শিরোনাম:

বনের পাশে ইটভাটা

গিয়াস উদ্দিন, টেকনাফ | তারিখ: ২৭-০১-২০১৩

  • ০ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

একপাশে সংরক্ষিত বনাঞ্চল, অন্যপাশে জনবসতি। মাঝখানে বিরতিহীনভাবে কাঠ পুড়ছে নয়টি ইটভাটায়।
কক্সবাজারের টেকনাফে এই ইটভাটাগুলো বনের পরিবেশকে যেমন ধ্বংস করছে, তেমনি জনজীবনকে করছে বিপর্যস্ত।
১৯৮৯ সালের ইট পোড়ানো নিয়ন্ত্রণ আইন (সংশোধিত ২০০১) অনুযায়ী, সংরক্ষিত বনের তিন কিলোমিটারের মধ্যে ভাটা নির্মাণ এবং ইট পোড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হলেও সংশ্লিষ্ট এই ভাটাগুলো বনের আধা কিলোমিটারের মধ্যেই অবস্থিত। এসব ইটভাটার কোনো অনুমোদনও নেই।
অনুমোদনবিহীন ইটভাটাগুলো হলো: মেসার্স এআরবি ব্রিকস, মেসার্স জিয়াউর রহমান ব্রিকস, মেসার্স এমএইচবি ব্রিকস, মেসার্স থ্রি স্টার ব্রিকস, মেসার্স ইবিসি ব্রিকস, মেসার্স এনবিসি ব্রিকস, মেসার্স এ আর বি ব্রিকস, মেসার্স ভাই ভাই ব্রিকস, মেসার্স এ আর ব্রিকস।
সরেজমিনে দেখা যায়, টেকনাফের নয়টি ইটভাটার অবস্থান সংরক্ষিত বনাঞ্চলের আধা কিলোমিটারের মধ্যে। উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের মোচনী, লেদা ও হোয়াইক্যং ইউনিয়নের দৈঘ্যাকাটা, লম্বাঘোনা এলাকার ইটভাটাগুলোতে ১২০ ফুট উচ্চতার স্থায়ী চিমনি নির্মাণ করা হলেও ইট পোড়ানোর কাজে বনের ছোট ছোট আকাশমণি, গজারি ও শিমুলসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব ভাটার সামনে নামেমাত্র কিছু পরিমাণের কয়লা দেখা গেলেও ইট পোড়ানোর কাজে ব্যবহূত হচ্ছে না। কাঠ পোড়ানোর কারণে চিমনি দিয়ে বের হয় ঘন মেঘের মতো কালো ধোঁয়া। ফলে বনের গাছপালা ও গ্রামের গাছপালা ক্রমেই বিবর্ণ হচ্ছে। ভাটায় অবাধে কাঠ ব্যবহার করায় উজাড় হচ্ছে পাহাড়ের বৃক্ষসম্পদ। এদিকে ইট পোড়ানোর কারণে পাশের গ্রামের লোকজন নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
মোচনীর গ্রামের বাসিন্দা আবদুল করিম ও দৈগ্যাকাটার নুরুল হোসাইন বলেন, ইটভাটার মালিকেরা প্রভাবশালী। প্রতিবাদ করার পরও কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। সরকার কাঠ পোড়ানোতে কড়াকড়ি আরোপ করায় ভাটার মালিকেরা এখন আর ভাটায় কাঠ না রেখে দূরে সুবিধামতো স্থানে মজুত করছেন এবং রাতের আঁধারে কাঠ ভাটায় এনে জ্বালাচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আবদুল লতিফ বলেন, প্রতিটি ভাটা প্রায় আট থেকে ১০ একর করে প্রায় ৯০ একর করে আবাদি জমি দখল করে রেখেছে।
তিনি আরও বলেন, ধোঁয়ার কারণে অনেক গাছে এখন ফুল ও ফল আসছে না। জমিতে তরিতরকারি, তরমুজ, মরিচ ও ধানের উৎপাদন কমে যাচ্ছে।
প্রতিবছর ফসলি জমি ও আশপাশের এলাকা থেকে মাটি কেটে ইট তৈরির কারণে ফসলি জমির উর্বরতা হ্রাস পাচ্ছে।
বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মীর আহমদ জানান, বনাঞ্চলে ইটভাটাগুলো সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূতভাবে চলছে। এগুলো উচ্ছেদে জেলা প্রশাসন ব্যবস্থা নিতে পারে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজারের সহকারী পরিচালক সরদার শরিফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ২০০১-০২ সালে নিসর্গ সহায়তা প্রকল্প ভাটা মালিকদের নোটিশ করলে ২০০৫ সালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উচ্ছেদকাজে বাধা প্রদান করতে উচ্চ আদালত (হাইকোর্ট) রিট আপিল করে। এর পর থেকে এ ইটভাটাগুলো অনুমোদনবিহীনভাবে চলছে।
নয়াপাড়া রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের ক্যাম্পের ইনচার্জ কামরুজ্জামান বলেন, আশপাশের এলাকায় ২৫ হাজারের বেশি মানুষ বসবাস করছেন। ভাটার ধুলাবালু পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত করে তুলেছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট লোকজন ফ্লুসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছেন।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।
আপনার মতামত দিন