বগুড়া শহর আ.লীগের কমিটি

এক পক্ষ দিল ঘোষণা অন্য পক্ষ করল স্থগিত

মিলন রহমান, বগুড়া | তারিখ: ২৭-০১-২০১৩

  • ০ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

বগুড়া শহর আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগের এক পক্ষ কমিটি ঘোষণা করলেও জেলা সভাপতি মমতাজ উদ্দিন তা স্থগিত করে দিয়েছেন। নেতাদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে নেতা-কর্মীরা বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দলের মধ্যে যে প্রচণ্ড বিরোধ, তার প্রভাব দলের সবখানেই রয়েছে। শহর আওয়ামী লীগও তার বাইরে নয়। দীর্ঘ নয় বছর ধরে দলে কোনো সম্মেলন হয়নি। মেয়াদোত্তীর্ণ এই কমিটির সভাপতির দায়িত্বে আছেন মকবুল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক বিমল কুমার। সম্মেলন করার নির্দেশ কেন্দ্র থেকে দেওয়া হলে নেতা-কর্মীরা কমিটি গঠনে তত্পর হয়ে ওঠেন। নেতারা দলীয় পদ পেতে তদবির শুরু করেন। অনেকে নিজের মতো করে দলের কাউন্সিলর তৈরি করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
২৪ জানুয়ারি শহীদ টিটু মিলনায়তনে বগুড়া শহর আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমানসহ অন্য নেতাদের উপস্থিতিতে প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় অধিবেশনে কাউন্সিলরদের ভোটে কমিটি গঠন করার কথা। কিন্তু দ্বিতীয় অধিবেশনে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিকে না জানিয়ে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে আগের কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককেই স্বপদে বহাল রাখা হয়। সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী শেখ শামীম অভিযোগ করেন, সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন শেষে দ্বিতীয় অধিবেশনে সব প্রার্থী ও কাউন্সিলরদের নিয়ে অনুষ্ঠান হওয়ার কথা। সেখানে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি উপস্থিত থাকবেন। তিনি অভিযোগ করেন, মকবুল হোসেন চালাকি করে জেলা সভাপতিকে বাদ দিয়ে জেলার সহসভাপতি রেজাউল করিমকে দিয়ে এই কমিটি ঘোষণা করেছেন। বিষয়টি সম্ভাব্য প্রার্থীরা মেনে নিতে পারেননি এবং বিধিসমঞ্চত হয়নি। তা ছাড়া সম্মেলনকে কেন্দ্র করে যাঁদের কাউন্সিলর করা হয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদককে জানানো হয়েছে। অপর সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী গোলাম রব্বানী অভিযোগ করেন, বগুড়া শহরের ২১টি ওয়ার্ডে চার শতাধিক কাউন্সিলর রয়েছেন। কাউন্সিলর যাঁদের করা হয়েছে, তাঁদের অধিকাংশই দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। আত্মীয়স্বজন ও দোকানের কর্মচারী দিয়ে নিজেদের মনগড়া কাউন্সিলরের তালিকা করা হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, কাউন্সিলরের তালিকা খতিয়ে দেখা গেছে, এক এলাকার অনেক লোকের নাম রয়েছে। এ প্রসঙ্গে রেজাউল করিম বলেন, দ্বিতীয় অধিবেশনে সভাপতি না থাকায় তাঁকে সভাপতিত্ব করতে বলা হয়। সেখানে মাইকিং করে বলা হয়, প্রার্থী কে কে হবেন। তখন বর্তমান সভাপতি মকবুল হোসেন নিজেকে সভাপতি ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক বিমল কুমার তাঁদের প্রার্থিতা ঘোষণা করলে কাউন্সিলররা একযোগে সমর্থন জানান। সেখানে আর কোনো প্রার্থী ছিলেন না। সেখানকার কাউন্সিলরদের চাপে কমিটি ঘোষণা করতে হয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন বলেন, প্রথম অধিবেশনের পরই কাউন্সিল নিয়ে অভিযোগের কারণে শহর কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। পরে তাঁরা যে কমিটির কথা বলছেন, তা বিধিসমঞ্চত না হওয়ায় স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে নতুন কমিটির সভাপতি মকবুল হোসেন বলেন, ‘নিয়মতান্ত্রিকভাবেই কাউন্সিলরদের ভোটে কমিটি করা হয়েছে। এই কমিটি সভাপতি স্থগিত করতে পারেন না। আমাদের কমিটি বৈধ কমিটি।’

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।
আপনার মতামত দিন