ছোট সফটওয়্যারশিল্পে বড় সম্ভাবনা: রিচার্ড সাইকেস
রিচার্ড সাইকেস
বাংলাদেশকে ব্র্যান্ডিং করতে পারেন এ দেশের তরুণেরা। বাংলাদেশের ছোট সফটওয়্যারশিল্পে বৃহত্তর সম্ভাবনা তাঁদের হাতে। এ রকম সম্ভাবনার কথা সম্প্রতি লেখা এক নিবন্ধে প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিবিশেষজ্ঞ, সমালোচক ও ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড সেন্টারের উপদেষ্টা রিচার্ড সাইকেস। তাঁর ভাষ্য, বাংলাদেশের ছোট সফটওয়্যারশিল্পে তিনি প্রচুর সম্ভাবনা দেখছেন। তাঁর বাংলাদেশ সফরের অভিজ্ঞতার আলোকে লেখা এ নিবন্ধে বাংলাদেশের প্রযুক্তি-উন্নয়নকে বিশ্লেষণ করেছেন তিনি। তাঁর মতে, বাংলাদেশ ঠিক পথেই আছে, তবে প্রয়োজন বাড়তি কিছু পৃষ্ঠপোষকতা আর উদ্যোগ।
নিবন্ধ
২০০৫ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত ছয়বার বাংলাদেশ সফর করেছি আমি, সর্বশেষ বাংলাদেশ ভ্রমণে গিয়েছিলাম চলতি মাসের শুরুর দিকে। বিশাল জনগোষ্ঠীর এ দেশটির ছোট সফটওয়্যারশিল্প বড় সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়ে এগিয়ে চলেছে। দেশটির জনসংখ্যা প্রায় ১৫ কোটি, যা যুক্তরাজ্যের প্রায় তিন গুণ। আন্তর্জাতিক সফটওয়্যার ও সেবার বাজারে নিজেদের শক্ত স্থান করে নেয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে দেশটি। ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড সেন্টারের (আইটিসি) একজন উপদেষ্টা হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থানটা কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে আমার। বিশ্ববাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) এবং জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন (ইউনসিটিএডি) শাখা এ কাজে আমাকে সহায়তা করেছে।২০০৫ সালে আমি সফর করেছিলাম বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) একজন অতিথি হিসেবে। বেসিসের সেসময়ের মূলমন্ত্র ছিল, ‘বাংলাদেশ: দ্য নেক্সট ইন্ডিয়া’। অবশ্য বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রেক্ষাপটটা ছিল ভিন্ন। যদিও বাংলাদেশে ইংরেজি ভাষা জানা দক্ষ তথ্যপ্রযুক্তি-কর্মীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছিল, তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ব্যবসার মডেলটা ছিল ভারতের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা।
ভারতের সবচেয়ে বড় সাফল্য হচ্ছে, তাদের সফটওয়্যার খাতে উইপ্রো ও টিসিএসের মতো আন্তর্জাতিক মানের ক্ষেত্র রয়েছে। যার ফলে প্রতিবছর সেখানে ১০ হাজারেরও বেশি তথ্যপ্রযুক্তিকর্মী নিয়োগ পান। অন্যদিকে, উন্নয়নশীল বাংলাদেশের মূল শক্তি হলো ক্ষুদ্র উদ্যোগ বা এসএমই। এটা হচ্ছে ছোট, নির্দিষ্ট ও দক্ষ একটি উদ্যোগ। বেসিসের অধীন ৮০০রও বেশি এমন উদ্যোক্তা রয়েছেন। ২০০৫ সালে আমি তর্ক করে বলেছিলাম, এঁরাই একদিন বড় শক্তি হয়ে দাঁড়াবেন। এঁদেরই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে ব্র্যান্ডিং করা উচিত।
২০০৫ সালে করা আমার সেই অনুমানের সার্থকতা এবারের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশ সফরে গিয়ে বুঝতে পেরেছি। ব্রেন স্টেশন-২৩ নামে এক সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করলাম এবার। সেখানকার প্রধান নির্বাহী রাইসুল কবির ২০০৫ সালে ফ্রিল্যানসার হিসেবে অনলাইনে কাজ শুরু করেছিলেন। সাফল্যের একপর্যায়ে আরও বন্ধুকে কর্মী হিসেবে নিয়োগ করেন তিনি এবং ২০০৬ সালে নিজেই কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। ৭০ জনেরও বেশি কর্মী নিয়ে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে তাঁর প্রতিষ্ঠানটি। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, এশিয়া—সব খানেই তাঁর গ্রাহক রয়েছে। ঢাকায় বসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান অ্যাপলের জন্য অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করছেন তিনি। আরও কাজ করছেন উইন্ডোজ, লিনাক্স, অ্যান্ড্রয়েড প্ল্যাটফর্মের অ্যাপ্লিকেশন তৈরিতেও।
শুধু রাইসুল কবিরই নন, ‘সার্ভিস ইঞ্জিন’ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে আবদুল মোনেম লিমিটেড গ্রুপ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এখানে ৭৫ জন দক্ষ পেশাদার কর্মী সফটওয়্যার ও মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন নিয়ে কাজ করছেন।
‘পজিশনিং বাংলাদেশ: ব্র্যান্ডিং ফর বিজনেস’ নামের একটি সম্মেলনে অংশ নিতে এবারে আমি দুদিনের জন্য বাংলাদেশে গিয়েছিলাম। এমনিতেই বিশ্বব্যাপী আর্থিক, রাজনৈতিক কারণে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ভালো নয়, এর পরও পজিশনিং বাংলাদেশ: ব্র্যান্ডিং ফর বিজনেস বাংলাদেশের বাণিজ্য খাতের ব্র্যান্ডিংয়ে আমূল পরিবর্তন আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করেছে।
আমার সঙ্গে সেখানে একই প্যানেলের সদস্য ছিলেন গ্রামীণ টেলিকমের সফটওয়্যার অপারেশনস বিভাগের জিপিআইটির প্রধান নির্বাহী রায়হান শামসি। তাঁর অধীনে বর্তমানে ৫০০টি সফটওয়্যার প্রকল্পের কাজ চলছে, যেগুলো দ্রুত বর্ধনশীল মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এ ছাড়া গ্রাফিকপিপল নামে বাংলাদেশের আরেক উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছে। তারা ডেনমার্কের অ্যাডপিপল নামের একটি গ্রাফিকস প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে কাজ করছে।
তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলাদেশের মেধাবীদের মান ও প্রতিযোগী মনোভাব নিয়ে আমি আগেও লিখেছি। ওডেস্ক ও ইল্যান্সের মাধ্যমে হাজার হাজার বাংলাদেশি ফ্রিল্যানসার প্রতিদিন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করছেন। বাংলাদেশের সফটওয়্যার রপ্তানি খাতের ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ ইতোমধ্যে এই ফ্রিল্যানসাররা সম্মিলিতভাবে দখল করেছেন।
বাংলাদেশকে একটি ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য এটি অবশ্যই খুব ভালো খবর। কিন্তু একে আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন। সে জন্য চলতি বছর জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন শাখার ‘ইউএনসিটিএডি’ প্রতিবেদনটি পড়ে দেখা দরকার। বৈশ্বিক সফটওয়্যার বাজার ও সেবার অর্থনীতির বিবেচনায় বাংলাদেশকে আরও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিতে হবে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীর খুব কম অংশই এখন শিল্প খাতে কাজ করছে। ফিলিপাইন বা থাইল্যান্ডে যেখানে প্রতি পাঁচজনে তিনজন সফটওয়্যার-সম্পর্কিত কাজে নিয়োজিত, সেখানে বাংলাদেশে এ সংখ্যা মাত্র প্রতি ১০ জনে একজন। বিপুল জনসংখ্যার একটি দেশের জন্য এ হার খুবই কম।
সম্ভাবনা আর মেধা কাজে লাগাতে হবে বাংলাদেশকে। বাংলাদেশ একসময় পারবেই, তা আমি নিশ্চিত। সে প্রতিজ্ঞা আমি তাদের মধ্যে দেখেছি আর সেই সম্ভাবনা আমাকে খুশি করেছে।
সাইকেসের নিবন্ধের লিংক (http://www.cio.co.uk/article/3416606/branding-bangladesh/)
রিচার্ড সাইকেস সম্পর্কে বিস্তারিত জানার লিংক (http://www.richard-sykes.com/index.htm)








২০১৩.০১.৩১ ১২:৩৯Md. Asadur Rahman, Chittagong
২০১৩.০১.৩১ ১৩:১১
২০১৩.০১.৩১ ১৩:২৩A Z Nasim Ratul
২০১৩.০১.৩১ ১৩:৪২Raysul Hasan
২০১৩.০১.৩১ ১৫:০১shovon kumar pramanik
২০১৩.০১.৩১ ১৫:৫১Jahra Jahan Pearlya
২০১৩.০১.৩১ ১৫:৫৪Jamshed Patwari
২০১৩.০১.৩১ ১৯:২১সাজিদ
২০১৩.০১.৩১ ২১:৪৫