মেধাবী মুখ

সব বিষয়ে শূন্য!

আনিকা প্রতীতি | তারিখ: ২৭-০১-২০১৩

  • ১৫ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook
সাদিয়া শারমীন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিনস এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড পেলেন বিভাগ ও অনুষদে প্রথম হ

সাদিয়া শারমীন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিনস এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড পেলেন বিভাগ ও অনুষদে প্রথম হয়ে

‘তখন দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ি। ফাইনাল পরীক্ষার ফল বেরিয়েছে। ফলাফল পৌঁছাল মায়ের হাতে। এ কী! মায়ের চোখে পানি যে! তবে আমি কি পাসই করতে পারিনি? রিপোর্ট কার্ডে একনজর চোখ বুলিয়ে দেখি, সব বিষয়ে দুটি করে শূন্য! ভালো করে তাকিয়ে দেখি, না, শূন্যের বাঁ পাশে রয়েছে এক। সব বিষয়ে ১০০ নম্বর পেয়ে প্রথম হয়েছিলাম সেবার!’ জীবনের সব পরীক্ষায় প্রথম স্থানের অধিকারী সাদিয়া শারমীন এভাবেই বলেন তাঁর সাফল্যের শুরুর কথা।
সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন এবং কেমিকৌশল বিভাগে সম্মান পরীক্ষায় প্রথম হয়ে সাফল্যের পাল্লা আরও ভারী করলেন তিনি। সেই সঙ্গে ‘সেরাদের সেরা’ ফলাফলের পুরস্কারস্বরূপ অর্জন করলেন ডিনস এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড।
ব্যবসায়ী বাবা ও গৃহিণী মায়ের দুই সন্তানের মধ্যে সাদিয়া ছোট। তাঁর দাদা ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়নের ছাত্র। জয়দেবপুর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক ও চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিকে সাদিয়া রেখেছেন কৃতিত্বের স্বাক্ষর। অষ্টম শ্রেণীর বৃত্তি পরীক্ষায় তিনি মেয়েদের মধ্যে হয়েছিলেন প্রথম।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এত মেধাবীর প্রতিযোগিতার দৌড়ে সিজিপিএ ৪.০০-এর মধ্যে ৩.৯১ অর্জন করা মোটেই মুখের কথা নয়। প্রতিদিন কত ঘণ্টা পড়েছেন, পড়াশোনার ধরন কেমন ছিল—এসব জানতে চাইলে তিনি হেসে বলেন, ‘পরীক্ষার আগেই মূলত বেশি পড়া হয়। ঘণ্টা-মিনিট ওভাবে হিসাব করা হয় না। আর বছরের বাকি সময়গুলোয় আড্ডা আর টো টো করে ঘোরাই আমার কাছে মুখ্য হয়ে ওঠে! তবে নিয়মিত ক্লাস লেকচার অনুসরণ করা আর বন্ধুদের সঙ্গে বসে দলীয়ভাবে পড়াশোনা করার কারণেই আমার এ অর্জন’, বন্ধুদের অবদানও অকুণ্ঠচিত্তে স্মরণ করেন তিনি।
বন্ধুদের প্রতি সাদিয়াও কম দিলদরদি নন। বাক্পটু আর সদা হাস্যোজ্জ্বল সাদিয়া ক্লাস করতেন খুব মন দিয়ে। শিক্ষকদের লেকচার খাতায় তুলে ফেলতে পারতেন সহজেই। আর তাঁর খাতা ফটোকপি করে নিত সবাই। ‘বন্ধুরাই আমার সবচেয়ে বড় শুভাকাঙ্ক্ষী’, বলেন তিনি। তাঁর ভালো করার পেছনে আরও ছিল শিক্ষকদের উৎসাহ।
উপস্থাপনা আর বিতর্কে পারদর্শী সাদিয়া ভালোবাসেন বই পড়তে। বাসাভর্তি তাঁর বই আর পুরস্কারের সমাহার। ভালোবাসেন বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে আর ঘুরে বেড়াতে।
অবহেলিত হিজড়া সম্প্রদায় ও ছিন্নমূল শিশুদের কল্যাণে কাজ করার ইচ্ছা আছে তাঁর। ইচ্ছা আছে গ্রামে একটি বিজ্ঞান স্কুল খোলার, যেখানে শিশুদের ছোটবেলা থেকেই শেখানো হবে রসায়নের প্রাথমিক পাঠ।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।

Mosharraf Hossain

Mosharraf Hossain

২০১৩.০১.২৭ ০৪:৫৫
Congratulations. You are the "model" of our next generation. Wish you all the best.

Benoy

Benoy

২০১৩.০১.২৭ ০৮:১২
জয়দেবপুর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কোন জেলা উৎলেখ করা দরকার ছিল । কারন গাজীপুর এ জয়দেব পুর আছে .তবে জয়দেবপুর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় নয় রাণী বিলাশ মণি সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়.সাদিয়া শারমীন অনেক অনেক শূভ কামনা রইল.

A.K.M.Mukhlesur Rahman

A.K.M.Mukhlesur Rahman

২০১৩.০১.২৭ ০৯:২২
Congratulations for your brillient success and wish you for ever memorial result in every step of life. I have already printout the news to show my daughter . She is now in class two. Pray for her !!

Mohammad Shah Alam

Mohammad Shah Alam

২০১৩.০১.২৭ ১০:০৬
অকুন্ঠহৃদয়ে অবিবাদন জানাই অাপনাকে। সাফল্যের অারও অনেক ফোয়ার ছুটুক অাপনার তরে। অার হ্যা অাপনার ইচ্ছাগুলো যেন সত্যি করার চেষ্টা করবেন । কারন অামরা যত পরিপূর্ণ হই তত অামাদের ইচ্ছা গুলো ফিকে হতে হতে হৃদয়ের দৃশ্যপট থেকে হাড়িয়ে যায় ! অাপনার যেন তা না হয় দোয়া করি ।

২০১৩.০১.২৭ ১০:০৮
There is no alternative like education. Congratulations for the achievement and young should follow/allow her effectiveness. Many thanks to Prothom Alo to cover such graceful news.

ABDULLAH AL MAMUN

ABDULLAH AL MAMUN

২০১৩.০১.২৭ ১০:১৭
Congratulations!

riaz

riaz

২০১৩.০১.২৭ ১০:২৫
সািদয়া বাংলােদশের জন্য েতামােক খুব প্রয়োজন। বাংলােদশেই েথকো।
েতামার জন্য শুভকামনা।

২০১৩.০১.২৭ ১২:০৯
তুমি কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করেছ। এখন সময় এসেছে এই দেশকে দূর্নীতিমুক্ত "সোনার বাংলায়" রূপান্তর করা। রাষ্ট্রের সর্বস্তরে তোমার মত যোগ্য ও মেধাবী ব্যাক্তির প্রয়োজন। সেকেলে তথা দূর্নীতিবাজ প্রজন্মের বিদায়লগ্নে নতুন সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্য নিয়ে তোমার মত মেধাবী ও কর্মঠ প্রজন্মই পারে দেশকে বিশ্বের দরবারে নতুন করে চিনাতে। যাতে বিশ্বের পরাশক্তিরাও বাংলাদেশ নামটি শুনলেই সমীহ করতে পারে। তোমার উচিত হবে সেই লক্ষ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে মেধাবী বন্ধু ও সহপাঠিদের মধ্যে জাগরন তৈরী করা। এই দেশ এখনো তোমাদের জন্য পথ চেয়ে বসে আছে তোমাদের আগমনের অপেক্ষায়। কবে তোমরা আসবে রাষ্ট্রযন্ত্রের কান্ডারী হাতে নিয়ে দেশকে নিয়ে যাবে প্রকৃত স্বাধীন মন্চে। তোমরা দেশের প্রতিটি কোণে কোণে ছড়িয়ে দাও মানবতার সুবাতাস এবং দূর্নীতিমুক্ত সমাজ ব্যবস্থা। তোমরা কখনোই মনে করবেনা যে তোমরা একা। তোমাদের সাথে এই বাংলার সর্বস্তরের শান্তিপ্রিয় মানুষ রয়েছে এবং সবসময় থাকবে।

Md. Abdul Awal Mirza

Md. Abdul Awal Mirza

২০১৩.০১.২৭ ১২:৪৩
প্রতিশ্রুতি রক্ষা করাতেও যেন সেরাদের সেরা হন। সেই শুভ কামনা রইল।

M A Ghani Sarker

M A Ghani Sarker

২০১৩.০১.২৭ ১৩:২৭
শুভ কামনা...

Syed Md. Kamruzzaman

Syed Md. Kamruzzaman

২০১৩.০১.২৭ ১৩:৩৬
@riaz, বাংলাদেশ কি তাকে রাখতে পারবে?

Enamul Haque

Enamul Haque

২০১৩.০১.২৭ ১৭:৩৩
Congratulations Sadia Sharmeen. We are proud of you. Really you did well. Keep it up. Cheers!!!

Titon

Titon

২০১৩.০১.২৭ ১৭:৩৮
সে মডেলিং এ ও ভাল করবে বলে আমার ধারনা ।

Ashraf

Ashraf

২০১৩.০১.২৭ ১৭:৪২
অভিনন্দন , এগিয়ে যাও...........শুভকামনা রইল

Shaidul Rekan

Shaidul Rekan

২০১৩.০১.২৭ ১৯:৩৩
Congratulation I wish you all the beat