নিকলীতে দিনে ১৪ ঘণ্টা লোডশেডিং
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের সরবরাহ পরিস্থিতি ভেঙে পড়েছে। বর্তমানে ২৪ ঘণ্টায় ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা লোডশেডিং চলছে। অব্যাহত লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য, কলকারখানা, দাপ্তরিক কাজকর্ম, ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়াসহ জনজীবনে স্থবিরতা নেমে এসেছে। বিশেষ করে আসন্ন ইরি-বোরো মৌসুমের শুরুতেই যেভাবে লোডশেডিং দেখা দিয়েছে, তাতে এবার সেচব্যবস্থা চরমভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
নিকলীর গুরুই ইউনিয়নের চেত্রা গ্রমের কৃষক আনসার আলী, কালাম মিয়া, জমির উদ্দিন ও হোসেন মিয়া বলেন, যেভাবে বিদ্যুতের লোডশেডিং বেড়ে চলছে, তাতে করে সামনের ইরি-বোরো মৌসুমে ধানের চাষ আদৌ করা যাবে কি না, তা নিয়ে তাঁরা গভীর চিন্তায় আছেন।
নিকলী অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মো. খালেদুজ্জামান খান বলেন, দুই ঘণ্টা পর বিদ্যুৎ আসে আবার ১০ মিনিট পর হঠাৎ চলে যায়। এতে করে কাজ করা যায় না। নিকলী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কারার বুরহান উদ্দিন বলেন, শীত মৌসুমেই এমন লোডশেডিং, গরমে কী হবে।
দামপাড়া কে এম উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. দেলোয়ার হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আর কয় দিন পর এসএসসি পরীক্ষা। দিনে-রাতে বিদ্যুতের যেভাবে লোডশেডিং চলছে, তাতে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া বিঘ্নিত হচ্ছে। চলতি মৌসুমে নিকলীতে ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। নিকলীতে ৪৬টি বিদ্যুৎচালিত ও দুই হাজার চারটি ডিজেলচালিত সেচপাম্প রয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি সমপ্রসারণ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম।
পল্লী বিদ্যুতের কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী সার্কেলের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মনির উদ্দিন মজুমদার বলেন, নিকলীতে ৩ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও জাতীয় গ্রিড থেকে কম সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে কিছুদিনের মধ্যে এ অবস্থার উন্নতি হবে এবং ইরি-বোরো মৌসুমে সেচকাজে কোনো সমস্যা হবে না।
পাঠকের মন্তব্য
- আপনার মতামত দিন






