শিরোনাম:

২১ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার জের

মিসরে সহিংসতায় নিহত ৩০

| তারিখ: ২৭-০১-২০১৩

  • ০ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

মিসরে গত বছর ফুটবল স্টেডিয়ামে সহিংসতার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অপরাধে ২১ জনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার পর নতুন করে মিসরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। গতকাল শনিবার শুধু পোর্ট সৈয়দে ৩০ জন নিহত হয়েছে।
এর আগে গত শুক্রবার মিসরে হোসনি মোবারকের পতনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরকার-সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এসব ঘটনায় গুলিতে অন্তত নয়জন নিহত হয়।
গত বছরের ১ ফেব্রুয়ারি পোর্ট সৈয়দ শহরের একটি ফুটবল স্টেডিয়ামে কায়রোর আল-আহলি ও স্থানীয় আল-মাসরি ক্লাবের মধ্যে খেলার সময় সহিংসতায় ৭৪ জন নিহত হন। ওই ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়ায় মিসরে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতার তীব্রতা কমে আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
এর আগে ফুটবল-ভক্ত ও স্টেডিয়ামে সহিংসতায় নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা দায়ী ব্যক্তিদের উপযুক্ত শাস্তি না হলে কঠোর আন্দোলনে নামার হুমকি দিয়েছিলেন। তাঁদের অনেকেই দায়ী ব্যক্তিদের মৃত্যুদণ্ড দাবি করেন।
ফুটবল মাঠের সহিংসতার ঘটনায় ৭৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। তাঁদের মধ্যে বিচারক সোবহি আবদেল মাগুইদ ২১ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। অভিযুক্ত অন্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আগামী ৯ মার্চ রায় ঘোষণা করা হবে।
এদিকে গত শুক্রবার মোবারকের পতনের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে সরকারবিরোধীরা বর্তমান প্রেসিডেন্ট মুরসির পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী কায়রোসহ আলেকজান্দ্রিয়া, সুয়েজ ও পোর্ট সৈয়দে বিক্ষোভ শুরু করেন। দিনটি উপলক্ষে মুরসির সমর্থকেরাও বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে রাস্তায় নেমে এলে দুই পক্ষের মধ্যে সহিংসতা শুরু হয়।
সরকারবিরোধীদের অভিযোগ, মুরসি দুই বছর আগের সেই বিপ্লবের চেতনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। যদিও মুরসি ও তাঁর সমর্থকেরা এই অভিযোগ বারবার নাকচ করে আসছেন।
গত দুই দিনের সহিংসতায় গুলিতে সুয়েজে একজন পুলিশ সদস্যসহ আটজন নিহত হন। অন্যজন নিহত হন ইসমাইলিয়া এলাকায়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও নিরাপত্তা বাহিনী সূত্র জানায়, সেনাসদস্যরা সুয়েজের রাস্তায় সাঁজোয়া যান নিয়ে টহল দিচ্ছেন। সরকারি কার্যালয় ও ভবনসংলগ্ন চত্বরগুলোতে সেনাসদস্যদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। ইসমাইলিয়ায় ক্ষমতাসীন দল ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস পার্টির কার্যালয়ে আগুন দিয়েছেন সরকারবিরোধীরা। পোর্ট সৈয়দে দুটি সরকারি ভবনে আগুন দিয়েছেন তাঁরা। কায়রোয় তাহরির স্কয়ার ও প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসের আশপাশের এলাকায় পুলিশের সঙ্গে সরকারবিরোধীদের সংঘর্ষ হয়। মিসরের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দেশের ২৭টি প্রদেশের মধ্যে ১২টিতে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব সহিংসতায় ৪৫৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৯৫ জন পুলিশ সদস্য।
এদিকে মুরসি এক বিবৃতিতে সহিংসতা থেকে বিরত থাকতে বিরোধীদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি সহিংসতা সৃষ্টিকারীদের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, সহিংসতায় জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় এনে বিচার করা হবে। রয়টার্স, এএফপি ও বিবিসি।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।
আপনার মতামত দিন