অল্পস্বল্প

‘প্রতিদিন ২০০ করে টাকা পাই’

ক্রীড়া প্রতিবেদক | তারিখ: ২৭-০১-২০১৩

  • ০ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook
মোহাম্মদ মফিজউদ্দিন

মোহাম্মদ মফিজউদ্দিন

ফুটবল ও ভলিবল দুটোই খেলতেন নব্বইয়ের দশকে। হাঁটুতে চোট পেয়ে পরে ছেড়ে দেন ফুটবল। বয়স ৪৭। কিন্তু বয়সকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তিনি প্রথম বিভাগ ভলিবলে খেলে যাচ্ছেন। ভলিবলে তেমন অর্থযোগ নেই, স্বাবলম্বী সোসাইটি দলের মোহাম্মদ মফিজউদ্দিন খেলেন আসলে মনের আনন্দেই
 এই বয়সেও দিব্যি খেলে যাচ্ছেন? সমস্যা হয় না?
মোহাম্মদ মফিজউদ্দিন: শরীর ফিট আছে। নিয়মিত অনুশীলন করি। খেলতে তাই সমস্যা হয় না। আমি আসলে মনের আনন্দে খেলছি। আমার বয়সে অন্যরা লিগে খেলার কথা ভাবতেই পারে না।
 লিগে খেলে কেমন টাকাপয়সা পান?
মফিজউদ্দিন: লিগ চললে প্রতিদিন ২০০ করে টাকা পাই। এই টাকা দিয়ে কিছুই হয় না। যাতায়াতেই ব্যয় হয়ে যায়। টাকাপয়সার জন্য খেলছি না। আনন্দ পাই বলেই এখনো খেলে যাচ্ছি।
 আগের মতো কি লিগ জমজমাট হয়?
মফিজউদ্দিন: আগের মতো লিগ জমে না। লিগে কোনো আকর্ষণই নেই। এর কারণ, ভালো মানের খেলোয়াড় নেই। প্রতিদ্বন্দ্বিতাও হচ্ছে না। আপনি যদি খেলোয়াড়ের মূল্য না দেন, তাহলে তো আকর্ষণ থাকবে না। দলে দামি খেলোয়াড় নেবেন, দলবদল হবে জাঁকজমকের সঙ্গে, তবেই না লিগ জমবে। আমরা যখন খেলা শুরু করি, তখন এসব দেখেছি। এখন ভলিবলে সেই দিন নেই।
 আপনি যখন খেলা শুরু করেছিলেন তখন, আর এখনকার মধ্যে কেমন পার্থক্য দেখেন?
মফিজউদ্দিন: এখন খেলার মান অনেক কমে গেছে। তখন অবশ্য খেলোয়াড়ও অনেক কম ছিল। প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশি ছিল। এখন খেলোয়াড় বেশি হলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা কম।
 আপনাদের দলের অনেকে তো ঠিকমতো সার্ভিসই করতে পারছেন না। এর কারণ কী?
মফিজউদ্দিন: আমরা অনুশীলনই করেছি মাত্র ১০-১২ দিন। আমাদের দলের সবাই চাকরি করে। এত অল্প অনুশীলনে আসলে ভালো খেলা সম্ভব নয়।
 তাহলে তো অবনমনের শঙ্কায় পড়ে যাবেন।
মফিজউদ্দিন: সেই ভয় তো আছেই। কমপক্ষে দুটি দলের সঙ্গে না জিতলে আমরা প্রথম বিভাগে থাকতে পারব না। আশা করি, আমরা পরের ম্যাচগুলো জিততে পারব। এবং ইনশাআল্লাহ টিকেও যাব। আমাদের চেয়েও খারাপ দল খেলছে।
 এই খেলার উন্নয়নে ফেডারেশনের ভূমিকা কেমন দেখেন?
মফিজউদ্দিন: ফেডারেশন আমাদের আর্থিক নিরাপত্তা দিতে পারেনি। খেলে সে রকম টাকাপয়সা পাই না। একটা বলের দাম ১৮০০-২০০০ টাকা। নেটেরও এমন দাম। ক্লাবের কর্মকর্তারা এত কিছু কিনে দিতে পারেন না সব সময়। ফেডারেশন যদি ক্লাবগুলোকে সাহায্য না করে, তাহলে ক্লাবগুলোও ভালো দল গড়তে পারবে না। ফেডারেশনের আরও ভূমিকা রাখার সুযোগ আছে।
 আপনি অনুশীলন করেন কোথায়?
মফিজউদ্দিন: শাহবাগে। বিডি ভিশন নামে আমাদের একটা ক্লাব আছে। এই ক্লাবে প্রায় ৩০-৪০ জন খেলোয়াড় আছে। বাছাইপর্ব পেরিয়ে দ্বিতীয় বিভাগে উঠেছে ক্লাবটি।
 ভলিবলে কি নতুন খেলোয়াড় আসছে?
মফিজউদ্দিন: আসছে, তবে তুলনামূলক কম। আমাদের খেলা দেখে অবশ্য অনেকেই এসেছে।
 আপনি চাকরি করে কীভাবে খেলার সময় বের করেন?
মফিজউদ্দিন: ডিউটি শেষ না হলেও স্যারদের বললে ছেড়ে দেন। বলেন বয়স হয়েছে। খেলতে চাইছে খেলুক।
 কত দিন খেলে যেতে চান?
মফিজউদ্দিন: যত দিন পারব খেলে যাব।
 ফুটবলার মফিজউদ্দিনের কথা কিছু বলুন।
মফিজউদ্দিন: দ্বিতীয় বিভাগের দল মুসলিম ইনস্টিটিউটে ১৯৯২-৯৩ সাল পর্যন্ত ফুটবল খেলে খেলা ছেড়ে দিয়েছি। একবার খেপ খেলতে গিয়ে দুই হাঁটুর মালা ছুটে যায়। এর পরই ফুটবল ছেড়ে ভলিবলে নামি।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।
আপনার মতামত দিন