ফেনী ব্যায়ামাগার

নির্মাণের পর থেকে পরিত্যক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফেনী | তারিখ: ২৭-০১-২০১৩

  • ০ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

নির্মাণের পর থেকেই পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে ফেনী জেলা ব্যায়ামাগার। ২০০৬ সালের ৮ আগস্ট উদ্বোধনের পর ২০১২ সালে জেলা ক্রীড়া সংস্থার একটি সাধারণ সভা ও ইফতার পার্টি ছাড়া আর কোনো কার্যক্রম সেখানে দেখা যায়নি। এরই মধ্যে ব্যায়ামাগারের মেঝের চার পাশে মাটি দেবে গেছে এবং শৌচাগারের দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। শরীরচর্চার মূল্যবান সরঞ্জামগুলো অযত্নে পড়ে রয়েছে। বেশ কিছু সরঞ্জাম নষ্ট হয়ে গেছে।
জেলা ক্রীড়া সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, ব্যায়ামাগারটির জন্য ২০০৩ সালে ফেনী পৌরসভার উত্তর শিবপুর গ্রামে ফেনী-কুমিল্লা সড়কের পাশে এক একর জমি হুকুম দখল করা হয়। দরপত্র আহ্বান ও কার্যাদেশের পর ২০০৫ সালের ২২ মার্চ ফেনী-২ আসনের সাংসদ জয়নাল আবদীন (ভিপি জয়নাল) ব্যায়ামাগারটির ভিত্তিপ্রস্তর উন্মোচন করেন। এক কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণকাজ শেষে ২০০৬ সালের ৮ আগস্ট এটির উদ্বোধনও করেন তিনি। পরে (কখন) ব্যায়ামাগারটির ‘জেলা জিমনেশিয়াম’ নাম পরিবর্তন করে ‘খায়রুল আনোয়ার পেয়ারু জিমনেশিয়াম’ রাখা হয়। খায়রুল আনোয়ার ছিলেন ফেনীর প্রয়াত ক্রীড়া সংগঠক।
সরেজমিনে দেখা যায়, ১৫০ ফুট দৈর্ঘ্য, ১০৫ ফুট প্রস্থ এবং প্রায় ৪৫ ফুট উঁচু ব্যায়ামাগার ভবনের ভেতরে একটি অভ্যন্তরীণ স্টেডিয়ামসহ বেশ কয়েকটি কক্ষ রয়েছে। কক্ষগুলোতে শরীরচর্চার বিভিন্ন সরঞ্জাম পড়ে আছে অযত্ন-অবহেলায়। এর মধ্যে লাইফ চেঞ্জিং মেশিন এবং মাল্টিজিম নষ্ট হয়ে গেছে। ভার উত্তোলন সামগ্রী এবং টেবিল টেনিস বোর্ড পড়ে আছে প্যাকেটবন্দী অবস্থায়। অব্যবহূত থাকায় ধুলাবালি জমে আছে পেরালাল বার, হরাইজেন্টাল বার, ব্যাডমিন্টন কোট ইত্যাদি। নিয়মিত পরিষ্কার না করায় কক্ষগুলোর বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে আছে কবুতর ও অন্যান্য পাখির বিষ্ঠা।
প্রতিষ্ঠার সাত বছর ধরে ব্যায়ামাগারের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মো. মোস্তফা। তিনি জানান, দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকার পর গত বছর ফেনী জেলা ক্রীড়া সংস্থার একটি সাধারণ সভা ও গত রমজানে সংস্থার ইফতার পার্টি এখানে অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণে ব্যায়ামাগারটিতে কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে।
এটি ব্যবহার-উপযোগী করতে হলে কিছু সংস্কারকাজ জরুরি ভিত্তিতে করতে হবে। খেলাধুলা এবং শরীরচর্চার কিছু সরঞ্জামও নতুন করে আনতে হবে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।’ আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে ফেনীতে অনুষ্ঠিতব্য ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতা এ ব্যায়ামাগারে অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।
আপনার মতামত দিন