জীবনের প্রথম মিসড কল ও ৯৯
অলংকরণ: তুলি
চট্টগ্রাম কলেজে ভর্তি হওয়ার পুরস্কার হিসেবে বাবা আমাকে একটি মুঠোফোন কিনে দেন। এটা-সেটা ভাবতে ভাবতে সেদিন রাতে মুঠোফোন বালিশের পাশে রেখে ঘুমিয়ে পড়ি। রাতে স্বপ্নে দেখি, আমার ফোনে একটা মিসড কল আসে।
সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি, সত্যিই একটা মিসড কল! নম্বরটার শেষ দুটি ডিজিট হলো ৯৯। আমার নম্বরটার শেষ দুটি ডিজিটও ৯৯। সেটায় কল করলাম, কিন্তু রিসিভ করল না। ১৫ দিন পর আবার মিসড কল। এবার কল দেওয়া মাত্র রিসিভ করল, কিন্তু ওই প্রান্ত থেকে কোনো কথা বলল না।
মাস খানেক এভাবে চলতে থাকল। আন্তকলেজ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনালে ৯৯ রানে ব্যাট করছিলাম, কিন্তু মাইক্রোফোনে ৯৯ রান ঘোষণা দেওয়া মাত্র মনে পড়ে গেল মুঠোফোনের সেই নম্বরটার কথা। আর তখনই বোল্ড আউট হয়ে গেলাম!
দিন তিনেক পর আমার জন্মদিনে বাসার ঠিকানায় একটা গিফট বক্স এল। যাতে ছিল ৯৯ ধরনের চুইংগাম। বক্সটির প্রেরকের ঠিকানায় লেখা ছিল অধরা ও মিসড কলের সেই নম্বরটা। আর একটা চিরকুটে লেখা ছিল, ‘তোমার ওই মনটাকে একটা ধুলোমাখা পথ করে দাও, আমি পথিক হব।’ আমি তাড়াতাড়ি নম্বরটায় কল দিলাম, কিন্তু একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল।
এক বছর পর ইউনিভার্সিটির ভর্তি পরীক্ষায় আমার রোল নম্বর ছিল ২৯৫০০। আমার সামনে একটা মেয়ে ছিল, যার রোল নম্বর ছিল ২৯৪৯৯। অজানা কারণে আমি মেয়েটির সঙ্গে কথা বলার অনেক চেষ্টা করলাম, কিন্তু সে কোনো পাত্তাই দিল না। চার দিন তিন ঘণ্টা পর নম্বরটা থেকে একটা বার্তা পেলাম, যাতে লেখা ছিল, ‘দুঃখে আমার জন্ম, দুঃখময় জীবন, মৃত্যুতে আমার অবসান।’ যথারীতি আবার কল দিলাম, কিন্তু ফোনের ওই প্রান্ত থেকে কোনো শব্দ এল না। ওই দিনের পর থেকে আমি আর নম্বরটায় কোনোভাবে যোগাযোগ করতে পারিনি। কল করলেই মুঠোফোনে বলে, ‘আপনি যে নম্বরে কল করেছেন, সেটি এখন বন্ধ আছে, একটু পরে আবার চেষ্টা করুন।’
পাঠকের মন্তব্য
- আপনার মতামত দিন







সাইনইন
মন্তব্য প্রদানের জন্য সাইনইন করুন