ব্রাজিলের নৈশ ক্লাবের মালিকের আত্মহত্যার চেষ্টা

অনলাইন ডেস্ক | তারিখ: ৩১-০১-২০১৩

  • ২ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

ব্রাজিলের যে নৈশ ক্লাবে গত রোববার আগুন লেগে ২৩৫ জন মারা গেছেন, সেটির মালিক আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। এএফপির বরাত দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়, দেশটির পুলিশ গতকাল বুধবার ‘কিস’ নৈশ ক্লাবের মালিকের এ আত্মহত্যার চেষ্টার খবর নিশ্চিত করেছে।
এদিকে আগুন থেকে বেঁচে যাওয়া লোকদের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটছে এবং অনেকে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।
পুলিশ কর্মকর্তা লিলিয়ান কারুস বলেন, ক্লাবের মালিক এলিসান্দ্রো স্ফোর গোসলখানায় একটি প্লাস্টিকের শাওয়ার দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তবে এরপর তাঁকে উদ্ধার করে ক্রুজ আলতা শহরের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
কারুস বলেন, ‘তিনি যে ফাঁসিতে ঝুলতে চেয়েছিলেন, তা পরিষ্কার।’ একজন পুলিশ কর্মকর্তা স্ফোরকে হাসপাতালে দেখে এসেছেন বলেও জানান তিনি। নৈশ ক্লাবটিতে যথাযথ নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত না করার অভিযোগে পুলিশ স্ফোরসহ চারজনকে আটক করেছিল।
স্ফোরের চিকিত্সকেরা সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার পর তাঁদের রোগী কেবল কেঁদেই চলেছেন। মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন তিনি। তাই তাঁকে ঘুমের ওষুধ দেওয়া হয়েছে।
শান্তা মারিয়া শহরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা গত রোববার রাতে স্থানীয় এক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ওই ক্লাবে গিয়েছিলেন। পুলিশ বলছে, আহতদের মধ্যে ৭৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
শান্তা মারিয়া শহরের হাসপাতালের কর্মকর্তারা বলছেন, আগুনের ঘটনায় বেঁচে যাওয়া লোকজনের মধ্যে প্রায় ২০ জন ফুসফুসের সমস্যা নিয়ে চিকিত্সাধীন। সম্ভবত বিষাক্ত ধোঁয়া শ্বাসের সঙ্গে দেহে ঢুকে আহতদের ফুসফুসের ক্ষতি করেছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নেইয়ো পেরেইরা বলেন, এ ধরনের সমস্যা ঘটনার পাঁচ দিন পরও দেখা দিতে পারে।
গতকাল বুধবার ফুসফুসের সমস্যা ছাড়াও বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে মোট ১২৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
ক্লাবটির বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের তালিকা করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। ক্লাবটিতে জরুরি বাতির কোনো ব্যবস্থা ছিল না, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রগুলোও ছিল নষ্ট এবং ধারণ সংখ্যার চেয়ে বেশি লোক ভেতরে ঢুকানো হয়েছিল। ক্লাবটির অগ্নিনিরাপত্তা সনদের মেয়াদও ফুরিয়ে গিয়েছিল। আর বেরোনোর দরজাগুলোর মধ্যে মাত্র একটি ঠিক ছিল।
আগুন থেকে বেঁচে যাওয়া লোকেরা জানান, ওই একমাত্র দরজার সামনে কোনো নির্দেশনা লেখা ছিল না। দরজার সামনে এমন সব ধাতব জিনিসপত্র পড়ে ছিল, যাতে সেটি খুলে বের হওয়াও ছিল একটি জটিল কাজ। ক্লাবটির দারোয়ানেরা দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে রেখেছিল, যাতে কেউ বিল না দিয়ে বের হয়ে যেতে না পারেন।
ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে শান্তা মারিয়া শহরে বিক্ষোভ অব্যাহত আছে।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।
২০১৩.০১.৩১ ২০:০১
HELLO

Tonmoy

Tonmoy

২০১৩.০১.৩১ ২০:৩৮
বাংলাদেশে চলে আসেন! এখানে ৫০০ টা মরলেও কোনো অসুবিধা নেই, গায়ে ফু দিয়ে ঘুরে বেড়াবেন। আত্মহত্যা করতে যাবেন কেন!!