শিরোনাম:

সবুজ পাহাড়ে লাল স্ট্রবেরির শোভা

নীরব চৌধুরী, খাগড়াছড়ি | তারিখ: ২৭-০১-২০১৩

  • ০ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার মাইসছড়ি ক্যায়ংঘাট ইউনিয়নের বাসিন্দা বিমল ব্রত চাকমা ৫০ শতংাশ জমিতে স্ট্রবেরির চাষ করেছেন। পেশায় স্কুলশিক্ষক বিমলের কাণ্ড দেখে অনেকেই বলেছিলেন পাগলামি। কিন্তু বিমল তাতে দমে যাননি। বাগানের পেছনে লেগেছিলেন সারা বছর। এখন তাঁর বাগানের সাড়ে পাঁচ হাজার গাছের অধিকাংশেই ধরেছে নজরকাড়া গাঢ় লাল স্ট্রবেরি ফল।
বর্তমানে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাঙামাটিসহ সারা দেশে তাঁর বাগানের স্ট্রবেরি ফল যাচ্ছে বিক্রির জন্য। সম্প্রতি বিমল ব্রত চাকমার বাগানে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি গাছে দুই থেকে তিনটি করে লাল রঙের ফল এসেছে। আঘাত না লাগার জন্য গাছের চারদিকে খড় বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিমল ব্রত চাকমা বলেন, ‘ভোর সাড়ে চারটায় ঘুম থেকে উঠে বাগানে কাজ শুরু করি। সকাল সাড়ে আটটায় তিনজন শ্রমিককে কাজে লাগিয়ে দিয়ে বিদ্যালয়ে যাই। এরপর চারটায় বিদ্যালয় ছুটির পর বাগানে এসে আবার কাজে লেগে পড়ি। এভাবেই দুই বছর ধরে বাগানের পেছনে শ্রম দিচ্ছি। এখন বাগানে ফল আসায় মনে হচ্ছে পরিশ্রম সার্থক হয়েছে।
বিমল জানান, এখন পর্যন্ত বাগানের পেছনে দুই লাখ টাকা খরচ হয়েছে তাঁর।
এ মৌসুমে ফল বিক্রি করে আট থেকে ১০ লাখ টাকা আয় হবে বলে আশা করছেন। তাঁর গাছের একেকটি ফলের ওজন ৪০ গ্রামের মতো। একটি গাছে ২০ থেকে ২৫টি পর্যন্ত ফল আসে। আশা করছেন, এ মৌসুমে দুই হাজার কেজি ফল পাওয়া যাবে। তিনি বলেন, বাজারে প্রতিকেজি স্ট্রবেরি ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ফল পাকার পর চার-পাঁচ দিনের বেশি রাখা যায় না। সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় ফল দ্রুত পচে যায়। বিমল জানান, সরকারের সহায়তা পেলে স্ট্রবেরি বিদেশেও রপ্তানি করতে পারবেন।
বিমল চাকমার বাগান থেকে চারা নিয়ে মানিকছড়ির মুখ পচাই কারবারিপাড়া এলাকায় স্ট্রবেরির বাগান করেছেন থই লামাই মারমা। তিনি বলেন, ‘বিমল ব্রত চাকমার বাগান থেকে ৫০০ চারা কিনে জমিতে লাগিয়েছি। এখন তিন ভাগের দুই ভাগ গাছেই ফল এসেছে। তবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা ও প্রক্রিয়াজাতকরণের ব্যবস্থা না থাকায় চাষিরা আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।’
খাগড়াছড়ি পাহাড়ি কৃষি গবেষণাকেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আবদুর রউফ বলেন, খাগড়াছড়ির মাটি ও জলবায়ু স্ট্রবেরি চাষের উপযোগী। চাষিদের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদের প্রশিক্ষণ দিলে এ অঞ্চলে স্ট্রবেরি লাভজনক কৃষিপণ্য হয়ে উঠতে পারে।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।
আপনার মতামত দিন