‘জামায়াত-শিবির অউ কিতা শুরু করল?’
‘জামায়াত-শিবির অউ কিতা শুরু করল? সারা দেশও চোরাগোপ্তা হামলা চালাইতাছে। একাত্তরের রূপ বারঅর দেখা যার। ইতা পুলিশ ভালা কইরা সামাল দেয় না কেনে?’ কথাগুলো বলছিলেন দক্ষিণ সুরমা রেলস্টেশন এলাকার শ্রমজীবী হোসেন আলী।
গতকাল বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আলাপকালে হোসেন আলীর মতো একাধিক পেশাজীবী ও শিক্ষার্থী এ প্রতিবেদকের কাছে দেশব্যাপী জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের নৈরাজ্যের প্রতিবাদ জানিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যর্থতার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তাঁদের মতে, এ ধরনের নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি ঠেকাতে প্রশাসনকে আরও তৎপর হওয়া উচিত।
শিবগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী খায়রুজ্জামান কবীর বলেন, ‘জামায়াতের কর্মীরা যেভাবে লাঠিসোঁটা ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা করছে, এটা মেনে নেওয়া যায় না। এতে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ ছাড়া পুলিশের ওপর মারমুখী হওয়াটাও খুব দুঃখজনক।’
রায়নগর এলাকার বাসিন্দা অরুণ রায় বলেন, ‘জামায়াত-শিবির কখনোই মন থেকে এ দেশ মেনে নিতে পারেনি। তাই তারা নানা ছলচাতুরীতে দেশের বিরুদ্ধে সব সময় অপতৎরতা চালাচ্ছে।’ কলেজ শিক্ষার্থী শাহিনুর রব বলেন, ‘আমরা যারা তরুণ প্রজন্ম, তাদের প্রায় সবাই জানি, জামায়াত মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীনতার বিপক্ষে কাজ করেছে। তাই আমরা চাই এ অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। এতে তারা যতই অপতৎরতা চালাক না কেন, তা সরকারকে কঠোরভাবে দমন করতে হবে।’
সোনারপাড়া এলাকায় আলাপ হয় রিকশাচালক হাসমত মিয়ার সঙ্গে। তিনি জানান, মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বাঁচাতেই জামায়াত এ রকম ধ্বংসাত্মক পথ বেছে নিয়েছে। টিলাগড় এলাকার বাসিন্দা ইসমাইল উদ্দিন বলেন, ‘সম্প্রতি দেশব্যাপী জামায়াতের নৈরাজ্য দেখে মনে হচ্ছে, নিজেরাই আবার মাঠে নেমে পড়ি। কিন্তু আইন তো আর নিজের হাতে তুলে নিতে পারি না। তবে জামায়াত-শিবির বেশি বাড়াবাড়ি করলে একদিন দেখবেন শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষেরা ঠিকই মাঠে নেমে এদের প্রতিহত করছে।’ বাগবাড়ী এলাকার বাসিন্দা শহীদ আক্তার বলেন, ‘বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ এখনো মনেপ্রাণে অসাম্প্রদায়িক।
ধর্মকে ব্যবহার করে কোনো কাজ তারা হাসিল করতে চায় না। অথচ জামায়াত-শিবির ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনীতি করতে চাইছে। বাচ্চু রাজাকারের বিরুদ্ধে যে রায় এসেছে, এতে জামায়াত মুক্তিযুদ্ধে বিরোধিতা করেছে বলে উল্লেখ রয়েছে। এই অপরাধে দলটিকে রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ করা উচিত।’ লামাবাজার এলাকার স্কুলশিক্ষক নওশাদ মিয়া বলেন, ‘জামায়াতের এ ধরনের অপতৎপরতার কথা কেন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আগেভাগে জানতে পারছে না, এটাও খতিয়ে দেখা দরকার। তা ছাড়া পত্রপত্রিকা ও টিভি চ্যানেলে দেখছি পুলিশেরা বেদম মার খাচ্ছে, কেন? বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কি এতই দুর্বল যে তাদের প্রতিহত করতে পারছে না?’
পাঠকের মন্তব্য
- আপনার মতামত দিন






