শিরোনাম:

প্যাভিলিয়নের ছাদ ধসে বাণিজ্য মেলায় বিক্রয়কর্মী নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক | তারিখ: ২৭-০১-২০১৩

  • ১ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

বাণিজ্য মেলায় গতকাল শনিবার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্যাভিলিয়নের মালামালসহ ছাদ ধসে পড়ে রনি দাশ (২৪) নামের একজন খণ্ডকালীন বিক্রয়কর্মী মারা গেছেন। রনি তেজগাঁও কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জে।
একই ঘটনায় ওই প্যাভিলিয়নের আরও কয়েকজন কর্মী আহত হন। আহত ব্যক্তিদের বিভিন্ন হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
রনির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গতকাল বেলা সোয়া দুইটার দিকে পারটেক্স প্লাস্টিক লিমিটেডের অস্থায়ীভাবে স্থাপিত দুই তলার প্যাভিলিয়নের প্রথম তলার ছাদ হঠাৎ মালামালসহ ধসে পড়ে। এতে নিচতলায় কর্মরত ওই প্যাভিলিয়নের বেশ কয়েকজন কর্মী চাপা পড়েন। তখন কয়েকজন কর্মী নিজেদের উদ্ধার করতে পারলেও ভেতরে আটকা পড়েন রনি দাশ। বেশ কিছুক্ষণ পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাঁকে উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রনিকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার সময় নিচে অন্তত ৩০ জন কর্মী ও কয়েকজন দর্শনার্থী ছিলেন। তাঁদের কয়েকজনও আহত হন।
ঘটনায় আহত ওই স্টলের কর্মী রাকিবুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, তিনি ও রনি পাশাপাশি বসে কম্পিউটারে কাজ করছিলেন। হঠাৎ মাথার ওপর মালামালসহ ছাদ ধসে পড়ে। ওই অবস্থা থেকে নিজেকে কোনোমতে উদ্ধার করেন তিনি। কিন্তু ভেতরে আটকা পড়ে ‘বাঁচাও’ ‘বাঁচাও’ বলে চিৎকার করছিলেন রনি।
প্যাভিলিয়নের তত্ত্বাবধায়ক নাজিম খান বলেন, বাণিজ্য মেলায় কাজ করার জন্য নিহত রনিসহ কয়েকজনকে এক মাসের চুক্তিতে নেওয়া হয়েছিল। ১ জানুয়ারি তিনি কাজ শুরু করেন।
ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মামুন মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, তদন্ত করে ঘটনার কারণ জানার চেষ্টা করা হবে। মেলার প্রধান সমন্বয়কারী শুভাশিষ বসু বলেন, এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তে কারও অবহেলা-ত্রুটির প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পারটেক্স প্লাস্টিক লিমিটেডের ব্যবস্থাপক জুনায়েদ আহমেদ দাবি করেন, ‘তৃতীয় একটি পক্ষ বাণিজ্য মেলায় আমাদের প্লাস্টিক সামগ্রীর এজেন্ট হয়েছিল। ভুল-ত্রুটি হলে তা ওই পক্ষটিই করেছে। তার পরও এ মৃত্যুর দায় আমরা এড়াতে পারি না।’ ওই তৃতীয় পক্ষ কারা, তা তিনি জানাতে পারেননি।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।

sm shakil

sm shakil

২০১৩.০১.২৭ ০৯:৫৩
টাকার চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি। একটু সচেতন হলে এইরকম দুর্ঘটনা আর হতো না। দয়া করে আপনাদের মেলার স্টল গুলোকে আরো ভালো এবং মজবুত করে তৈরী করবেন। আর রনির পরিবারকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দিবেন এই আশাই করি। সরকারকে বলবো আপনারা প্রতিবছর মেলার প্রতিটি স্টল এর অবকাঠামো সঠিক আছে কিনা তা ভালোভাবে চেক করে দেখবেন।