পীরগঞ্জে ফসলি জমির মাটি ইটভাটায় বিক্রি
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি (টপ সয়েল) ইটভাটায় বিক্রি হচ্ছে। ইটভাটার মালিকেরা চড়া দামে এসব মাটি কিনে নিচ্ছেন।
পরিবেশ অধিদপ্তর রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের কর্মকর্তা সুকুমার সাহা বলেন, ‘ফসলি জমির টপ সয়েল কাটার ব্যাপারে সরকারি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এই মাটি কেটে ইটভাটায় দেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি। এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসন আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারে।’
স্থানীয় সূত্রে জানা গছে, পীরগঞ্জের উত্তর গড়গাঁও, সিন্দুরনা, খনগাঁও আরাজি উজ্জ্বলকোঠা, ঘোড়াধাপ, ভেলাতৈড়, গুয়াগাঁও ও চাপোড় গ্রামে সাতটি ইটভাটা চালু রয়েছে। এসব ইটভাটার মালিকেরা আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে ফসলি জমির মাটি কিনে ট্রাক্টরে করে ইটভাটায় নিয়ে যাচ্ছেন। শুক্র ও শনিবার (১৮ ও ১৯ জানুয়ারি) সরেজমিনে দেখা গেছে, শ্রমিকেরা ভেমটিয়া গ্রামের ইউসুফ আলীর ফসলি জমির মাটি কেটে রিকশা-ভ্যানে করে ‘সেভেন বি’ নামের একটি ইটভাটায় নিয়ে যাচ্ছেন।
জমির মালিক ইউসুফ আলী বলেন, ‘আমার দুই বিঘা জমির ওপরের অংশের (এক ফুট) মাটি ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি ভাটার মালিকের কাছে।’ খনগাঁও গ্রামের কৃষক আব্বাস আলী বলেন, ‘এবার আমন ধান ভালো হয় নাই, হাতত টাকা নাই, সংসারত অভাব। এই তাহেনে মুই এক বিঘা জমির মাটি বিক্রি করে নয় হাজার টাকা পাইচু।’
‘সেভেন বি’ ইটভাটার পশ্চিম-দক্ষিণে লাছি নদীর পাড় ঘেঁষেও কয়েকজন কৃষকের ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি কেটে ইটভাটায় নেওয়া হচ্ছে। মাটি বহনকারী ভ্যানশ্রমিকেরা জানান, গুয়াগাঁও ও ভেমটিয়া গ্রামের কাইমত আলী, হাসান আলী, সিরাজুল ইসলাম, ইউসুফ আলীসহ অনেক কৃষক তাঁদের মাটি বিক্রি করেছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ঠাকুরগাঁওয়ের উপপরিচালক বেলায়েত হোসেন জানান, আবাদি জমির উপরিভাগের (টপ সয়েল) ছয় থেকে ১০ ইঞ্চির মধ্যে জমির খাদ্যকণা ও জৈব উপাদান থাকে। উপরিভাগের মাটি কেটে ফেলা হলে জমিতে খাদ্যকণা ও জৈব উপাদান আর থাকে না। তাই জমির উর্বরতা শক্তি কমে যায়। এসব ফসলি জমি আগের অবস্থায় ফিরে আসতে অন্তত ১০ বছর সময় লাগে। একই জমি থেকে প্রতিবছর এভাবে মাটি কাটা হলে সেটি আর ফসলি জমি থাকে না।
পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘এ ব্যাপারে কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে সরেজমিনে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।’
পাঠকের মন্তব্য
- আপনার মতামত দিন






