এ কেমন বিদ্যালয়?

পলাশ বড়ুয়া, দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) | তারিখ: ২৭-০১-২০১৩

  • ০ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার কাঁঠালতলী আবাসিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুরা কারাগারের চেয়েও খারাপ পরিবেশে দিন কাটাচ্ছে। এটি উপজেলার একমাত্র আবাসিক প্রাথমিক বিদ্যালয়।
১৫ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলার কাঁঠালতলী আবাসিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরেজমিনে দেখা যায়, ক্লাস চলাকালে দুজন শিক্ষার্থী রান্নাঘরে পেঁয়াজ কাটায় ব্যস্ত। শিশুদের থাকার ঘরগুলো খুবই নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত।
বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী বিক্কা ত্রিপুরা, এতিম চাকমা, ঝর্ণা চাকমা, সাজেদুল ইসলাম এবং চতুর্থ শ্রেণীর অমল চাকমা, সৈকত চাকমা, মেন্টি চাকমা ও আল মনসুরসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, তারা খুব কষ্টের মধ্যে বসবাস করছে। তারা আরও বলে, সকাল সাতটায় যে নাশতা দেওয়া হয়, তাতে পেট ভরে না। বেলা একটায় ভাত দেওয়া হলেও তরকারি পরিমাণে এত কম দেওয়া হয় যে, শিক্ষার্থীদের প্রায়ই আধপেট খেয়ে থাকতে হয়। সন্ধ্যা ছয়টাতেই রাতের খাবার দিয়ে দেওয়া হয়। ফলে রাত বাড়লে তাদের খুব ক্ষুধা লাগে।
ওই শিশুরা আরও জানায়, রান্নাসহ সব কাজে তাদের সহযোগিতা করতে হয়। আগে বাবুর্চি মারধর করলেও কয়েক দিন ধরে আর শারীরিক নির্যাতন করছে না। গত দুই বছরে শিক্ষার্থীদের প্রত্যেককে একটি মাত্র শার্ট ও প্যান্ট দেওয়া হয়েছে। মাসে মাত্র ছোট একটি সাবান দেওয়া হয়। দাঁতের মাজন ও তেল দেওয়া হয় না।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক জগৎ ত্রিপুরা বলেন, মাসে ১৫ রিম কাগজের চাহিদা রয়েছে। সেখানে দেওয়া হয় মাত্র পাঁচ রিম, যা ১০০ জন শিক্ষার্থীর জন্য খুবই অপ্রতুল। মাসে শিক্ষার্থীপ্রতি একটি কলম দেওয়া হয়, যা এক সপ্তাহেই শেষ হয়ে যায়। কলমের অভাবে শিক্ষার্থীদের লেখা বন্ধ রাখতে হয়।
আবাসিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সরকারিভাবে কী কী সুবিধা পাবে, তা শিক্ষা কর্মকর্তা ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকও জানেন না।
প্রধান শিক্ষক রূপম কান্তি চাকমা বিদ্যালয়ের দুরবস্থার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও শিক্ষা কর্মকর্তা সরেজমিন তদন্ত করে বিদ্যালয়ের দুরবস্থার চিত্র উল্লেখ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠালেও কোনো উন্নয়ন হয়নি। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কী কী সুবিধা পাবে, তার কোনো তালিকাও আমাদের দেওয়া হয়নি।’
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ঝর্ণা চাকমা বলেন, ‘কাঁঠালতলী আবাসিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কী সুবিধা পাবে বা পাচ্ছে, তার কোনো তথ্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে দেওয়া হয়নি। বিদ্যালয়ের দুরবস্থার বিষয়টি তদন্ত করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদনও দেওয়া হয়েছে। সরাসরি কোনো বরাদ্দ না আসায় আমরা সমস্যার প্রতিবেদন দেওয়া ছাড়া আর কিছু করতে পারি না।’

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।
আপনার মতামত দিন