লোকালয়ে ইটের পাঁজা মরছে গাছপালা
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার উত্তর মিঠাখালী গ্রামে অবৈধভাবে পাঁজা স্থাপন করে ইট পোড়ানো হচ্ছে। পাঁজা থেকে বের হওয়া ধোঁয়ায় আশপাশের বসতবাড়ির বাগানের গাছপালা মরে যাচ্ছে।
পাঁচ বছর ধরে বহেরাতলা গ্রামের জাকির হোসেন এভাবে ইট পোড়াচ্ছেন। এলাকাবাসী প্রশাসনের কাছে বারবার অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছে না।
পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক সুকুমার বিশ্বাস জানান, ফসলি জমি ও জনবসতিপূর্ণ এলাকার তিন কিলোমিটারের মধ্যে ইটের ভাটা বা পাঁজা স্থাপন করা যাবে না। পরিবেশ অধিদপ্তর কাউকে পাঁজা স্থাপনের অনুমতি দেয় না।
গত শনিবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা গেছে, মঠবাড়িয়া-তুষখালী খালের পাশে ফসলি জমি ও জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ৬৬ শতাংশ জমিতে ইটের পাঁজা স্থাপন করা হয়েছে। এখন রোদে ইট শুকানোর কাজ শেষ হয়েছে। ইট পোড়ানোর জন্য কাঠ স্তূপ করে রাখা হয়েছে। পাঁজাটির উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্ব দিকে ২৫টি পরিবারের বসতবাড়ি এবং পশ্চিম দিকে ফসলি জমি।
উত্তর মিঠাখালী গ্রামের বাসিন্দা মাদ্রাসাশিক্ষক সিদ্দিকুর রহমান জানান, এখানে পাঁজাটি স্থাপন করায় ২৫টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চার-পাঁচ বছর ধরে শীত মৌসুমে এখানে ইট পোড়ানো হয়। পাঁজার চুলা থেকে বের হওয়া ধোঁয়ায় তাঁদের বাড়ির নারকেল, সুপারি ও আমগাছের ফুল ঝরে যায়। এতে এসব গাছে ফলন কমে যাচ্ছে। স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, কয়েক বছর ধরে এখানে ইট পোড়ানোর কারণে কয়েক শ সুপারি ও নারকেলগাছের চারা মরে গেছে।
পাঁজাসংলগ্ন বাড়ির মালিক ফুল মিয়া বলেন, ‘পাঁজাটি বন্ধ করা না হলে আমার বাড়ির গাছপালা বাঁচানো যাবে না। এটি বন্ধের জন্য বন ও পরিবেশমন্ত্রীর কাছে গত বছরের নভেম্বরে লিখিত অভিযোগ করেও কোনো ফল পাইনি। গত রোববার রাত থেকে এখানে ইট পোড়ানো শুরু হয়েছে।’
স্থানীয় মজিদ আকন জানান, তাঁর বসতবাড়ি ছাড়া কোনো জমি নেই। বাড়ির সুপারিবাগানটি তাঁর আয়ের একমাত্র উৎস। বাড়ির পাশে ইট পাঁজা স্থাপনের কারণে তাঁর বাগানটি ধ্বংসের পথে। ইট পাঁজার মালিক জাকির হোসেন দফাদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রসময় মণ্ডল জানান, ইটের পাঁজার নির্গত ধোঁয়ায় পরিবেশ দূষিত হয়। এতে গাছপালা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ফসলের উৎপাদন কমে যেতে পারে।
পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক অনল চন্দ্র দাস জানান, মঠবাড়িয়ার ওই ইটের পাঁজাটি ভেঙে দেওয়ার জন্য শিগগির অভিযান চালানো হবে।
পাঠকের মন্তব্য
- আপনার মতামত দিন






