কারাবন্দী আসামি পেলেন খাসজমি?
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার হাবিব খান নামের এক ব্যক্তি একটি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হয়ে ২০০৩ সাল থেকে ময়মনসিংহ কারাগারে বন্দী। কিন্তু কারাগারে থাকা অবস্থায় তাঁর স্বাক্ষর জাল করে খাসজমি পাওয়ার আবেদন করেন পরিবারের সদস্যরা। ওই আবেদনের আলোকে অন্যের নামে বন্দোবস্ত থাকা জমির ৫০ শতক তাঁকে ও তাঁর স্ত্রীকে দেওয়া হয়।
অভিযোগ উঠেছে, হাবিবের পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে উপজেলার দেওঘর ইউনিয়ন পরিষদের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন ওই অবৈধ কাজ করেছেন।
ভূমি কার্যালয় ও একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেওঘর ইউনিয়নের সাভিয়ানগর এলাকার বাসিন্দা আবদুল মজিদ খান ১৯৬১ সালের ২৮ জুলাই ১৩৫ টাকা সেলামির মাধ্যমে দেওঘর মৌজায় ৯০ শতক খাসজমি বন্দোবস্ত পেয়েছিলেন। তিনি মারা যাওয়ার পর তাঁর পরিবারের সদস্যরা জমিটি ভোগদখল করে আসছিলেন।
ওই জমির ৫০ শতক একই এলাকার হাবিব ও তাঁর স্ত্রীকে বন্দোবস্ত দিয়েছে দেওঘর ভূমি কার্যালয়। হাবিব খানের বাড়ি দেওঘর ইউনিয়নের সাভিয়ানগরে। ২০০৩ সালের শেষের দিকে তিনি সাজাপ্রাপ্ত হন। কারাগারে থাকা অবস্থায় দেওঘর ভূমি কার্যালয়ে ২০১০ সালের ১০ ডিসেম্বর হাবিব ও তাঁর স্ত্রীর নামে খাসজমি পাওয়ার আবেদন জমা পড়ে। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁদের দুজনকে জমি বন্দোবস্ত দেওয়া হয়। ওই বন্দোবস্ত বাতিলের জন্য মজিদ খানের নাতি নূরে আলম খান গত বছরের ৪ ডিসেম্বর কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন।
নূরে আলম খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘সাজাপ্রাপ্ত আসামির স্বাক্ষর জাল করে খাসজমি বন্দোবস্ত দেওয়ার ব্যাপারে সহকারী ভূমি কর্মকর্তা নাসির উদ্দিনের হাত রয়েছে।’
তবে, হাবিব খানের ছেলে হারুন খান দাবি করেন, ‘বন্দোবস্ত পাওয়া ভূমিটি দাদার আমল থেকে আমরা ভোগদখল করে আসছি। সবকিছু আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই হয়েছে।’ হারুন স্বীকার করেন, আবেদনে বাবা হাবিব খানের নাম থাকলেও তিনি এখন কারাগারে আছেন।
যোগাযোগ করলে সহকারী ভূমি কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘খাসজমি বন্দোবস্ত দেওয়ার এখতিয়ার উপজেলা খাসজমি বণ্টন কমিটির। এতে আমার হাত থাকার সুযোগ নেই।’
এ ব্যাপারে ওই কমিটির সভাপতি ও অষ্টগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. সাদেকুর রহমান বলেন, কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পাঠকের মন্তব্য
- আপনার মতামত দিন






