর্মীরাও ছাত্রদলের কর্মীদের ওপর হামলা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। গত বছর স্থানীয় কলেজে ছাত্রদলের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে ছাত্রশিবিরের হঠাৎ হামলায় অনেক ছাত্রদল কর্মী আহত হন। তিনি বলেন, ‘সংসদ নির্বাচনে আমরা জামায়াতকে সমর্থন দেওয়ায় তাদের প্রার্থী জিতেছে। কিন্তু জামায়াত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপিকে সমর্থন করেনি। আগামী সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী দিলে বিপুল ভোটে জয়লাভ করবে।’
লোহাগাড়া উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা নুরুল হোসাইন বলেন, ‘বিএনপি নেতা আসহাব উদ্দিনের কাছ থেকে নির্বাচনী ব্যয় হিসেবে ৪৭ লাখ টাকা নিয়েছি এবং ভোট শেষে আড়াই লাখ টাকা ফেরত দিয়েছি। সব হিসাব আমাদের অফিসে আছে। আত্মসাতের প্রশ্নই আসে না।’ তিনি আরও বলেন, এটা জামায়াতের আসন। এখানে বিএনপি প্রার্থী দিলে জামায়াত একাই নির্বাচন করবে।
পাঠকের মন্তব্য
- আপনার মতামত দিন






