র‌্যাব পরিচয়ে জাসদ নেতাকে অপহরণ

কুষ্টিয়া অফিস ও খুলনা প্রতিনিধি | তারিখ: ২৭-০১-২০১৩

  • ১৩ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook
আলী মহব্বত

আলী মহব্বত

খুলনা সেনানিবাস-সংলগ্ন শহীদ ক্যাপ্টেন বাশার মার্কেটের সামনে থেকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার এক জাসদ নেতাকে র‌্যাব পরিচয়ে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার রাতে মোহামঞ্চদ আলী মহব্বত নামের এই নেতাকে অপহরণ করা হয়। এ ঘটনায় খুলনার খানজাহান আলী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও জিডি থেকে জানা যায়, শুক্রবার রাত সাড়ে আটটার দিকে বাশার মার্কেটের খান লাইব্রেরির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় মোহাম্মদ আলীকে অজ্ঞাতপরিচয় তিন ব্যক্তি টেনেহিঁচড়ে উত্তর দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে আলী (৪৫) পড়ে যান। পরে তাঁকে একটি মাইক্রোবাসে তোলার চেষ্টা করা হয়।
এ সময় স্থানীয় লোকজনের উদ্দেশে আলী চিৎকার করে বলতে থাকেন, ‘আপনারা আমারে বাঁচান, ওরা আমারে মেরে ফেলবে।’ তাঁর চিৎকার শুনে খান লাইব্রেরির মালিক হেলাল খানসহ তিন-চারজন এগিয়ে যান। আলীকে মাইক্রোবাসে তোলার কারণ জানতে চাইলে অপহরণকারীরা তাঁদের র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) সদস্য বলে পরিচয় দেন। এ সময় হেলাল ও তাঁর সঙ্গীরা র‌্যাবের পরিচয়পত্র দেখাতে বলেন। তখন মাইক্রোবাসের ভেতরে থাকা এক ব্যক্তি নিজেকে র‌্যাবের ক্যাপ্টেন মেহেদী পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘আপনারা সরে যান। আমাদের কাজ করতে দিন।’ ততক্ষণে ঘটনাস্থলে বেশ কয়েকজন জড়ো হয়। একপর্যায়ে অপহরণকারীরা হেলালকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন এবং স্থানীয় ফল ব্যবসায়ী নাসিরকে চড় মারেন। পরে গালিগালাজ করতে করতে আলীকে একটি রুপালি মাইক্রোবাসে (ঢাকা মেট্রো-৭৮০৯) তুলে নিয়ে যান।
প্রত্যক্ষদর্শী হেলাল গতকাল শনিবার প্রথম আলোকে জানান, ‘সন্ধ্যার আগে থেকে মাইক্রোবাসটি নিয়ে চালকসহ কমপক্ষে পাঁচজনের একটি দল বাশার মার্কেট এলাকায় ঘোরাফেরা করছিল। রাতে দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে চা খাওয়ার সময় দেখি, মাফলারে মুখ বাঁধা এক ব্যক্তিকে তিনজন মিলে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছেন। লোকটার চিৎকারে এগিয়ে গেলে আমাদের ধাক্কা দিয়ে তাঁরা তাঁকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যান। লোকটি তখন চিৎকার করে বলতে থাকেন, সেনানিবাসে কর্মরত সার্জেন্ট হাবিব আমার ভগ্নিপতি, ভাই আপনারা তাঁকে একটু খবর দেন।’
সার্জেন্ট হাবিবুর রহমান গতকাল বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। পরে পাশের খানজাহান আলী থানায় জিডি করি। আলীকে কারা ধরে নিয়ে গেছে, এ ব্যাপারে আমরা এখনো অন্ধকারে আছি।’
আলীর স্ত্রী ময়না খাতুন গতকাল দুপুরে কুষ্টিয়ায় স্থানীয় একটি পত্রিকার কার্যালয়ে সংবাদ সমেঞ্চলন করেন। তিনি বলেন, তাঁর স্বামী আলী জাসদের রাজনীতি করেন। তিনি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন। তিনি গরুর ব্যবসা করেন। আলীর বোনের স্বামী হাবিবুর রাত পৌনে নয়টার দিকে মুঠোফোনে আলীকে অপহরণের খবর দেন। তাঁর স্বামীকে র‌্যাব বা সন্ত্রাসী যে-ই অপহরণ করুক না কেন, তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) কুষ্টিয়া জেলা শাখার সভাপতি গোলাম মহসিন প্রথম আলোকে জানান, মোহামঞ্চদ আলী জাসদের কুমারখালী উপজেলা শাখার প্রচার সম্পাদক। তাঁর বাড়ি উপজেলার আদাবাড়িয়া গ্রামে।
ময়না খাতুন আরও বলেন, ১৭ জানুয়ারি বিকেল চারটার দিকে এলাকার বাঁশগ্রাম হাট থেকে র‌্যাব পরিচয়ে আলীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। ওই সময় কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালাতে সক্ষম হন তিনি। ওই দিনই তিনি এলাকা ছেড়ে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার এক আত্মীয়ের বাড়ি চলে যান। সেখান থেকে শুক্রবার ভগ্নিপতির বাসায় যাচ্ছিলেন।
খুলনায় র‌্যাব-৬-এর অপারেশন কর্মকর্তা সাজেদুর রহমান বলেন, ‘ওই সময় আমাদের কোনো অভিযান চলেনি, বা আমরা কাউকে আটক করিনি।’

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।
২০১৩.০১.২৭ ০৩:২৯
আমার ত্রিশ বছরের এই জীবনে দেশের আইন-শৃঙ্খলার এত অবনতি আমি কখনো প্রত্যক্ষ করিনি।জনাব আলী কি বেঁচে ফিরতে পারবেন সেটাই এখন প্রশ্ন? আমরা কি বর্তমানে পুরোপুরি অসহায় নই? চোখে গামাছা বেঁধে মানুষ মেরে মাঠে ঘাটে ফেলে রাখা হচ্ছে, র‍্যাব/ডিবি/গোয়েন্দা সংস্থার কথা বলে মানুষ তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কেউ মৃত অবস্থায় রাস্তায়-ঘাটে পড়ে থাকচ্ছেন, কারো খবর মিলছেনা...আদৈ বেঁচে আছেনতো ?!
২০১৩.০১.২৭ ০৬:৩৭
Circumstancial behaviour of operators indicate, it was genuine RAB.

ABDUL MAJID QUAZI

ABDUL MAJID QUAZI

২০১৩.০১.২৭ ০৮:৩৬
এর নামই বাংলাদেশের গনতন্ত্র । যে দল ক্ষমতায় থাকবে নানা পরিচয়ে বিরুধীদলের লোককে অফরন করে মেরে ফেলবে ।
২০১৩.০১.২৭ ০৯:৩১
কাউকে গ্রেফতার করার সময় সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ সাথে নিয়ে অথবা ধরার পর থানাকে অবহিত করে আসামি নিয়ে যাওয়ার আইন করলে মনে হয় ভাল হইবে তাহলে পাবলিক নিশ্চিত হতে পারবে এরা র্যাব সদস্য। এগুলো না মানলে পাবলিক বুঝবে এরা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর লোক নয়।
২০১৩.০১.২৭ ১০:০১
We can't trust RAB any more. Public awareness is important. If they want to kidnap any person, people around him should come forward to rescue that person and then it must be verified if those guys are really RAB or not.

Akas

Akas

২০১৩.০১.২৭ ১০:২৪
আমি যতদুর অনুধাবন করতে পারি, র‌্যাব পরিচয়ে আওয়মিলীগের লোকজন এসব কাজ করছে।

riaz

riaz

২০১৩.০১.২৭ ১০:৩৮
প্রায়ই পত্রিকায় এধরনের খবর েদখা যায়। তবে এ িনয়ে অাইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বািহনীর েকান উদ্ধেগ েনই। তবে িক তারা এর সােথ জড়িত? এ ধরনের ঘটনার জন্য অাইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বািহনীই দায়ী।

২০১৩.০১.২৭ ১১:২১
দাড়ি দেখে র‌্যাব আলী মহব্বতকে জামায়াত নেতা ভেবে ধরে নিয়ে গেছে, পরিচয় জানার পর ছেড়ে দিবে।

Titon

Titon

২০১৩.০১.২৭ ১৭:৩৩
৭২- ৭৫ এর সময়কার শাষন চোখে দেখিনি এখন দেখতেছি ।

Md Roushon Ahmed

Md Roushon Ahmed

২০১৩.০১.২৭ ১৯:১৮
আমি সরকারের কাছে হাত জুড়ে অনুরুদ জানাই এই বর্বরতা বন্ধ করুন। আমি জানি সরকার চাইলে তা পারবে।

Shaheen Parvez

Shaheen Parvez

২০১৩.০১.২৭ ১৯:২৮
এই ধরণের কাজ তো ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর হয়েছিল শুনেছি। তাহলে বর্তমান সরকার আঃলীগ কি ডিজিটাল রাজাকার??!!!!
২০১৩.০১.২৭ ২২:৪৫
If RAB is not involved with such hated act, even after so many incidents, why RAB is unable to arrest single culprit? This question in public mind day by day increasing.

nasir uddin

nasir uddin

২০১৩.০১.২৭ ২৩:২৭
এই ডিজিটালদের কবল থেকে জাতি মক্তি চায়।