কর্ম ও প্রতিষ্ঠানের মাঝে বেঁচে থাকবেন তিনি
জাতীয় অধ্যাপক নুরুল ইসলামের প্রয়াণ
খ্যাতনামা চিকিৎসক অধ্যাপক নুরুল ইসলামের মৃত্যু আমাদের জন্য যেমন শোকাবহ, তেমনি দেশের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। ৮৫ বছরের জীবনের অধিকাংশ সময় তিনি ব্যয় করেছেন এই দেশের মানুষের চিকিৎসাসেবায়। আপন কর্ম ও সাধনাবলে তিনি জাতীয় অধ্যাপকের মর্যাদায় ভূষিত হয়েছেন, পেয়েছেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অনেক পুরস্কার ও পদক। তাঁর পেশাগত জীবনের অনন্য সাক্ষ্য হয়ে আছে ইনস্টিটিউিট অব পোস্ট গ্র্যাজুয়েট মেডিসিন (আইপিজিএম)। তিনি এই ইনস্টিটিউটকে প্রায় শূন্য অবস্থা থেকে আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিমান চিকিৎসাসেবা ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানে রূপ দিয়েছেন।
জাতীয় অধ্যাপক নুরুল ইসলামের আরেকটি স্মরণীয় কাজ ১৯৮২ সালের জাতীয় ঔষধ নীতি প্রণয়ন। বাংলাদেশের ওষুধশিল্প যে স্বাবলম্বী হয়েছে এবং আমাদের ওষুধসামগ্রী বহির্বিশ্বে দ্রুত বাজার দখল করতে পেরেছে, তার পেছনে ১৯৮২ সালের গণমুখী ঔষধ নীতির অবদান কম নয়। অধ্যাপক ইসলামের জন্ম ১৯২৮ সালে। ১৯৫২ সালে পিএসসির মাধ্যমে ঢাকা মেডিকেল কলেজে বক্ষব্যাধি বিভাগে যোগদানের পর তিনি আর পেছন ফিরে তাকানটি। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে তিনিই ছিলেন একমাত্র এমআর সিপি টিডিডি। পাকিস্তান থেকে প্রথম নাফিল্ড স্কলারশিপ পাওয়ার গৌরবও তাঁর। ১৯৬৫ সালে তাঁকে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউটের যুগ্ম পরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়া হলেও তিনি এর সঙ্গে অধ্যাপনার বিষয়টিও যুক্ত করে নেন। এর মাধ্যমেই চিকিৎসাবিজ্ঞান পড়ানোর প্রতি তাঁর আগ্রহের বিষয়টি স্পষ্ট। ১৯৮৭ সালে এই প্রতিষ্ঠান থেকে অবসর নেওয়ার পর অধ্যাপক নুরুল ইসলাম নিজেকে সমাজসেবা ও জনগণকে উদ্বুদ্ধকরণের কাজে নিয়োজিত করেন। তিনি আধূনিক (আমরা ধূমপান নিবারণ করি) নামে একটি সংগঠন গড়ে তুলে ধূমপানের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী গণসচেতনতা তৈরি করেছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (ইউএসটিসি)ও দেশের শিক্ষার প্রসারে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে।
অধ্যাপক নুরুল ইসলাম দেশের স্বাস্থ্যসেবা ও ওষুধশিল্পের বিকাশে যে অসামান্য অবদান রেখেছেন, তা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর সাধনা বর্তমান ও ভবিষ্যতের চিকিৎসকদের অনুপ্রেরণা জোগাবে। আপন কর্ম ও প্রতিষ্ঠানের মাঝে বেঁচে থাকবেন তিনি।
পাঠকের মন্তব্য
- আপনার মতামত দিন






