এসএমই খাতকে আরও কর সুবিধা দেওয়ার তাগিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক | তারিখ: ৩১-০১-২০১৩

  • ০ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে (এসএমই) আরও কর-সুবিধা দেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এসএমই উদ্যোক্তাদের নিবন্ধন সহজ করার পাশাপাশি লেনদেনের (টার্নওভার) পরিমাণ পুনর্নির্ধারণ করার সুপারিশ করা হয়েছে।
এসএমই ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক আলোচনা সভায় গতকাল বুধবার বক্তারা এসব কথা বলেন। রাজধানীর পান্থপথে এসএমই ফাউন্ডেশনের মিলনায়তনে এ সভা হয়।
এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন। আরও বক্তব্য দেন ঢাকা চেম্বারের (ডিসিসিআই) সভাপতি সবুর খান, বাংলাদেশ চেম্বারের (বিসিআই) সাবেক সভাপতি শাহেদুর ইসলাম হেলাল, হালকা প্রকৌশল শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি আবদুর রাজ্জাক, এগ্রো প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন এসএমই ফাউন্ডেশনের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবুব রহমান। সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এনবিআরের সাবেক সদস্য মো. সাহাবুদ্দিন।
সভায় বক্তারা বলেন, দেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি এসএমই খাত। তাই এ খাতকে আরও প্রণোদনা দেওয়া উচিত।
এনবিআরের চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন বলেন, রাজস্ব আদায়ব্যবস্থা আরও সহজ করা হচ্ছে। এ জন্য কাঠামো সংস্কার হচ্ছে।
গোলাম হোসেন ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘কোনো জায়গায় পয়সা দেবেন না। আমি কথা দিচ্ছি, ফাইল কোথাও আটকাবে না। আমাকে জানাবেন, ওমুক লোক ফাইল আটকে রেখেছে। আমি সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেব।’
করবান্ধব পরিবেশ দিয়ে ব্যবসায়ীদের প্রতি এনবিআরের সমর্থন থাকবে বলে তিনি জানান।
গোলাম হোসেন আরও বলেন, দুর্নীতির ক্ষেত্রে রাজস্ব কর্মকর্তাদের ঘুষ নেওয়ার দিকটি শুধু দেখলে হবে না, ব্যবসায়ীরা ঘুষ দেন, সেটাও বিবেচনায় আনতে হবে। তিনি জানান, এনবিআর এখন অবৈধভাবে আনা মার্সিজিড বেঞ্জ ও বিএমডব্লিউর মতো বিলাসবহুল গাড়িগুলো খুঁজছে। এসব কারা ব্যবহার করছেন, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গোলাম হোসেন জানান, যারা কর আদায় করে, তারা আগের চেয়ে অনেক কম দুর্নীতিগ্রস্ত। সর্বশেষ ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশালের প্রতিবেদনে প্রথম ১০টি দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কর বিভাগ নেই।
সবুর খান বলেন, এসএমই খাতে ২৪ লাখ টাকা পর্যন্ত টার্নওভার করমুক্ত সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এই সীমা আরও বাড়ানো উচিত।
সবুর খান মনে করেন, বড় বড় শিল্পগোষ্ঠী কিছু ছোট প্রতিষ্ঠান করে এসএমই খাতের সব সুবিধা নিয়ে যাচ্ছে। এতে সত্যিকার ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প-উদ্যোক্তারা বঞ্চিত হচ্ছেন।
রাজু আহমেদ বলেন, কুটিরশিল্প উদ্যোক্তাদের নিবন্ধনের জন্য যেতে হয় বিভাগীয় কর কমিশনারের কার্যালয়ে। আর অন্য উদ্যোক্তাদের যেতে হয় সহকারী কমিশনারের কার্যালয়ে। এই ধরনের বৈষম্যমূলক অসংগতি দূর করা উচিত।
আবদুর রাজ্জাক বলেন, এসএমই খাতে টার্নওভার আয় নিয়ে দুর্নীতি হয়। এই দুর্নীতি কমাতে টার্নওভার সীমা উঠিয়ে দেওয়া আর যন্ত্রপাতি স্থাপনের বিনিয়োগ সীমা আরও বাড়ানো উচিত।
রাজ্জাক প্রস্তাব করেন, এনবিআরের প্রজ্ঞাপনে ‘যদি’, ‘তবে’, ‘দাঁড়ি’, ‘সেমিকোলন’ ইত্যাদির ব্যবহার কমিয়ে সহজবোধ্য ভাষা ব্যবহার করা উচিত।
মূল্য সংযোজন প্রদান-প্রক্রিয়া আরও সহজ করার পরামর্শ দেন বিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি শাহেদুল ইসলাম হেলাল।
মূল প্রবন্ধ
মূল প্রবন্ধে বলা হয়, গত কয়েক বছরে কর দেওয়ার টার্নওভার সীমা বাড়ানোর ফলে উৎপাদন কমেছে। ২০০৯-১০ অর্থবছরে এই খাতে উৎপাদন ছিল ১১৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, ২০১০-১১ অর্থবছরে তা কমে হয়েছে ৯০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। অবশ্য গত অর্থবছরে উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১১৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা।
প্রবন্ধে এসএমই খাতের বিকাশে বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়। এগুলো হলো: এসএমই খাতের নিবন্ধন সহজ করা, টার্নওভারের পরিমাণ পুনর্নির্ধারন করা, সুবিধাভোগীদের যন্ত্রপাতি স্থাপনের বিনিয়োগ পরিমাণ পুনর্নির্ধারণ করা ইত্যাদি।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।
আপনার মতামত দিন