শিরোনাম:

অল্পস্বল্প

‘খেলোয়াড়েরা আগে কথা বলতে পারত’

ক্রীড়া প্রতিবেদক | তারিখ: ৩১-০১-২০১৩

  • ০ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook
জুয়েল রানা

জুয়েল রানা

খেলোয়াড়দের দুদিন অনুশীলন বর্জন। মাঠে দলের অবস্থা ছন্নছাড়া। মোহামেডান ফুটবল দল এখন নেতিবাচক কারণে খবর হচ্ছে বেশি। কেন এই দুর্দশা? নিজের অবস্থান থেকে বলছেন মোহামেডানের সহকারী কোচ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক জুয়েল রানা
 মৌসুমটা ভালোই শুরু করেছিল মোহামেডান। শেখ রাসেলকে হারিয়েছে ৩-১ গোলে। এখন মাঠে ও মাঠের বাইরে এত খারাপ অবস্থা কেন?
জুয়েল রানা: কারণ অবশ্যই আছে। আমার মনে হয়, খেলোয়াড়েরা নিজেদের ওপর চাপ নিয়ে নিয়েছে। টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যার সমাধান সম্ভব ছিল। বেতনের দাবিতে হঠাৎ করে খেলোয়াড়েরা দুদিন অনুশীলন বর্জন করল। এটা করার আগে তারা ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে আলোচনা করতে পারত।
 মোহামেডান কর্মকর্তারা বলছেন, খেলোয়াড়দের বকেয়া খুব সামান্যই। এ কারণে অনুশীলন বর্জনের নিন্দা করেছেন তাঁরা। আপনি কি বলেন?
জুয়েল রানা: ঘটনা যাই হোক, এটা অনভিপ্রেত। অনুশীলন বর্জনের প্রভাব মাঠের পারফরম্যান্সে কিছুটা হলেও পড়েছে। কাল (পরশু) ব্রাদার্সের কাছে মোহামেডান হেরেছে ৪-১ গোলে। কিছু খেলোয়াড় নার্ভাস ছিল। ক্লাবের সঙ্গে যে ঘটনাটা ঘটে গেছে, সেটি খেলোয়াড়েরা কাটিয়ে উঠতে পারেনি।
 খেলোয়াড়েরা দুদিন যেভাবে অনুশীলন বর্জন করলেন। ফুটবলের জন্য এটা কতটা নেতিবাচক বিজ্ঞাপন?
জুয়েল রানা: দেখুন, আমি হলে আগে কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতাম। আলোচনা ব্যর্থ হলে একটা অবস্থান নেওয়াই যেত। এটা সত্য, ফুটবলই খেলোয়াড়দের জীবিকা। কাজেই খেলোয়াড়েরা টাকা চাইবে এতে অন্যায় কিছু নেই। কিন্তু যে পথে ব্যাপারটা ঘটল, ফুটবলের জন্য ভালো হয়নি।
 আপনি দীর্ঘদিন খেলেছেন। মোহামেডানেই কেটেছে অনেকটা সময়। আপনার ক্যারিয়ারে এমন ঘটনা আছে?
জুয়েল রানা: এমন ঘটনা খুব একটা দেখিনি। ১৯৯৬ সালে ফেডারেশন থেকে সাতজন খেলোয়াড়ের পুল করে দেওয়া হয়। সে সময় আমরা মোহামেডানের সাত খেলোয়াড় কর্মকর্তাদের কাছে দাবি করি, অন্য দলে যাওয়ার সুযোগ না থাকায় আমাদের পুরো টাকা যেন আগে দেওয়া হয়। আমরা পুরো টাকা পেয়ে তবেই ক্লাবের অনুশীলনে যোগ দিই। সেটা ছিল ভিন্ন প্রেক্ষাপট। তবে এবারের এই ব্যাপারটা সম্পূর্ণ আলাদা।
 আপনি কোচিংয়ে এসে মাঝখানে চলে গিয়েছিলেন। আবার ফিরেছেন। খেলোয়াড়দের এই বিদ্রোহ দেখে আপনার নিজের মানসিক অবস্থাটা কেমন ছিল?
জুয়েল রানা: খুবই খারাপ। ব্যাপারটা আগে জানতাম না। ক্লাবে এসে শোনার পর খেলোয়াড়দের বললাম, তোমরা অফিশিয়ালদের সঙ্গে কথা বলো, অনুশীলন বর্জন ঠিক হচ্ছে না। পরের দিনও ওরা অনুশীলন করেনি। আরে, অনুশীলন করবে না কেন? অনুশীলন তো খেলোয়াড়ের নিজের জন্য। আমি নিজে কখনো অনুশীলন বয়কট করিনি।
 মোহামেডানের এই সংকটটা শুরু গোপালগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধার কাছে ৪-১ গোলে অবিশ্বাস্য হার দিয়ে। তিন ম্যাচের ব্যবধানে মোহামেডান আট গোল খেল। কী বলবেন?
জুয়েল রানা: তিন ম্যাচের ব্যবধানে আট গোল খাওয়া মোহামেডানের ইতিহাসে নেই বললেই চলে। মনে হচ্ছে, এটাও একটা ইতিহাস হলো। মুক্তিযোদ্ধা এবার যে মানের টিম, ওদের কাছে মোহামেডানের চার গোলে হার মেনে নেওয়া যায় না।
 ওই হারের পর খেলোয়াড়দের কারণ দর্শাও নোটিশ দিয়েছে ক্লাব। শোনা যাচ্ছে, খেলোয়াড়দের শাস্তি হতে পারে। এখন কী করা উচিত ক্লাবের?
জুয়েল রানা: আমরা ব্রাদার্সের কাছে হেরেছি ওরা সুযোগ তৈরি করে গোল করায়। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধার ম্যাচে আমরা গোল উপহার দিয়েছি। একই খেলোয়াড়ের ভুলে তিনটা গোল খেয়েছি। এটাই ছিল প্রশ্নবোধক। এখন ক্লাব কী করবে সেটা তাদের ব্যাপার। তবে পেছনে নয়, সামনে তাকানো উচিত।
 একটা কথা এখন অনেকেই বলেন, এখন আর ক্লাবপ্রেম বলে কোনো অনুভূতি নেই খেলোয়াড়দের। আপনি কি একমত?
জুয়েল রানা: এখন ফাইটিং টিমের সংখ্যা অনেক বেশি। যে ক্লাব পারিশ্রমিক দ্রুত দিচ্ছে, খেলোয়াড়েরা সেখানেই বেশি ভেড়ে। ক্লাবপ্রেমটা তাই আগের মতো নেই, এটা ঠিক। আরেকটা কথা বলব, খেলোয়াড়দের পেমেন্ট সমস্যার সমাধানে ক্লাব-খেলোয়াড়দের নিয়ে বসা উচিত ফেডারেশনের।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।
আপনার মতামত দিন