ফেব্রুয়ারিতে বড় কর্মসূচি নয়

শরিকদের কাছে নতুন কর্মসূচির প্রস্তাব চেয়েছে বিএনপি

সেলিম জাহিদ | তারিখ: ২৭-০১-২০১৩

  • ১৪ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

চলতি মাসের কর্মসূচি শেষ হওয়ায় আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণের ব্যাপারে জোটের শরিকদের কাছে প্রস্তাব চেয়েছে বিএনপি। তবে কর্মসূচির প্রস্তাব করার ক্ষেত্রে ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে অনুষ্ঠেয় মাধ্যমিক (এসএসসি) ও এপ্রিলে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার কথা বিবেচনায় রাখতে বলা হয়েছে বলে ১৮ দলীয় জোটের একাধিক শীর্ষস্থানীয় নেতা জানিয়েছেন।
জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি শরিক দলের চাপ থাকা সত্ত্বেও মাধ্যমিক পরীক্ষার কারণে আগামী মাসে রাজপথে লাগাতার বা মারদাঙ্গা কোনো কর্মসূচি না দেওয়ার কথা ভাবছে বিএনপি। বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের বেশির ভাগ নেতা মনে করছেন, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালে হরতালের মতো মারমুখী কর্মসূচি দিলে মানুষ বিএনপির প্রতি বিরক্ত হবে।
এ অবস্থায় মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শেষে টানা কর্মসূচি দেওয়া এবং জুন মাসের মধ্যে আন্দোলনকে চূড়ান্ত পরিণতির দিকে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে প্রধান বিরোধী দল। তবে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি আদায়ের চলমান আন্দোলনকে আরও গতি দিতে পরীক্ষার ফাঁকে ফাঁকে কিছু কর্মসূচি থাকবে। এর মধ্যে ঢাকার বাইরে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার একাধিক জনসভার আয়োজন করাসহ জামায়াতের মন রক্ষায় কিছু ‘গরম’ কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে বলে বিএনপির সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে।
আজ রোববার রাতে খালেদা জিয়ার গুলশানের কার্যালয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভা ডাকা হয়েছে। সভায় আন্দোলনের নতুন কর্মসূচিসহ সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে জানান দলের স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য। এরপর ১৮ দলীয় জোটের বৈঠক ডেকে কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হবে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১৮ দলীয় জোটের মহাসচিব পর্যায়ের বৈঠকে শরিক দলগুলোর নতুন কর্মসূচির প্রস্তাব চাওয়া হয়। জানতে চাইলে জোটের শরিক ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) মহাসচিব আলমগীর মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘জোটের মাসব্যাপী কর্মসূচি গতকাল শনিবার “গণতন্ত্র হত্যা” দিবসে বিক্ষোভ সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়েছে। নতুন কর্মসূচি কী দেওয়া যায়, সে ব্যাপারে সব শরিকের কাছে প্রস্তাব চাওয়া হয়েছে।’
অবশ্য ওই বৈঠকে জামায়াতের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। জানা গেছে, জামায়াতের পক্ষ থেকে পরীক্ষার ফাঁকে ফাঁকে ‘শক্ত কর্মসূচি’ দেওয়ার চাপ রয়েছে। জামায়াতের মতো একই অবস্থানে আরেক শরিক দল ইসলামী ঐক্যজোট। দলটির মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা মিঠা মিঠা কর্মসূচির পক্ষে না। বৈঠকে ইসলামী ঐক্যজোট কঠোর কর্মসূচির প্রস্তাব করবে।’
জানা গেছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে মার্চ মাসের মধ্যে আন্দোলনকে তুঙ্গে তোলার লক্ষ্যে একাধিক হরতাল এবং সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করাসহ পর পর বড় ধরনের কর্মসূচি দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল বিএনপির। কিন্তু এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার কারণে সে পরিকল্পনা হোঁচট খায়।
জানতে চাইলে বিএনপির সমন্বয়ক তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘নতুন কর্মসূচি দেওয়ার ক্ষেত্রে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার সূচি অনুসরণ করা হবে। পরীক্ষার সময় শুধু শুধু হরতাল দিয়ে আমরা কেন বিএনপির পক্ষে থাকা জনমত দূরে ঠেলে দেব।’
চলতি মাসে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে সারা দেশে এক দিনের হরতাল পালন করে ১৮ দলীয় জোট। এ ছাড়া নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে এবং সরকারের ‘দুর্নীতি ও দুঃশাসনের’ প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ, কালো পতাকা মিছিল, মানবপ্রাচীর, গণসংযোগ ও প্রচারপত্র বিলি এবং ‘গণতন্ত্র হত্যা’ দিবস পালনসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হয়।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।

Golam Wadud

Golam Wadud

২০১৩.০১.২৭ ০৮:১৮
মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শেষে টানা কর্মসূচি দেওয়া এবং জুন মাসের মধ্যে আন্দোলনকে চূড়ান্ত পরিণতির দিকে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে প্রধান বিরোধী দল। তবে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি আদায়ের চলমান আন্দোলনকে আরও গতি দিতে পরীক্ষার ফাঁকে ফাঁকে কিছু কর্মসূচি থাকবে। .......... ভাল সিদ্ধান্ত।
তবে মিঠ মিঠা কর্মসূচির সময় শেষ।
নির্বাচনকালে আমরা নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার চাই।

Mohammad Shah Alam

Mohammad Shah Alam

২০১৩.০১.২৭ ০৮:৩৪
অাপনাদের অান্দোলনের ধরন যথাযথ গ্রহনযোগ্য এবং সুন্দর,যেটা বিরোধী দলের কর্মসূচি হিসাবে জনমহল সহ সূধি মহলে প্রশংসিত হয়েছে। কিন্তু অাপনাদের এই সহনযোগ্য অান্দোলন সরকারের উপর কতটা চাপ সৃষ্টি করতে পেরেছে ?এটুও না ! সরকার অাপনাদের নিয়ে নিছক ছেলে খেলা করে যাচ্ছে !অাপনারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যপারে কঠোর অান্দোলনে নামুন ,মনে রাখবেন সোজা অাঙুলে ঘি উঠেনা !অাপনাদের মনে নেই অাওয়ামিলীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যপারে কী জাতীয় অান্দোলন দিয়েছিল !

Tajerul islam sadhin

Tajerul islam sadhin

২০১৩.০১.২৭ ০৮:৩৪
ওকি, যা গরম গরম কর্মসূচি ছিল তাতো মাধ্যমিক আর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্যে পিছিয়ে গেল। এ কথা একটু চিন্তা করুন, (কর্ম+সূচি=কর্মসূচি) । একি যেন তেন কথা।

shanto islam

shanto islam

২০১৩.০১.২৭ ০৮:৫৬
নির্বাচনকালে আমরা নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার চাই।

tuhin kabir

tuhin kabir

২০১৩.০১.২৭ ১০:৪০
আ:লিগ বি এন পির সময় কতদিন হরতাল অবরোধ করেছিল, আর বি এন পি কতদিন করছে এটা নিয়ে একটু চিন্তা করলে বুঝা যায় যে কারা দেশদরদি।

riaz

riaz

২০১৩.০১.২৭ ১০:৪১
মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার কথা িববেচনা করার জন্য িবএনপি েক ধন্যবাদ।

Sharif

Sharif

২০১৩.০১.২৭ ১১:০৯
যে দিন থেকে যুদ্বাপরাধির বিচারের রায় দেয়া শুরু হবে তখন থেকে আবার আন্দোলন শুরু করবেন । আপনাদের আন্দোলনের নমুনা দেখে তাই বুঝা যায় । কথা ছিল ১৬ ডিসম্বর রায় দেয়া হবে আর আপনারা মারমার কাটকাট শুরু করে দিলেন ।

Asma Binte Rafiq (From Oman)

Asma Binte Rafiq (From Oman)

২০১৩.০১.২৭ ১১:৩৬
১৮ দলীয় জোটের এখন উচিৎ রিজভী আহমেদ & মাহমুদুর রাহমানদের মত নিজ নিজ ঘরে বনদী কর্মসূচি দেওয়া !!!!!!!!!! এটা হলে আওয়ামিলীগের শেখ হাসিনার প্রদৎত শান্তির মডেল বাসতবায়ন হবে !!!!!!!!!!!!!!!!!!!!! দেশে শান্তির নহর বয়ে যাবে !!!!!!!!!! মিশন ২০২১ ......

২০১৩.০১.২৭ ১৩:২২
নির্বাচনকালে আমরা নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার চাই।
২০১৩.০১.২৭ ১৬:২৯
দয়া করে শরীক বাদ দিয়ে নিজের পায়ে দাড়ান তবে তাতে পঙ্গুত্ব দূর হবে।

Md.Ibrahim

Md.Ibrahim

২০১৩.০১.২৭ ১৬:৩৯
বিরোধীদলের আন্দোলন সঠিক পথেই এগুচ্ছে বর্তমানে দেশের মানুষ জ্বালাও পোড়াও আন্দোলন চায়না তারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চায়,
এই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির ফলে আগের যেকোন সময়ের চাইতে বর্তমানে বিএনপির জনপ্রিয়তা অনেক বেশি এবং তা আগামি নির্বাচনেই দেখা যাবে..সামনে পরিক্ষা এই মুহূর্তে কঠোর আন্দোলনে যাওয়া ঠিক হবেনা
২০১৩.০১.২৭ ১৭:০৪
বিএনপির কথাবার্তা(কর্মসূচী) দেখলে মনে হয় তারা একেবারে ফতুর হয়ে গেছে।
২০১৩.০১.২৭ ১৭:০৪
এখন তাদের কর্মসূচী ঠিক করবে শরীক দলের নেতারা।

Saikot Saha

Saikot Saha

২০১৩.০১.২৭ ১৮:০১
এর মধ্যে ঢাকার বাইরে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার একাধিক জনসভার আয়োজন করাসহ জামায়াতের মন রক্ষায় কিছু ‘গরম’ কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে বলে বিএনপির সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে। হ্যাঁ , জামায়াতের মন রক্ষা করুন , নইলে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি আদায়ের চলমান আন্দোলন আর কেও দেখতে পারবে না।