‘মাইনষের প্লেটের বিরানি আর হাড্ডি খাই’

সুচিত্রা সরকার | তারিখ: ২৭-০১-২০১৩

  • ২৫ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বর। বিকেল চারটা। একদল শিশু খেলায় ব্যস্ত। এদের মধ্যে একজন কাগজের ঠোঙায় ঝালমুড়ি খাচ্ছিল। খাওয়া শেষ হলে সেই কাগজটা দিয়েই বানানো হলো একটা উড়োজাহাজ। সেটা আকাশ বরাবর উড়িয়ে দিতেই ওর চোখ আটকে গেল পাশের পাঁপড় বিক্রেতার দিকে। সেখানে একজন পাঁপড় কিনছে। উড়োজাহাজ আর বন্ধুদের কথা ভুলে মুহূর্তেই ছুটে গেল। তারপর
ক্রেতার দিকে ছলছল চোখে চেয়ে বলল, ‘ভাই, কিছু কিইন্যা দেন, সকাল থাইক্যা কিছু খাই নাই।’ অনেক অনুনয় আর বিনয়ের পর আধখান পাঁপড় জুটল। সেটা খেয়ে তারপর আবার দৌড়াল বন্ধুদের কাছে। ওর নাম সজীব। বয়স ছয়। বাড়ি ভৈরবে। বর্তমান ঠিকানা সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। প্রশ্ন করলাম, ‘সারা দিন কি এখানেই থাকো?’
প্রশ্ন শুনেই যেন কথার খই ফুটতে লাগল, ‘হ, এইখানে থাকি। আর ফুল বেচি।’ পাশের বন্ধুদের দেখিয়ে বলল, ‘হেরাও এই কাম করে।’
সারা দিন কি এই সবই খাও?
পাশে দাঁড়ানো আলাদিন এবার কথা বলল, ‘সকালে আমরা রুটি আর চা খাই। তারপর ফুল বেচতে এই খানে আইস্যা পড়ি। এই খানে আমরা অনেক কিছু খাই। আইসক্রিম, কোক, লাচ্ছি, পাঁপড়, আলুর চিপস, ফুচকা খাই। কেমনে খাই, জানেন? যদি দেহি কেউ কিছু কিনতাছে, সেই খানে গিয়া কই, “স্যার, কিছু কিইন্যা দেন, খামু।” তহন তারা নিজেরা একটু খাইয়্যা, বাকিটা আমারে দিয়া দেয়। আবার কেউ নতুন একটা কিইন্যা দেয়।’
আর রাতের খাবার? প্রশ্ন শুনে একজন আরেকজনের দিকে তাকায়। এবার সফিক বলে, ‘টিএসসিতে মাঝেমইধ্যে বিরানি খাওয়ায়। অনুষ্ঠান শেষ হইলে আমরা যাই। তারপর সেখানে মাইনষের প্লেটের বিরানি আর হাড্ডি খাই।’
এবার সজীব বলে, ‘গত শুক্কুরবার আমি বিরানি আর ম্যালা হাড্ডি পাইছিলাম। তিন ভাই পেট ভইর‌্যা খাইছি।’
আর যেদিন কোনো অনুষ্ঠান হয় না, সেদিন কোথায় খাও?
এবারও উত্তরটা সজীবই দেয়, ‘তহন মা ২৫ টেকার ভাত কিনে। মা আর আমরা তিন ভাই খাই। ভাতের লগে তরকারিও দেয়।’
‘আমারে একবার এক আপায় চকলেট দুধ কিইন্যা দিছিল। খুব মজা লাগছিল। এখন খালি হেই দুধ খাইতে মন চায়।’
একটু দূরে আইসক্রিম বিক্রি হচ্ছে। ওদের কারোরই এখন আর কথা বলার ফুরসত নেই। আইসক্রিমটা খেতেই হবে।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ফুল বেচে খুশি, রিমন আর ইয়াসিন। এদের মধ্যে রিমন আর ইয়াসিন ইসলামবাগে থাকে। সকালে কী খেয়েছ? রিমনের সহজাত উত্তর, ‘ক্রিম রুটি খাইছি। আর দুপুরে ফুচকা খাইছি প্যাট ভইর‌্যা।’
তাহলে ফুল বিক্রির টাকা দিয়ে কী করো? এবার উত্তর দেয় ইয়াসিন। ‘মারে দিয়া দিই। মা হেই টেকা দিয়া সংসার চালায়। আমগোরে সকালে খাওনের টেকা দেয়। ঘরভাড়া দেয়। আবার মাঝেমইধ্যে রাইতে খাওনের টেকাও তো মায় দেয়।’ প্রতিদিন কত টাকার ফুল বিক্রি হয়?
‘৫০ টেকা, কোনোদিন ১০০ টেকা। ১৬ ডিসেম্বর আর এমন বড় বড় অনুষ্ঠান আইলে আরও বেশি বেচতে পারি।’
পাশেই মাটিতে বসে আছে খুশি। নখ দিয়ে গোলাপের কাঁটা ছাড়াতে ব্যস্ত। প্রশ্ন করি, তুমি দুপুরে কী খেয়েছ?
‘আমি আর আমার বইনে ভুনা খিচুড়ি খাইছি। এক আপায় খাইতাছিল। আমি চাইছি। তারপর এইটুকু দিছিল।’ দুই হাতে যতটুকু খাবার দেখাল, তাতে হয়তো ওর একারই পেট ভরার কথা নয়। সেটাই দুজন ভাগ করে খেয়েছে।
ওদের মতো ছিন্নমূল শিশুদের সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য কতটুকু শর্করা, আমিষ, স্নেহজাতীয় পদার্থ দরকার, তা ওরা জানে না। কারণ, এগুলো ছাড়াই ওরা প্রতিদিন অন্যের আধা খাওয়া খাবার খায়। আর বেড়ে ওঠে অপুষ্টি নিয়ে।একটি শিশুর কতটুকু খাবার প্রয়োজন? আর সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য পুষ্টি দরকার কতটুকু? এ বিষয়ে কথা বলি বারডেম জেনারেল হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক তাহমীনা বেগমের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আসলে সব শিশুর জন্যই সমান পরিমাণ পুষ্টি প্রয়োজন। প্রতিদিন এক কেজি ওজনের শিশুর জন্য দরকার ১০০ কিলোক্যালরি। সেভাবে ১০ কেজি ওজনের শিশুর জন্য ১০০০ কিলোক্যালরি। তবে শুধু ভাত বা ডাল খেয়ে যদি প্রয়োজনীয় ক্যালরি গ্রহণ করে, তাতে পুষ্টি সম্পূর্ণ হবে না। সে ক্ষেত্রে সুষম উপায়ে আমিষ, চর্বি ও শর্করা-জাতীয় খাবার খেতে হবে। সেই সঙ্গে শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সুস্থ-সবল রাখার জন্য মিনারেল ও ভিটামিন-জাতীয় খাবারও দিতে হবে।’

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।

shofiqur rahman

shofiqur rahman

২০১৩.০১.২৭ ০৬:০০
এই বাচ্ছাদেরকে আ্মরা বিভিন্ন নামে ডাকি, কেউ বলি পথশিশু, কেউ আবার টোকাই। বেশিরভাগ বাচ্ছারা দেখা যায় মায়ের সংগে থাকে, বাবা ছেড়ে চলে গেছে জন্মের পর । আমরা ইচ্ছা করলে এদের জন্য অনেক কিছু করতে পারি, যদি আমরা শিক্ষিতরা সপ্তাহে একদিন ২/৪ ঘন্টা এদের জন্য ব্যয় করি। যুক্তরাজ্যে এবং আ্মেরিকাতে এরকম টোকাই বা পথশিশু ছিল অনেক দিন আগে । ১৮৮৪ সালে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড ইউনিভাসিটির কয়েকজন শিক্ষক উনাদের ছাত্রদের নিয়ে লন্ডন শহরের এই রকম বস্তির বাচ্ছাদের ধর্মীয়, সামাজিক এবং শিক্ষার জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে তাদেরকে শিক্ষিত এবং কর্মমূখী শিক্ষা দিয়ে সমাজে প্রতিষ্টিত করার কাজ শুরু করে ছিলেন যা এখনো চলিতেছে এবং যুক্তরাজ্য সমাজে এখন কেউ যদি স্বেচ্ছাসেবী কাজ না করে অন্যের জন্য তাকে আনেক জায়গায় অসম্মানের চোখে দেখা হয় এবং বিদেশীরা যুক্তরাজ্যের নাগরিক হতে হলে ২ বতসরের স্বেচ্ছাসেবি কাজের অভিঙ্গতা দেখাতে হয় । আমেরিকাতে এই পথশিশু বাচ্ছাদের জন্য ১৯০৪ সালে Bigbrother and Bigsister নাম দিয়ে তাদেরকে কিভাবে সমাজে প্রতিষ্টিত করা যায় শিক্ষা এবং কর্মমুখী শিক্ষা দিয়ে তা শুরু হয়ে ছিল নিউইর্য়ক শহরে এবং বর্তমানে চলিতেছে মেন্টরিং হিসেবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয়ে প্রায় ৩০ হাজারের মত ছাত্র/ছাত্রী এবং ২/৩ হাজারের মত শিক্ষক আছেন এছাড়া ঢাকার অন্যন্য কলেজ ও বিশ্ববিদ্যলয় তো আছে। ঢাকার সব কলেজ ও বিশ্ববিদ্যলয়ের ছাত্র/ছাত্রী যদি সপ্তাহে একদিন ২ ঘন্টা এই বস্তির বাচ্ছাদের জন্য যদি শিক্ষা এবং মেন্টর হিসেবে সময় দিলে ঢাকার বস্তির কোন বাচ্ছা অশিক্ষিত থাকবে না এবং ভবিষ্যতে জীবনের সুন্দর স্বপ্ন দেখতে পারবে, রাজনৈতিক নেতাদের মিছিলের যোগ দেবে না্ ।

Abdullah Al-Mamun. রংপুর ।

Abdullah Al-Mamun. রংপুর ।

২০১৩.০১.২৭ ০৬:০৯
বাংলাদেশ তথা ঢাকা শহরে ছিন্নমুল বাস্তুহারা শিশু এবং মানুষের অভাব নেই । এদের জীবন বড় বৈচিত্রময় । ফুল বিক্রি বা টোকাই গিরি করে আর অন্যের কাছে হাত পেতে এদের জীবন চলে । এদের ভবিষ্যত্‍ শুধুমাত্র পরের দিনের জন্য । এরা আমাদের সমাজের অংশ । এদের জীবন বলতে কোন কিছু খেয়ে বেঁচে থাকা । পোষাক,বাসস্থান.চিকিত্‍সা আর শিক্ষার মতো মৌলিক অধিকার থেকে এরা যুগযুগ থেকে বষ্ণিত । এদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে । এদেরকে নিয়ে ভালো কিছু করা আমাদের দায়িত্ব । এদেরকে সমাজের মূলস্রতধারায় ফিরিয়ে আনতে হবে । এজন্য রাষ্ট ,বিদেশি সাহায্য সংস্থা আর দেশের বিত্তবানদের ভালভাবে এগিয়ে আসা উচিত ।

zahid

zahid

২০১৩.০১.২৭ ০৮:০৫
GOVERNMENT HAVE RESPONSIBILITY TO HELP THEM. NO NEED TO BUY ARMS.

Ruhul

Ruhul

২০১৩.০১.২৭ ০৮:১২
আমার মনে হয় আমি মানুষ হতে পারিনি । তা না হলে আমাদের ছোট ভাইরা না খেয়ে থাকতনা । সরকারতো হাতির ঝিল বানিয়েছে আমি বলি সেখানে জর বস্তু না দেখে স্বধীনতা চত্তরে জীববস্তু দেখ কাদতে না পরলে হাসতে পারবে অনেক ।

MD Sojath hosain

MD Sojath hosain

২০১৩.০১.২৭ ০৮:২৯
কষ্ট লাগে ওদের জন্য

সাকী রহমতুল্লাহ

সাকী রহমতুল্লাহ

২০১৩.০১.২৭ ০৮:৪৩
এ বয়সে খুশি, রিমন আর ইয়াসিন রা থাকার কথা ছিল খেলাধুলা আর পড়াশুনা নিয়ে, অথচ এদের জীবন যুদ্ধ চলছে ফুল বিক্রি করে আর অন্যের প্লেটের উচ্ছিষ্ট খাবার খেয়ে। সমাজের বৃত্তবানরা কি একজন আলাদিন কিংবা একজন সজিব এর দায়িত্ব নেয়া কি খুবই কষ্টকর? আসুন না আমরা সবাই মিলে এ সফিক রিমনদের হাতে হাত ধরে বলি এ সমাজে তোমরা ও আমাদের মত মানুষ, তোমাদের ও আছে অন্ন বস্র আর শিক্ষার অধিকার।

Alauddin Alo

Alauddin Alo

২০১৩.০১.২৭ ০৮:৪৭
দরিদ্র ও অসহায় শিশুদের প্রতি দয়াশীল হন মহান আল্লাহ তায়লা।

alamin

alamin

২০১৩.০১.২৭ ০৮:৫৯
এমন খবর আর ছবি দেখে সকালে চোখ ২ টা কেনো জানি ছল ছল কর উঠল । সমাজের বিত্তবান দের কিন্তু অনেক সামাজিক দ্বায় আছে তারা যদি সেগুলো সঠিক ভাবে পালোন করে তবে এমন খবর আর ছবি দেখতে হবে না। বদলে যাবে সমাজ ,,,,,, শুরু হোক এই স্লোগান বিত্তবানরা বদলে যাক এমন ছবি খবরের কাগজ থেকে উঠে যাক

Mohammad Shah Alam

Mohammad Shah Alam

২০১৩.০১.২৭ ০৯:২৫
এই শিশুদের সাথে বড়লোকের সন্তানদের পার্থক্য হল ,এদের জিব্ব্রায় প্রচন্ড রুচি অার ওদের মোটেই রুচি নেই !হায়রে দুনিয়ার নিয়ম , কেউ পায় না অার কেউ খায় না !

Binod Kabra

Binod Kabra

২০১৩.০১.২৭ ০৯:৫৬
এই সমস্ত ছিন্নমুল বাস্তুহারা শিশুদেরকে দেখিয়ে কত নামকরা এন জি ও কোঁটি কোটি টাকা অনুদান এনে খুদ্র ঋণ নামক সুদের bussiness করে নিজেদের উন্নয়ন ঘটাচ্ছে কিন্তু এদের কোন পরিবর্তন হই নাই ! এই ছিন্নমুল শিশুদেরকে দেখলে সত্তিই খুব খারাপ লাগে ! আমাদের নিজের অবস্থান থেকে সাধ্য অনুযায়ী এদের সাহায্য এগিয়ে আশা উচিৎ !

Nazmul Khair

Nazmul Khair

২০১৩.০১.২৭ ১১:১৯
Our ministers are taken their allowances from parliament house without proper present on the other hand most child are live with wastage food. Great!!

s rahman

s rahman

২০১৩.০১.২৭ ১১:২৩
যারা অবৈধভাবে, জোরজবরদস্তি করে পাপেরটাকা রোজগার করে, তারা ইচ্ছে করলে তাদের পাপের পরিমাণ কিছুটা হলেও কমাতে পারে এইসব ছিন্নমুল প্রাণীদের পেটে অন্ন দিয়ে। আমাদের মতো সাধারণ জনগণের বর্তমানে এমন অবস্থা যে সাধ থাকলেও সাধ্য থাকছে না। ইয়া নাফসি ইয়া নাফসি অবস্থা........। বাংলাদেশ তো প্রচুর প্রাকৃতিক সম্পদ এবং জনসম্পদে ভরপুর, তারপরেও আমরা কেন মালয়েশিয়া সিঙ্গাপুর হতে পারছি না? আমাদের একজন সৎ মাহাথির দরকার।

মাহতাব হোসেন # বাউফল # পটুয়াখালী #

মাহতাব হোসেন # বাউফল # পটুয়াখালী #

২০১৩.০১.২৭ ১১:৩৮
যে-দেশে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটেরারা লুটে নেয়, কোন বিচার-জবাবদিহির সম্মূখীন পর্যন্ত হতে হয় না ; যে দেশে শুধুমাত্র নাম পরিবর্তন করতে সরকার শতশত কোটি টাকা ব্যয় করে ফেলে, সেই দেশে `সফিক'-দের বড়লোকের প্লেটের ফেলে দেয়া উচ্ছিষ্ট বিরানি আর মাংস-ছাড়া হাড্ডি খাওয়াতো স্বাভাবিক ব্যাপার। `সফিক'-দের জন্য আসলে কার্যকর কোন কিছুই করা হচ্ছে না, যা-ও করা হচ্ছে, খুজে দেখুন, তারও বেশীরভাগ ঐ লুটেরাদের পকেটে-পেটেই ঢুকছে।
আমরা আমজনতা কি-ইবা করতে পারি, আমরা ওদের এ দুঃসহ জীবনগাথা দেখে-শুনে পারি দু'ফোটা অশ্রু বিসর্জন দিতে, আর কামনা করতে, মনুষ্য-সন্তান হয়েও যেন ওদের কুকুর-বেড়ালের মত উচ্ছিষ্ট হাড্ডি খেতে না হয়।

Md.Ibrahim

Md.Ibrahim

২০১৩.০১.২৭ ১১:৪৪
আমরা দুর্ভাগা জাতি আমাদের শিশুরা রাস্তায় ফুল বিক্রিকরে তাদের পেটের আহার.যোগার করতে হয়..
২০১৩.০১.২৭ ১২:১৫
এইসব পথশিশুদের জন্য যেমন কিছুটা মায়া হয় তেমনি রাগ লাগে তাদের প্রতি, যারা বাচ্চাদের মুখে খাবার জুটাতে পারবেনা জেনেও একের পর এক বাচ্চা জন্ম দিতে থাকে। রাগ লাগে তাদের উপড় যারা পরিবার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সাথে জড়িত কিন্তু তাদের কাজ ঠিক মত করছেনা, রাগ লাগে দেশের সরকার এবং তথাকথিত গ্যানী-গুনীদের উপড় যারা জনসংখ্যা এই দেশে যে সমস্যা তা বুঝেন না এবং জনসংখ্যা বিষ্ফোরন রোধে কোন ব্যবস্তা নিচ্ছেন না।
আমাদের দেশে যত সমস্যা আছে তার মূল হল, জনসংখ্যা সমস্যা। কেন এই সমস্যা নিয়ে কেও কোন কথা বলেন না? কেন কোন মিডিয়াতে এটা নিয়ে কোন উচ্চবাচ্চ করতে দেখা যায় না? কোন নেতাদের বক্তব্যে এই সমস্যা কখনো আসেনা কেন?

Syed Md. Kamruzzaman

Syed Md. Kamruzzaman

২০১৩.০১.২৭ ১৩:৩৩
এদের জন্য কিছু একটা করা দরকার।।

Kulsum Al-Nazrul

Kulsum Al-Nazrul

২০১৩.০১.২৭ ১৪:০৫
চিন্তা করা যায় এসব শিশুরা কিরকম কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে জীবন অতিবাহিত করছে ।
২০১৩.০১.২৭ ১৪:৩৭
চোখের পানি ধরে রাখতে পারলাম না। আজও কত খাবার নষ্ট করলাম। নিজেকে অনেক খারাপ মানুষ মনে হচ্ছে।
শুধু রাজনীতিবীদরা না, আমাদেরও এগিয়ে আশা উচিত এদের পাশে। অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে (সুচিত্রা সরকার )।

suchitra sarker

suchitra sarker

২০১৩.০১.২৭ ১৬:০৪
চষ্টো করলে নিশ্চয়ই আমরা ওদের পাশে দাড়াতে পারবো। লেখাটিতে যারা মন্তব্য করেছেন- সকলকে ধন্যবাদ।

suchitra sarker

suchitra sarker

২০১৩.০১.২৭ ১৬:০৫
চষ্টো করলে নিশ্চয়ই আমরা ওদের পাশে দাড়াতে পারবো। লেখাটিতে যারা মন্তব্য করেছেন- সকলকে ধন্যবাদ।

Md. Khairul Islam

Md. Khairul Islam

২০১৩.০১.২৭ ১৬:৫৫
আর কিসু লিখতে মন চায় না , লিখে কি লাভ, আমরা ত কখন অ মানুশ হতে পারলাম না !

SR Taufiq

SR Taufiq

২০১৩.০১.২৭ ১৮:১১
এখন আমি বাংলাদেশ সরকারের কাছে জানতে চাই মধ্য আয়ের দেশ হবে বাংলাদেশ! তারপরও কি এই ছিননমুল শিশুরা এমন করে ডাষটবিন থেকে খাবার খাবে? মধ্য আয়ের দেশ, জিডিপি ৭ ইত্যাদি ইত্যাদি কি সত্যি অরজিত হচেছ!

mahfuza bulbul

mahfuza bulbul

২০১৩.০১.২৭ ২০:৩৭
আমি কয়েকবার এই শিশুদের খপ্পরে পড়েছিলাম। বই মেলায়। কোণ আইসক্রিমের এক কোণে কেবল কামড় দিয়েছিলাম । ওদের জ্বালায় অতীষ্ঠ হয়ে আইসক্রিমটা না খেয়েই দিতে বাধ্য হয়েছিলাম। সবাই যে দিচ্ছিল তা না। কিন্তু ওরা জোঁকের মত লেগেছিল । একজন আবার ওদের পুলিশের ভয় দেখালে, দুই হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি তুলে বলেছিল, পুলিশ আমার এইটা করবো।বিয়ের অনুষ্ঠানে জানালার ফাঁকে হাত গলিয়ে পাতের রোষ্ট, মিষ্টি ওদের নিতে দেখেছি। আসলেই বাচ্চা ভয়ংকর, কাচ্চা ভয়ংকর ।

Raihanul Islam

Raihanul Islam

২০১৩.০১.২৭ ২১:২৮
@suchitra sarker সবাই যদি পড়াশুনা করে ভাল চাকুরি করে তাহলে ভ্যানগাড়ি, ঠেলাগাড়ি বা আপনি যে সকুটার বা রিকশায় উঠেন সেগুলো চালাবে কে? একটা কথা মনে রাখবেন সব দেশেই এক শ্রেনীর মানুষ চায় তাদের নিচে আরেক শ্রেনীর মানুষ কাজ করুক। সবাই যদি নিজের কাজ নিজে করত তালে আমাদের মনএী এমপিদের বাসায় কাজের ঝি, দারোয়ানেরই বা কাজ করবে?

Ahmed Hafiz

Ahmed Hafiz

২০১৩.০১.২৭ ২২:৫৯
ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করতে চাই না , সুচিত্রা সরকার কে , তার এ রকম একটা বাস্তবিক লেখার জন্য, আমাদের দেশের এম পি, মন্ত্রীরা যদি আরও একটু সজাগ হয় তাহলে দেশের অভাবি শিশুরা অনাহারে, অশিক্ষা নিয়ে বড় হতে হবে না । আসুন আমরা সকলে মিলে এসকল অসহায় শিশুদের কিছু করার জন্য চেষ্টা করি ।