শিরোনাম:

উপকূলজুড়ে নিষিদ্ধ জাল

ডলফিনও রক্ষা পাচ্ছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার | তারিখ: ২৭-০১-২০১৩

  • ০ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

কক্সবাজার উপকূলে ডিম পাড়তে আসা মা কচ্ছপের পাশাপাশি অসংখ্য ডলফিনেরও মৃত্যু হচ্ছে। গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার জেলার ৮০ কিলোমিটার সৈকতে অন্তত ১০টি ডলফিনের মৃতদেহ ভেসে আসে। কয়েকটি ডলফিনের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
গত শুক্রবার সকালে শহরের নাজিরারটেক সৈকতে ভেসে আসে বড় আকৃতির একটি ডলফিন। ডলফিনটির একটি চোখে ধারালো অস্ত্রের আঘাত। লেজের দিকে কাটা। সম্ভবত উপকূলে পুঁতে রাখা জালে আটকা পড়ার পর আঘাত করা হয়েছে।
সেন্ট মার্টিন দ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নুরুল আমিন বলেন, গভীর সাগরে মাছ ধরার ট্রলিং জালে আটকা পড়ে মারা যাচ্ছে কচ্ছপ ও ডলফিন। পরে মরা ডলফিন ও কচ্ছপ দ্বীপের সৈকতে ভেসে আসছে। গত দুই দিনে তিনটি কচ্ছপ ও একটি ডলফিন সৈকতে ভেসে আসে।
টেকনাফ উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা সৈয়দ হুমায়ুন মোর্শেদ বলেন, বর্তমানে ১৮৬টি ট্রলিং জাহাজ গভীর সাগরে মাছ ধরছে। উপকূল থেকে এসব জাহাজ নিয়ন্ত্রণ করা মোটেও সম্ভব নয়। ট্রলিং জালে আটকা পড়েই কচ্ছপ ডলফিনের মৃত্যু হচ্ছে বলে খবর রয়েছে।
কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি দীপক শর্মা বলেন, গত দুই দিনে তাঁরা কক্সবাজার, মহেশখালী, উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার প্রায় ৮০ কিলোমিটার সৈকত থেকে ১০টি ডলফিন উদ্ধার করে বালুতে পুঁতে ফেলেছেন। আরও কয়েকটি মৃত ডলফিন শিয়াল-কুকুর খেয়ে ফেলেছে। এর আগে গত মাসে তাঁরা উদ্ধার করেন ২১৯টি মৃত কচ্ছপ। কিন্তু উপকূলে পুঁতে রাখা জাল উচ্ছেদে কারও তত্পরতা নেই।
জেলা মত্স্য কর্মকর্তা ফেরদৌস আহমেদ বলেন, ডিম পাড়তে আসা মা কচ্ছপ ও ডলফিনের মৃত্যু রোধকল্পে সহসা সমুদ্র উপকূলীয় জেলেপল্লিতে জনসচেতনতামূলক নানা কর্মসূচি এবং সাগরে পুঁতে রাখা নিষিদ্ধ জাল উচ্ছেদে যৌথ অভিযান শুরু করা হবে।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।
আপনার মতামত দিন