হতাশ ৫৫ হাজার লবণচাষি
কক্সবাজারে মাঠে উৎপাদিত লবণ বিক্রি হচ্ছে কেজি দুই থেকে তিন টাকায়। শৈত্যপ্রবাহের কারণে উৎপাদনেও নেমেছে ভাটা। এতে চাষিরা হতাশ। বর্তমানে জেলার আট উপজেলার প্রায় ৫৭ হাজার একর জমিতে ৫৫ হাজার চাষি লবণ উৎপাদন করছেন বলে বিসিক সূত্রে জানা যায়।
বিসিক কক্সবাজারের লবণশিল্প উন্নয়ন প্রকল্পের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. ওয়ালী উল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত মৌসুমের দেড় মাসে ৫৭ হাজার একর জমিতে এক লাখ ১৩ হাজার মেট্রিকটন লবণ উৎপাদিত হয়েছে। একই সময়ে গত বছর উৎপাদিত হয়েছিল মাত্র ৫৯ হাজার মেট্রিকটন। শৈত্যপ্রবাহ না থাকলে লবণ উৎপাদন আরও বাড়ত।
মো. ওয়ালী উল্লাহ বলেন, চাষিরা লবণ চাষ করেছেন মোটা অঙ্কের টাকায় জমি ইজারা নিয়ে। এখন দাম এতটা কমেছে যে তাঁরা খরচের টাকা তুলে আনতে পারছেন না। হতাশ অনেক চাষি এখন উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে কি না আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পেকুয়া উপজেলার সমুদ্র উপকূলীয় মগনামা এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সেখানে মাঠে উৎপাদিত প্রতিবস্তা সাদা লবণ ( ৮৬ কেজিতে এক বস্তা) বিক্রি হচ্ছে ২৬০ টাকায়। এ হিসাবে প্রতিকেজি লবণের দাম পড়ে তিন টাকা। কিন্তু বাজারে প্যাকেটজাত লবণ বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকায়। মাঠ থেকে কম দামে লবণ কিনে মধ্যস্বত্বভোগীরা চড়া দামে বিক্রি করছেন।
মগনামার চাষি আবদুল কাইয়ুম (৪৫) বলেন, ডিসেম্বরে মাঠে উৎপাদিত প্রতিকেজি লবণ বিক্রি হয়েছে চার টাকারও বেশি দরে। এ সময় মিয়ানমার থেকে চোরাইপথে লবণ আনার কারণে স্থানীয় লবণের দাম কমে সাড়ে তিন টাকায় নেমে আসে। ডিসেম্বরের শেষের দিকে তা তিন টাকায় গিয়ে দাঁড়ায়। অথচ প্রতিকেজি লবণ উৎপাদন করতে চাষিদের খরচ হয় চার টাকা ৪০ পয়সা।
মগনামার লবণ ব্যবসায়ী নুরুল কাদের (৫০) বলেন, স্থানীয় লবণের চাহিদা কমে গেছে। তাই তিন টাকার বেশি দরে লবণ কেনা যাচ্ছে না।
মগনামার মতো কুতুবদিয়া, মহেশখালী, টেকনাফ, চকরিয়া, পেকুয়া উপজেলার অন্তত ৭০টির বেশি গ্রামে ন্যায্যমূল্যে লবণ বিক্রি করতে পারছেন না ৪০ হাজারেরও বেশি চাষি। টেকনাফ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শফিক মিয়া বলেন, তাঁর উপজেলায় অন্তত ১০ হাজার চাষি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। মহেশখালী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবু বক্কর ছিদ্দিক বলেন, সরকার প্রতিকেজি লবণের বিক্রয়মূল্য চার টাকা নির্ধারণ করে দিলেও ব্যবসায়ীরা দুই থেকে তিন টাকায় লবণ কিনছেন। এ ব্যাপারে নজরদারির কেউ নেই।
বিসিক সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে ( ১ ডিসেম্বর থেকে ৩০ এপ্রিল ) জেলার প্রায় ৬৩ হাজার একর জমিতে ১৫ লাখ ২০ হাজার মেট্রিকটন লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশে লবণের বার্ষিক জাতীয় চাহিদা ১৫ লাখ ছয় হাজার মেট্রিকটন। কিন্তু এ পর্যন্ত ৫৭ হাজার একরে লবণ উৎপাদিত হয়েছে এক লাখ ১৩ হাজার মেট্রিকটন। ৫৫ হাজার প্রান্তিক চাষিসহ অন্তত পাঁচ লাখ মানুষ লবণ উৎপাদন, পরিবহনসহ বিভিন্ন কাজে এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত।
কক্সবাজার লবণচাষি সংগ্রাম পরিষদ সভাপতি আনোয়ার পাশা চৌধুরী বলেন, বিদেশ থেকে লবণ আনা বন্ধসহ চাষিদের সাত দফা বাস্তবায়নে সহসা তাঁরা মাঠে নামছেন।
পাঠকের মন্তব্য
- আপনার মতামত দিন







সাইনইন
মন্তব্য প্রদানের জন্য সাইনইন করুন