জনপ্রশাসন

আবারও পদোন্নতির উদ্যোগ

মোশতাক আহমেদ | তারিখ: ৩১-০১-২০১৩

  • ১৩ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

পর্যাপ্ত পদ না থাকলেও জনপ্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে আরও কয়েক শ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী মাসে (ফেব্রুয়ারি) এই পদোন্নতি দিতে পারে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
বর্তমান সরকারের মেয়াদের শেষ বছরে সম্ভাব্য এই পদোন্নতি ঘিরে জনপ্রশাসনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, আগের মতো এবারও আস্থাভাজনদের সুযোগ দেওয়া হতে পারে।
জানতে চাইলে জনপ্রশাসন সচিব আবদুস সোবহান সিকদার প্রথম আলোকে বলেন, আগামী মাসে পদোন্নতি দেওয়ার সম্ভাবনা আছে। তবে দিনক্ষণ এখনো ঠিক হয়নি।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, বর্তমানে উপসচিবের পদ আছে ৮৩০টি। এই পদে কর্মরত আছেন এক হাজার ৫৩১ জন। যুগ্ম সচিবের ৪৩০টি পদের বিপরীতে কর্মরত ৬২৩ জন। অতিরিক্ত সচিবের পদ ১০৭টি, কর্মরত ২৪৯ জন। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে উপসচিব, যুগ্ম সচিব ও অতিরিক্ত সচিব পদে ৬৪৯ জন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছিল। ফলে পদোন্নতি পেয়েও অনেক কর্মকর্তা আগের পদেই কাজ করছেন। তবে নিচের দিকের দুই পদ—জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব ও সহকারী সচিব (মাঠপর্যায়ে সহকারী কমিশনার) পর্যায়ে অনেক পদ শূন্য। জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব আছেন এক হাজার ৫৬৪ জন এবং সহকারী সচিব ৮৩২ জন।
মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, এই অবস্থায় উপসচিব, যুগ্ম সচিব ও অতিরিক্ত সচিব পদে আবারও পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে।
গত সোমবার সচিবালয়ে সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের (পদোন্নতির সুপারিশ করে এই কমিটি) বৈঠকে পদোন্নতির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠক সূত্র জানায়, বৈঠকে ভারপ্রাপ্ত সচিবদের পূর্ণ সচিব করার সুপারিশ করা হয়েছে। বর্তমানে ১৮ জন ভারপ্রাপ্ত সচিব রয়েছেন। তবে জনপ্রশাসন সচিব বলেছেন, বৈঠকে লাইন পদে অর্থাৎ প্রশাসন ক্যাডারের বাইরে অন্যান্য ক্যাডারের বিভিন্ন পদে পদোন্নতির সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, পদোন্নতির জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তর থেকে পদোন্নতি পাওয়ার যোগ্য কর্মকর্তাদের নাম সংগ্রহ করছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। প্রাথমিক তালিকাও প্রায় প্রস্তুত।
জানতে চাইলে সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার মতে, পদ অনুযায়ী পদোন্নতি হওয়া উচিত। তা না হলে সমস্যা বাড়বেই। তা ছাড়া নির্বাচন সামনে রেখে এ ধরনের পদোন্নতি দেওয়া ঠিক হবে না।’
জনপ্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের মনে হচ্ছে, নির্বাচন সামনে রেখে নতুন পদোন্নতিতেও অন্যান্য সময়ের মতো মেধা তালিকার পরিবর্তে সরকারের আস্থাভাজনেরাই অগ্রাধিকার পাবেন।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, পদোন্নতির পাশাপাশি বিভিন্ন জেলায় ডিসি (জেলা প্রশাসক) নিয়োগের জন্যও যোগ্যদের তালিকা তৈরি চলছে। শিগগির কিছু জেলায় নতুন ডিসি নিয়োগ করা হবে। উল্লেখ্য, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ডিসিরা রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পদেও পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা চলছে।
অভিযোগ আছে, পদোন্নতির জন্য নীতিমালা থাকলেও গত কয়েক বছর অধিকাংশ পদোন্নতি ও নিয়োগের ক্ষেত্রে তা অনুসরণ করা হয়নি। যোগ্য ও মেধা তালিকায় এগিয়ে থাকা অনেক কর্মকর্তাকেও পদোন্নতিবঞ্চিত করা হয়েছে।
সংসদীয় কমিটির সুপারিশ: জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব, উপসচিব, যুগ্ম সচিব ও অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে যাঁদের প্রয়োজনীয় নম্বর রয়েছে; কিন্তু কোনো বিরূপ মন্তব্য বা অন্য কোনো আইনগত বাধা নেই, তাঁদের পদোন্নতির বিষয়টি বিবেচনার জন্য সুপারিশ করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির করা একটি উপকমিটি। গত ফেব্রুয়ারিতে পদোন্নতিবঞ্চিত হওয়ার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে করা ওই উপকমিটি তাদের প্রতিবেদন ২০ জানুয়ারি সংসদীয় কমিটিতে জমা দেয়। প্রতিবেদনে যুগ্ম সচিব থেকে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতির জন্য বর্তমানের ৮৫ (১০০ নম্বরের মধ্যে) নম্বরের স্থলে ৮৮ করা, পদোন্নতির বেলায় পর পর দুবার বিবেচিত না হলে তাঁকে আর বিবেচনায় না আনার সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া কমিটি গত ফেব্রুয়ারিতে যোগ্য হয়েও বঞ্চিত হওয়া কর্মকর্তাদের পদোন্নতির জন্য বিবেচনা করতে সুপারিশ করেছে।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।

Md. Sharif Hasan Limon

Md. Sharif Hasan Limon

২০১৩.০১.৩১ ০৯:২৪
ট্যাক্সের টাকার দলীয় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন। জনগণ বান্ধব সরকারের আশা মরীচিকাই রয়ে গেল!

sharif

sharif

২০১৩.০১.৩১ ১০:২৮
Good decision for coming election

Arafat Mahmud

Arafat Mahmud

২০১৩.০১.৩১ ১০:৩৮
সরকারের nutral নিরবাচন কেমন হতে পারে তার আগাম আভাস পেলাম।

Tara Mian

Tara Mian

২০১৩.০১.৩১ ১১:০০
দলীয় যখন প্রশাসন।
নিরপেক্ষ নির্বাচন তখন কেবলই প্রহশন।

মাহতাব হোসেন # বাউফল # পটুয়াখালী #

মাহতাব হোসেন # বাউফল # পটুয়াখালী #

২০১৩.০১.৩১ ১১:৫০
একই প্রজাতন্ত্রের চাকুরে, কেউ সরকারী কর্মকর্তা আর কেউ সরকারী কর্মচারী। সরকারী কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দিতে গিয়ে উচ্চতর পদের শূন্য পদসংখ্যা বিবেচনায় নেয়া হয় না, প্রশাসনে জট লাগুক আর স্বাভাবিক ছন্দ বজায় থাকুক, তাদের পদোন্নতি দিতেই হবে ; আর সরকারী কর্মচারীদের পদোন্নতি দিতে গিয়ে উচ্চতর পদ শূন্য আছে কিনা তাতো দেখা হয়ই, তারপরও দেখা যায়, অসংখ্য পদ বছরের পর বছর শূন্য থাকার পরও তারা পদোন্নতি দেয়া হয় না। এমনও দেখা গেছে, কোন এক ব্যক্তি যে পদে চাকরি আরম্ভ করেছেন, বেদনা-ভরা হৃদয়ে, সেই পদটিকেই আলোকিত করতে করতে, অবসরে যাওয়ার সময়ও তিনি উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছায় সেই পদেই সমাসীন আছেন, দীর্ঘ চাকরি-জীবনে পদোন্নতির সোনার হরিণ তার আর ধরা হয়নি।
সরকারের কাছে ওরা আবেদন করবেন কি, ওরা তো আর সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না, সরকারকে তো নিয়ন্ত্রণ করেন সরকারী কর্মকর্তারা, বিশেষ করে প্রশাসনিক কর্মকর্তারা ; ওদের দুঃখগাথা প্রশমনের জন্য আসলে কেউই নেই।

Zaheed Hasan

Zaheed Hasan

২০১৩.০১.৩১ ১১:৫৫
উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়েই পর্যাপ্ত পদ না থাকলেও জনপ্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে আরও কয়েক শ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার । ভোটে জয় লাভ করার কারসাজি করার চেষ্টা মাত্র ।

২০১৩.০১.৩১ ১১:৫৫
শেখ হাসিনা নিরপেক্ষ নির্বাচনের ছক আকঁছেন

Musabbir

Musabbir

২০১৩.০১.৩১ ১২:৫২
সরকার হয়ত বুঝে গেছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দিতেই হবে, তত্ত্বাবধায়ক দিলেও যেন সেটিং পরিবর্তন না হয় অর্থাদ নকশা যেন ঠিক থাকে তাই এই প্রশাসনিক পরিবর্তন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উচিত হবে লতিফুর রহমানের মত এসেই সাজানো সেটিং পরিবর্তন করে দেওয়া।

বাবুল করিম

বাবুল করিম

২০১৩.০১.৩১ ১৩:১৮
কী মজার ব্যপার!!! আমরা কত কষ্ট করে আয় করে তার উপর ট্যাক্স দেই আর এই টাকা এভাবে(বাপের সম্পত্তি মনে করে) ব্যবহার করে। জেগে ওঠো, যুব সমাজ- প্রতিরোধ গড়ে তোল এখনই।

Md.Ashraful Alam

Md.Ashraful Alam

২০১৩.০১.৩১ ১৩:৪৫
This is the layout for upcoming neutral election.. our prime minister is the main architect of this layout...
This layout is national hope.. So highly request to media don't making any disturbance.

mahfuza bulbul

mahfuza bulbul

২০১৩.০১.৩১ ১৪:৫৯
আহা !এভাবে আস্থাভাজনদের যথেচ্ছা পদোন্নতি না দিলে সরকারের পদ স্থায়ী হবে কী করে !
২০১৩.০১.৩১ ১৯:১৭
Stop partism.
২০১৩.০১.৩১ ২১:৩৯
আমলার হামলা। দেখায় এক জায়গায় মারে অন্য জায়গায়। পদ না থাকা সত্ত্বেও গণপ্রোমশনের জন্য রাজনৈতিক সরকারকে দায়ী করা হচ্ছে। অথচ গোপনে অন্য বুঝ দিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে পদ না থাকা সত্ত্বেও প্রমোশন আদায় করা হচ্ছে। চেয়ার থাকুক বা না থাকুক প্রোমশনের সুবাদে বেতন-ভাতা বেশী পাওয়ার স্বার্থে আমলারা একাট্টা। কিন্তু অন্য ক্যাডারের বেলায় পদ নেই এই অজুহাতে মান্যবর এই আমলারাই মন্ত্রনালয় বসে ফাইল আটকিয়ে রাখে। নিজেদের বেলায় এক নিয়ম; অন্যদের বেলায় আলাদা - আর কতদিন দেখব এই গোলক ধাধা।