পোশাক কারখানায় আগুন
১৩ নম্বর কবরটিই তাঁর মেয়ে সোমার
মেয়ের কবরের সামনে দাঁড়িয়ে অঝোরে কাঁদছিলেন বকুল মিয়া। গত ২৪ নভেম্বর আশুলিয়ার তাজরীন ফ্যাশনসে আগুন লাগার ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন মেয়ে সোমা। অঙ্গার হয়ে যাওয়া প্রতিটি লাশ উল্টেপাল্টে দেখেও বকুল মিয়া চিনতে পারেননি নিজের মেয়েকে। ডিএনএ পরীক্ষার সুবাদে এত দিনে মেয়ের কবর কোনটি, তা নিশ্চিত হতে পারলেন।
জাতীয় ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরি ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাজরীনের ঘটনায় নিহত ৩৭ জনের লাশ শনাক্ত করেছে। গত মঙ্গলবার এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর গতকাল মেয়ের লাশের (১৩ নম্বর) নম্বর সংগ্রহ করে বকুল মিয়া জুরাইন কবরস্থানে যান। তাঁর মতো আরও ১৩ জন গতকাল প্রথমবারের মতো স্বজনের কবরের সামনে দাঁড়িয়ে দোয়া করেছেন আর কেঁদেছেন।
গত মঙ্গলবার শ্রম মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দেন ল্যাবরেটরির প্রধান শরীফ আক্তারুজ্জামান। লাশের সন্ধানে আসা স্বজনের ডিএনএর সঙ্গে নম্বর অনুযায়ী লাশের ডিএনএ মেলানো হয়েছে। যেমন, শিশু সিয়ামের ডিএনএর সঙ্গে ৫০ নম্বর লাশের ডিএনএ মিলেছে। মা মেরিনার খোঁজে ডিএনএ নমুনার জন্য রক্ত নেওয়া হয়েছিল তিন মাসের সিয়ামের শরীর থেকে। কাজেই ৫০ নম্বর লাশটি তার মা মেরিনার।
১১টি লাশের সন্ধানে কেউই আসেননি। এই ১১ জনের বিষয়ে শ্রম মন্ত্রণালয়ের সচিব মিকাইল শিপার প্রথম আলোকে বলেন, সম্ভবত এঁরা পরিবার থেকে কিছুটা বিচ্ছিন্ন থাকতেন। ঈদের সময়ও যখন এঁরা বাড়ি ফিরবেন না, তখন এঁদের পরিবার খোঁজ করতে আসবে, এমনই আশা করা হচ্ছে। এঁদের জন্যও ডিএনএ পরীক্ষার সুযোগ থাকবে।
ল্যাবরেটরির তালিকা ছাড়াও শ্রম মন্ত্রণালয় ডিএনএ নমুনাদাতা ও তাঁরা কোন মৃত ব্যক্তির সন্ধান করছেন, সেই তথ্যসংবলিত একটি তালিকা করেছে। এ দুই তালিকা মিলিয়ে ৩৫টি লাশের পরিচয় জানা গেছে। আর বাকি দুটি নিয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে। এর মধ্যে রংপুরের গঙ্গাচড়ার বাবুল মিয়ার তিন মেয়ে লাইলী, লাভলী ও পপি নিখোঁজ রয়েছেন। কিন্তু বাবুল মিয়ার নমুনার সঙ্গে মিলেছে মাত্র একটি লাশের ডিএনএ। লাশটি কোন মেয়ের, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ডিএনএ ল্যাবরেটরির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আবেদ আলী নামে একজন পিতা নিখোঁজ সন্তানের জন্য ডিএনএ দিয়েছেন। তাঁর ডিএনএ মিলিয়ে একটি লাশও শনাক্ত হয়েছে (লাশ নং-৪৫)। তবে মন্ত্রণালয়ের তালিকায় আবেদ আলীর নাম নেই।
পরিচয় মিলল যাঁদের: শনাক্ত হওয়া বাকি ৩৫ জন হলেন: জেসমিন আক্তার শারমিন (পিতা আলী আকবর), রাশিদা খাতুন (পিতা শুক্কুর আলী গাজী), রূপালী খাতুন (স্বামী কছিমউদ্দীন), ববিতা (পিতা লুৎফর রহমান), মেরিনা (স্বামী রুহুল আমিন), হাবিবুর রহমান (পিতা মোশাররফ হোসেন), নুরুন্নেসা (স্বামী সিরাজুল ইসলাম), তারা বানু (স্বামী মৃত আবদুর রব), লাকী বেগম (পিতা রুহুল আমিন সর্দার), এমিলি বেগম মরিয়ম (স্বামী আবদুল মালেক ফরাজী), শাহিদা (স্বামী দুলাল মিয়া), মাকসুদা (স্বামী আনসার আলী), রায়হানা বেগম (স্বামী আনছার আলী), নার্গিস বেগম (পিতা মো. ইলিয়াস), রোকসানা (স্বামী জিয়াউল ইসলাম), নিলুফা (স্বামী হেলাল মিয়া), সিরাজুল ইসলাম (পিতা আনারুল ইসলাম), নাজমা (পিতা আবদুল মালেক), ফাতেমা বেগম (পিতা ইউনুস মিয়া), হামিদা বেগম (স্বামী রেজাউল শেখ), সান্ত্বনা বেগম (পিতা ছলিমউদ্দীন), জান্নাতুল (স্বামী মৃত শাহীন মিয়া), শাহীন মিয়া (পিতা মৃত শাহাবুদ্দীন মিয়া), সোমা আক্তার (পিতা বকুল মিয়া), পাপিয়া (পিতা আবদুল হেলিম), মুক্তা খাতুন (পিতা মোক্তার), ইয়ানুর (স্বামী মোজাম্মেল হক), রেহেনা (স্বামী আনোয়ারুল ইসলাম ফারুক), রেহেনা (স্বামী মঞ্জুরুল), তাসলিমা (স্বামী কামালউদ্দীন), লিপি (স্বামী আকরাম), আতিক (পিতা আবদুল লতিফ), শাহনাজ খাতুন (স্বামী আতিয়ার রহমান), আমেনা খাতুন (স্বামী শেখ খলিল) ও জাহেদা (স্বামী নাজিমউদ্দীন)।
বাবা-মায়ের খোঁজ পেল জাকারিয়া-সুমাইয়া: প্রথম শ্রেণীতে পড়া জাকারিয়া ও চতুর্থ শ্রেণীর সুমাইয়া রংপুরের মিঠাপুকুরের লতিফপুরে নানা-নানির সঙ্গে থাকে। তাদের বাবা শাহীন মিয়া আর মা জান্নাতুল দুজনেই তাজরীনে চাকরি করতেন। আগুন লাগার পর থেকে তাঁরা নিখোঁজ ছিলেন। বাবা-মায়ের খোঁজে জাকারিয়া ডিএনএ নমুনা দিয়েছিল। সেই নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে শনাক্ত করা হয়েছে তাঁদের লাশ।







golam
২০১৩.০১.৩১ ১১:৩৬Mahamud rony
২০১৩.০১.৩১ ১১:৩৮Runa Rahim Sheikh
২০১৩.০১.৩১ ১২:০৯