মেয়রের ক্ষমতার দাপট

বাগমারা (রাজশাহী) প্রতিনিধি | তারিখ: ৩১-০১-২০১৩

  • ০ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

রাজশাহীর বাগমারার তাহেরপুরের পৌর মেয়র এক ব্যক্তির বাড়িঘর ভাঙচুর করে তাঁর জমি দখল করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তাহেরপুর পৌর এলাকায় করুণা শঙ্কর রায় নামের এক ব্যক্তির বসতঘরসহ ২৩ শতক জমি কেনেন পুঠিয়া উপজেলার বাসিন্দা আবদুস ছালাম। জমিটি বিক্রি করে এক সপ্তাহ আগে করুণা শঙ্কর ভারতে চলে যান। ২৯ জানুয়ারি আবদুস ছালামের ভাই ও পরিবারের সদস্যরা ওই বাড়িতে ওঠেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই দিন দুপুরে তাহেরপুরের পৌর মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ ৪০-৫০ জন লোক নিয়ে ওই বাড়িতে যান। ওই বাড়ির জমি সরকারি দাবি করে মেয়র তাঁদের বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন। বাড়ি ছাড়তে রাজি না হওয়ায় মেয়র ও তাঁর লোকজন বাড়িঘর ভাঙচুর করে জায়গাটি দখল করেন।
এ ঘটনায় ওই রাতে জমির ক্রেতা আবদুস ছালামের ভাই দুলাল হোসেন মেয়রের বিরুদ্ধে মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা না নিয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে।
বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘মালিকানার বিষয় নিশ্চিত না হওয়ায় মামলা নেওয়া হয়নি। তাঁদের আদালতে মামলা করার পরামর্শ দিয়েছি।’
জমি দখল করার কথা স্বীকার করে মেয়র আবুল কালাম আজাদ বলেন, জমিটি খাস হওয়ায় বাড়িঘর উচ্ছেদ করে তা বাজারের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। খাসজমি হলে এত দিন কেন তা উচ্ছেদ করা হয়নি এবং তা দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগ থাকার পরও তিনি কেন তা দখল করলেন এমন প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, জমিটি না কেনার জন্য তিনি সবাইকে বলেছিলেন। তাই এলাকার কেউ কেনেননি। পুঠিয়ার লোক জমিটি গোপনে কিনেছেন।
জমির মালিক আবদুস ছালাম বলেন, তিনি করুণা শঙ্করের কাছ থেকে জমিটি কিনেছেন। খাস হলেও তা উচ্ছেদের একটা প্রক্রিয়া রয়েছে। তা মানা হয়নি।
বাগমারায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) না থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, তাদের কাছ থেকে কোনো অনুমতি না নিয়ে মেয়র কাউকে উচ্ছেদ করতে পারেন না।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।
আপনার মতামত দিন