শাজাহানপুর উপজেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়

পিয়ন ইউসুফের বাড়ি গাড়ি ফ্ল্যাট জমি

দুপচাঁচিয়া (বগুড়া) প্রতিনিধি | তারিখ: ৩১-০১-২০১৩

  • ০ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের পিয়ন ইউসুফ আলী এখন কোটিপতি। তাঁর দুটি বাড়ি, দুটি ফ্ল্যাট, প্রায় ৪০ বিঘা জমি, চারটি ট্রাক ও দুটি মাইক্রোবাস রয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাঁর ব্যাপারে তদন্ত শুরুর পর এক বছরে তিনি জমি, একাধিক বাড়ি ও চাতাল বিক্রি করে দিয়েছেন।
১৯৯০ সালে দৈনিক তিন টাকা মজুরিতে কাজ করা ইউসুফ ১৯৯৫ সালে দুপচাঁচিয়া উপজেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে খণ্ডকালীন পিয়নের চাকরি পাওয়ার পর থেকেই তাঁর উত্থান শুরু হয়।
দেড় কোটি টাকার সম্পদের তথ্য গোপন ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ইউসুফ আলীর বিরুদ্ধে দুদক বগুড়া জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ফারুক আহমেদ বাদী হয়ে ২৩ জানুয়ারি বগুড়া সদর থানায় মামলা করেন। ইউসুফ উপজেলার চামরুল ইউনিয়নের ছোট কোলগ্রামের মৃত আবদুস সাত্তারের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯০ সালে দুপচাঁচিয়া উপজেলা সদরের দই তৈরির একটি কারখানায় দৈনিক তিন টাকা মজুরিতে কাজ নেন ইউসুফ। ১৯৯৫ সালে দুপচাঁচিয়া উপজেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে খণ্ডকালীন পিয়নের কাজ পান।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ইউসুফ কয়েক বছর ধরে গ্রামে পৈতৃক জমিতে একটি দোতলা বাড়ি করেন। এ ছাড়া তিনি চারটি ট্রাক, দুটি মাইক্রোবাস, দুপচাঁচিয়া উপজেলা সদরের সরদারপাড়ায় একটি চারতলা বাড়ি, পূর্বপাড়ায় একটি দোতলা বাড়ি, চামরুল ইউনিয়নে প্রায় ৪০ বিঘা জমি ও ধাপ সুলতানগঞ্জে একটি চাতালের মালিক হন। বগুড়ার উপশহরে তাঁর একটি পাঁচতলা বাড়ি ও জামিল নগরের জান-ই-সাবা হাউজিং এলাকায় একটি ছয়তলা বাড়ি রয়েছে। বগুড়ার কামারগাড়ী এলাকার রেডিলাইট কমপ্লেক্সে তাঁর দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে।
গত বছর তিনি চাতাল ও দুপচাঁচিয়ার দুটি বাড়ি বিক্রি করে দেন। জান-ই-সাবা হাউজিং অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম জানান, ইউসুফ তাঁদের হাউজিংয়ে জায়গা কিনে ছয়তলা ভবন করেছেন। এ ছাড়া ওই ভবনের পাশের ৫ শতাংশ জায়গা সমপ্রতি এক ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করেন তিনি।
চামরুল ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ফজলুর রহমান গতকাল মঙ্গলবার জানান, ইউসুফ এই ইউনিয়নে অনেক জমি কিনেছেন। এর মধ্যে ২৫ থেকে ২৮ বিঘা জমি তাঁর নামে নামজারি করে নিয়েছেন।
দুপচাঁচিয়া মিনি ট্রাক চালক সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি মাহফুজুর রহমান ও দুপচাঁচিয়া কার-মাইক্রোবাস চালক সমিতির সাবেক সভাপতি সোহেল মাহমুদ জানান, এখানে ইউসুফের দুটি মিনি ট্রাক, দুটি ট্রাক ও দুটি মাইক্রোবাস ছিল। এখন ওই সব বগুড়ায় চলাচল করে।
এ ব্যাপারে ইউসুফ আলীর সঙ্গে তাঁর মুঠোফোনের তিনটি নম্বরে যোগাযোগ করা হলে সেগুলো বন্ধ পাওয়া গেছে। শাজাহানপুর উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, ইউসুফ দুই দিন ধরে অফিস করছেন না।
শনিবার ইউসুফের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে তাঁর ভাই আবদুল মান্নান ও ইয়াকুব আলীর সঙ্গে দেখা হয়। কিন্তু ইউসুফের ব্যাপারে তাঁরা কোনো কথা বলতে রাজি হননি।
ছোট কোলগ্রামের আজাহার আলী (৮৩) জানান, ইউসুফের বাবার আমলে বাড়ির ভিটেমাটি ছাড়া কিছুই ছিল না। তাঁর বাবা অন্যের বাড়িতে কামলা দিয়ে সংসার চালাতেন। তিনি এই গ্রামে প্রায় ৪০ বিঘা জমি কিনেছেন।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।
আপনার মতামত দিন