প্রধানমন্ত্রীর সফর

অন্য রকম রাঙ্গুনিয়া

ইব্রাহিম খলিল, রাঙ্গুনিয়া | তারিখ: ২৭-০১-২০১৩

  • ০ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

মোড়ে মোড়ে তোরণ। অভিনন্দন আর শুভেচ্ছার জোয়ার। চারদিকে উৎসবের আমেজ। প্রতিটি ইউনিয়নের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ছিল ভূরিভোজ। অন্য রকম দিন কাটাল রাঙ্গুনিয়াবাসী। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার রাঙ্গুনিয়া সফর উপলক্ষেই এ রকম মহা-আয়োজন। কর্ণফুলী পাটকল উদ্বোধন করতে গতকাল শনিবার রাঙ্গুনিয়ায় এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। ওই দিন বিকেলে রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে জনসভায় ভাষণ দেন তিনি।
১৩৪টি তোরণ: প্রধানমন্ত্রীর যাওয়ার পথে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের রাস্তার মাথা থেকে জনসভার মাঠ পর্যন্ত ১৩৪টি তোরণ তৈরি করা হয়। এর মধ্যে রাঙ্গুনিয়া অংশে রয়েছে ৭৯টি। ডিজিটাল ব্যানারের এসব তোরণে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন ও স্বাগত জানানো হয়। প্রায় প্রতিটি তোরণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবি ছাড়াও এলাকার সাংসদ এবং বন ও পরিবেশমন্ত্রী হাছান মাহমুদের ছবি শোভা পায়। এ ছাড়া সড়কের দুই পাশে ঘরবাড়ি ও দোকানপাটের দেয়ালে দেয়ালে সাঁটানো হয়েছে পোস্টার। তোরণ ছাড়াও জনসভাস্থলের আশপাশে টানানো হয়েছে কয়েক শ ব্যানার।
নেতা-কর্মীরা জানান, একটি তোরণে কমপক্ষে তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে নিজেদের খরচেই এ তোরণ তৈরি করেছেন তাঁরা।
নৌকামঞ্চ: প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় ভাষণ দেওয়ার জন্য রাঙ্গুনিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে তৈরি করা হয় দৃষ্টিনন্দন নৌকামঞ্চ। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক নৌকার আদলে করা এই মঞ্চ সবার দৃষ্টি কাড়ে। এটি তৈরি করে ঢাকার প্রতিষ্ঠান ‘অঙ্গকোট’। খরচ হয় প্রায় পাঁচ লাখ টাকা। রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর মোর্শেদ জানান, ৮০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৪০ ফুট প্রশস্ত নৌকামঞ্চটি নিরাপত্তা বাহিনীর দেওয়া নকশা অনুযায়ী তৈরি করা হয়েছে। মঞ্চসহ জনসভাকে ঘিরে গড়ে তোলা হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তাবেষ্টনী।
ভূরিভোজের আয়োজন: জনসভায় যোগদানের আগে উপজেলার প্রায় সব কটি ইউনিয়নের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ভূরিভোজের আয়োজন করেন নেতা-কর্মীরা। এতে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ হাজার মানুষ খেয়েছেন বলে জানা গেছে। পরে তাঁরা জনসভায় যোগ দেন।
রাঙ্গুনিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, উপজেলার ১৫ ইউনিয়নে ভূরিভোজের আয়োজন করা হয়েছে। ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে নেতারা এসব খাবারের আয়োজন করেন। খাবারের মধ্যে গরু, ছাগল ও মুরগির মাংস দিয়ে বিরিয়ানি তৈরি করা হয়।
পারুয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ইফতেখার হোসেন জানান, গরুর মাংস দিয়ে প্রায় দুই হাজার মানুষের জন্য বিরিয়ানি তৈরি করেন তাঁরা; যার খরচ দেন তিনিসহ কয়েকজন নেতা। খাবার খেয়ে তাঁরা জনসভায় যোগ দেন বলে জানান তিনি।
বাবার গানে ছেলের প্রাণ: ‘একবার দেখ না চাহিয়া যোগ্য প্রার্থী যোগ্য নেতা হাছান ভাইয়া, একবার দেখ না চাহিয়া উন্নয়নে পরিপূর্ণ আমার রাঙ্গুনিয়া।’ শিশুকণ্ঠে গাওয়া এ গানটি সাড়া ফেলেছে রাঙ্গুনিয়াবাসীর মনে। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে রাঙ্গুনিয়াজুড়ে এ গান গেয়ে প্রচারণা চালানো হয়। গানটি লিখেছেন পৌরসভার মুরাদনগর এলাকার আবুল কাসেম। গানটিতে সুর দিয়ে প্রাণ দিয়েছে তাঁরই ছেলে আবু জিহান ছিদ্দিকী ওরফে ইফতি।
আবুল কাসেম জানান, গান লেখায় তাঁর কোনো পারদর্শিতা নেই। উপজেলার উন্নয়নকাজে উদ্ধুদ্ধ হয়ে এ গানটি লেখেন তিনি। তাঁর ছেলে মুরাদেরঘোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র। সে সৈয়দবাড়ি মিনা সংগীত বিদ্যালয়ে গান শেখে। সে হিসেবে গানটিতে সুর দিতে পেরেছে তাঁর ছেলে।
কিছুটা ছন্দপতন, তার পরও খুশি: প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে প্রচারণা, নিরাপত্তা বাহিনীর পদচারণে গত কয়েক দিন ধরে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় কিছুটা ছন্দপতন হয়। তার পরও মানুষ খুশি অবহেলায় পড়ে থাকা অনেক কাজ এ যাত্রায় হয়ে গেছে। স্থানীয় লোকজন জানান, অবহেলায় যে কাজ গত চার বছরে হয়নি সে কাজ এখন হয়েছে।
রাঙ্গুনিয়া উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি রঞ্জন বড়ুয়া বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আগমনে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়েছে রাস্তাঘাট। প্রধানমন্ত্রী যদি বছরে একবার রাঙ্গুনিয়ায় আসতেন তাহলে খুব ভালো হতো!’

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।


সাইনইন

মন্তব্য প্রদানের জন্য সাইনইন করুন 

 
আপনার মতামত দিন