শেষ হলো মাইজভান্ডার দরবারের মিলনমেলা
হাজারো ভক্তের পদচারণে মুখর দরবার প্রাঙ্গণসহ আশপাশের এলাকা। জাতিধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সব সম্প্রদায়ের মানুষ মিলেমিশে একাকার। ১০৭তম ওরস উপলক্ষে এভাবে মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল ফটিকছড়ির আধ্যাত্মিক শরাফতের প্রবক্তা শাহছুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারির (ক.) দরবার শরিফ।
তিন দিনব্যাপী জিকির-আসকার, মিলাদ মাহফিল ও ২৩ জানুয়ারি গভীর রাতে দেশ ও জাতির অগ্রগতি ও কল্যাণ কামনা করে মোনাজাত পরিচালনার মধ্য দিয়ে শেষ হয় বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালার। এ সময় দুই হাত তুলে লাখো ভক্ত কান্নায় ভেঙে পড়েন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা ভক্ত ও মরমী শিল্পীরা জমিয়ে তুলেছেন ভান্ডারি গানের আসর। ঢাকার মিরপুর থেকে আসা শিল্পী নেজামুল করিম বলেন, ‘মাইজভান্ডার দরবার সব ধর্মের মানুষের তীর্থভূমি। এখানে এসে শান্তি পাই, তাই আসি।’
রওজা শরিফের কাছে দরদি কণ্ঠে গান গাইছিলেন কিশোরগঞ্জ থেকে আসা শিল্পী রেজিয়া বেগম। তিনি বলেন, ‘এ রকম মাহফিলে সামাজিক মর্যাদাসহ সব ভেদাভেদ ভুলে যান ভক্তরা। সবার সঙ্গে মিলে গান গেয়ে তৃপ্তি পাই।’
দরবারের চারপাশে দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বসেছিল মেলা। সেখানে কাঠ, বাঁশ-বেত ও মাটির তৈজসপত্র, ছুরি, দা, বঁটি, খুন্তিসহ নানা রকম খাবার এবং খেলনার জিনিস বিক্রি হয়েছে প্রচুর।
আঞ্জুমানে মোত্তাবেয়ীনে গাউছে মাইজভান্ডারি কেন্দ্রীয় কমিটির তত্ত্বাবধায়ক অধ্যাপক মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ওরসের আয়োজন নির্বিঘ্ন করতে দরবার কর্তৃপক্ষ, উপজেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, প্রকৌশল অধিদপ্তর ও পুলিশ বিভাগ একযোগে কাজ করেছে। ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ‘শান্তিপূর্ণভাবে ওরস সম্পন্ন হয়েছে। অস্ত্রধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকের পুলিশ এবং অন্তত দুই হাজার স্বেচ্ছাসেবক শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত ছিলেন।’
এদিকে, দরবার শরিফের প্রতিটি মঞ্জিল কর্তৃপক্ষ ভক্তদের তিন দিনব্যাপী থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেছে। রান্নার কাজে দুই হাজারের বেশি সহযোগী নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন অর্ধশতাধিক বাবুর্চি।
পাঠকের মন্তব্য
- আপনার মতামত দিন







সাইনইন
মন্তব্য প্রদানের জন্য সাইনইন করুন