হেনার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ
অধিকাংশ আসামি পলাতক হুমকিতে আতঙ্কে পরিবার
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার চামটা গ্রামে ধর্ষণের পর দোররায় মৃত্যু হওয়া কিশোরী হেনা আক্তারের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ ৩১ জানুয়ারি। হেনা হত্যা ও ধর্ষণ মামলার এজাহারভুক্ত অধিকাংশ আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় এবং কয়েকজন জামিনে থাকায় আতঙ্কে দিন কাটছে তার পরিবারের সদস্যদের।
হেনার মা আকলিমা বেগম বলেন, ‘হেনার মৃত্যুর শোক বুকে নিয়ে বেঁচে আছি। হেনাকে নির্যাতনের কথা মনে হলে এখনো আঁতকে উঠি। ভয় আর আতঙ্ক নিয়ে আমাদের প্রতিটি দিন কাটছে। অপরাধীদের শাস্তি হবে এ আশায় আছি।’
আদালত সূত্র জানায়, হেনা হত্যা ও ধর্ষণ মামলার এজাহারে ১৮ জনকে আসামি করা হয়। এজাহারে নাম না থাকা আরও আটজনকে অন্তর্ভুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। আসামিদের মধ্যে জামিনে আছেন ছয়জন। তাঁরা হলেন রবিউল খান, মোর্শেদা বেগম, লতিফ মীরমালত, জৈনউদ্দিন মীরমালত, হাসান মীরমালত, মফিজ উদ্দিন তালুকদার। ছয়জন শরীয়তপুর কারাগারে আছেন।
পলাতক ১৪ জন হলেন, আক্কাছ মীরমালত, ইয়াছিন মীরমালত, দিল মোহামঞ্চদ, জামাল শিকদার, আবদুল হাই মীরমালত, জাহানারা বেগম, মনিমালা বেগম, শাহেদ তালুকদার, হাসেম মীরমালত, জলিল মীরমালত, জমসেদ মীরমালত, নিপু খান, আনোয়ার হোসেন ও নূর মোহাম্মদ।
হেনার বাবা দরবেশ খান বলেন, ‘অনেক আসামি জামিনে ছাড়া পেয়ে আমাদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। আমরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি।’
জামিন পাওয়া রবিউল খান বলেন, ‘আমরা কোনো রকম ভয়ভীতি দেখাইনি। আইনে যা হবে আমরা তা মেনে নেব।’
জেলা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মীর্জা হজরত আলী বলেন, বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে আদালত তাগিদ দিয়েছেন। খুব শিগগির বিচার কার্যক্রম শুরু হবে।
পুলিশ সুপার টুটুল চক্রবর্তী বলেন, হেনার পরিবারের সদস্যদের শঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। পুলিশ পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে।
হেনার পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, হেনা আক্তার ২০১১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ধর্ষণের শিকার হয়। ২৪ ফেব্রুয়ারি রাতে সালিসে ফতোয়া দিয়ে তাঁকে দোররা মারা হয়। দোররার আঘাতে আহত হেনা চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩১ জানুয়ারি মারা যায়। এ ঘটনায় ১ ফেব্রুয়ারি নড়িয়া থানায় তার বাবা ১৮ জনের নামে হত্যা মামলা করেন। ১১ ফেব্রুয়ারি হেনার মা আকলিমা বেগম ওই ১৮ জনের নামেই নড়িয়া থানায় ধর্ষণের একটি মামলা করেন। গত বছরের ৭ জুলাই পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দুটি মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেছে।
পাঠকের মন্তব্য
- আপনার মতামত দিন






