সরকারি জমির তিন হাজার গাছ কেটে নিয়েছেন আ.লীগ নেতা
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মুন্সী আলাউদ্দীনের নেতৃত্বে সরকারি জমি থেকে প্রায় তিন হাজার গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আওয়ামী লীগের স্থানীয় সাংসদ এস কে আবু বাকেরের নির্দেশে গত শুক্রবার জেলা ও উপজেলা প্রশাসন গাছের ৬৯৭টি খণ্ড জব্দ করেছে।
লোহাগড়া পূর্বপাড়ায় মুন্সী আলাউদ্দীনের গুদামঘরের পাশ থেকে এসব গাছ উদ্ধারের সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেবেকা খান, নড়াইলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মাসুম বিল্লাহ, লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকরাম হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
মুন্সী আলাউদ্দীন বলেন, ‘ওই গাছ কাটার সঙ্গে আমার কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই। আমার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ মিথ্যা।’ লক্ষ্মীপাশা গ্রামের কাঠ ব্যবসায়ী আজিজুর রহমান বলেন, ‘জব্দ করার আগে ওই গাছগুলো মুন্সী আলাউদ্দীন ও ভাটিয়াপাড়ার বাপ্পী সাহার কাছ থেকে প্রতি ঘনফুট ১৯০ টাকা দরে কিনেছি। ১৮ হাজার টাকা বায়নাও দিয়েছি।’ তবে মুন্সী আলাউদ্দীন বলেন, ‘আজিজুরকে আমি চিনি না।’
কালনা গ্রামের হেমায়েত হোসেন দাবি করেন, পৈতৃক সম্পত্তি হিসেবে ষাটের দশক থেকে চরকালনায় ছয় একর ৪৫ শতাংশ জমি তিনি ভোগদখল করে আসছেন। ওই জমি পাশের গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার চরজাজিরা মৌজায় খাস খতিয়ানভুক্ত। এর বিরুদ্ধে তিনি মামলা করেছেন। ওই জমির চার একর ৮৬ শতাংশে কাশিয়ানী উপজেলা প্রশাসন আশ্রয়ণ প্রকল্প করছে। এর মধ্যে দুই একর জমিতে তিনি মেহগনি, শিশু, শিলকড়ই ও চাম্বুলগাছ লাগিয়েছিলেন। ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় তিন হাজার গাছ মুন্সী আলাউদ্দীন কেটে নিয়ে গেছেন। এর মধ্যে বড় ও মাঝারি প্রায় এক হাজার গাছের আনুমানিক মূল্য ৫০ লাখ টাকা। ১৪ জানুয়ারি থেকে ১০ দিনে মুন্সী আলাউদ্দীনের নেতৃত্বে কালনা গ্রামের কয়েকজন লোক ওই সব গাছ কেটে নেন। প্রশাসন যে গাছ উদ্ধার করেছে, তার বাইরে মুন্সী আলাউদ্দীনের মধুমতী ইটভাটায়ও গাছ রয়েছে। এ ছাড়া অনেক গাছ তিনি বিক্রি করে ফেলেছেন।
কাশিয়ানীর ইউএনও আবদুল লতিফ বলেন, ‘মধুমতী নদী শিকস্তি খাস খতিয়ানভুক্ত ওই চার একর ৮৬ শতাংশ জমিতে “ডালিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্প” তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। ওই গাছগুলো বাঁচিয়ে রেখে প্রকল্পের কাজ করতে বলেছি। কিন্তু রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা এসব গাছ কেটে নিয়েছে।’
আবদুল লতিফ জানান, হেমায়েত হোসেনের পক্ষে আশ্রয়ণ প্রকল্প তৈরির বিরুদ্ধে আদালত নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন। এর জবাব দেওয়ার পর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়।
ইউএনও রেবেকা খান বলেন, ‘জব্দ করা গাছ উপজেলা পরিষদে রেখেছি। পরে এর মালিকানা নির্ধারণ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ ওসি আকরাম হোসেন বলেন, ‘গাছ কাটার অভিযোগ পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু কাশিয়ানীর থানার ওসি আমাকে বলেন, “আমাদের আওতাধীন প্রকল্পের জায়গার ব্যাপারে আমরা ব্যবস্থা নেব। লোহাগড়া প্রশাসনের এখানে কাজ নেই”।’







Kamaluddin Ahmed
২০১৩.০১.২৭ ০৯:৪২Ibrahim
২০১৩.০১.২৭ ১৯:০১