তোর হইছে কী
স্নিগ্ধার প্রতি আমার বিশেষ অনুভূতি টের পেতে লাগলাম। যদিও ফোনে কথা বলি বন্ধুর মতোই, তবু যেন ফোন রাখার পর বারবার ওর কথাগুলো কানে বাজতে থাকে। একটু পর পর দেখি, মোবাইলে মেসেজ এল কি না, মিস কল এল কি না। এ রকম চলতে চলতে একদিন মনে হলো, নাহ্, স্নিগ্ধাকে এবার বলি ব্যাপারটা। তো, মোবাইলে মেসেজ লিখলাম ইয়া বড়। ১০ বার পড়লাম। তারপর পাঠিয়ে দিলাম। মেসেজের শেষাংশ ছিল এ রকম, ‘...স্নিগ্ধা, আমি জানি না, আমার মেসেজ পাওয়ার পর তোর রি-অ্যাকশন কী হবে। যদি উত্তর “হ্যাঁ” হয়, তাহলে প্লিজ মেসেজের রিপ্লে দে। আর যদি “না” হয় তাহলে একটা মিস কল দে।’
মেসেজটা সেন্ড করেই মনে পড়ল, আহ্ হা, এখন তো অনেক রাত। আর ও ঘুমায় ওর আম্মুর সঙ্গে...। এদিকে আমাকে আম্মু ডাকল। মোবাইলটা রেখে গেলাম আম্মুর ঘরে। একটু পর এসে দেখি একটা মিস কল! তার মানে? ওর উত্তর নেগেটিভ? মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল।
সকালে আর কলেজে গেলাম না। নদীর ধারে গেলাম। সবকিছুই খারাপ লাগতে লাগল। এমন সময় স্নিগ্ধার ফোন এল। ধরলাম না। ও ফোন দিয়েই যাচ্ছে। আমি রাগে মুঠোফোনটি দিলাম আছাড়। ১২ হাজার টাকার সেটটি আমার মতোই ভেঙে গেল। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ পেছন থেকে স্নিগ্ধা (নদী আমার প্রিয় জায়গা, এটা সে জানে) ডেকে উঠল, ‘শালা, তোর হইসে কী?’ আমাকে সে সব সময় এভাবেই ডাকে। অন্যদিন ভালো লাগলেও আজ খুব মেজাজ খারাপ হলো। বললাম, কিছু না। ও বলল, ‘ফোন ধরিস না ক্যান? আমি কতক্ষণ...’ কথা বলতে গিয়ে থেমে গেল। ভাঙা মোবাইলটা দেখে মধুমাখা কণ্ঠে বলল, ‘এই, কী হইছে তোর?’ আমি রেগে বললাম, ন্যাকামি করিস ক্যান? কাল রাতের কথা নিশ্চয়ই ভুলে যাসনি। আমার কথা শুনে সে হো হো করে হেসে উঠল। আমার কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা অনুভব করলাম ওর এই হাসিতে...। তারপর ও যেটা বলল, সেটার সারাংশ এ রকম: কাল রাতে ওর মোবাইলে টাকা ছিল না। মেসেজ দিতে পারেনি, তাই পে ফর মি কল দিয়েছিল, যাতে আমি কল ব্যাক করি। কিন্তু আমি আম্মুর কাছে গেছিলাম বলে ধরতে পারিনি। আর এটার খেসারত দিতে হলো আমার মোবাইলটা ভেঙে। মিস কল যে এত পাওয়ারফুল হতে পারে, সেটা বুঝলাম সেদিন থেকেই...।
পাঠকের মন্তব্য
- আপনার মতামত দিন







সাইনইন
মন্তব্য প্রদানের জন্য সাইনইন করুন