শিরোনাম:

কক্সবাজার

তামাকের আগ্রাসন চলছেই

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার | তারিখ: ২৭-০১-২০১৩

  • ০ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

কক্সবাজার জেলার চার উপজেলায় থামছে না তামাকের আগ্রাসন। সদর, রামু, চকরিয়া ও উখিয়া উপজেলার অন্তত ১০ হাজার একর ফসলি জমিতে এখন চলছে তামাকের চাষ। বিশেষ করে মাতামুহুরী ও বাঁকখালী নদীর দুই তীরে ও পাশের সংরক্ষিত বনে তামাক চাষ হচ্ছে বেশি। এ নিয়ে প্রশাসনের কোনো তৎপরতা নেই।
১৮ জানুয়ারি রামু উপজেলার রাজারকূল, গর্জনিয়া, ফতেখাঁরকূল ও মিঠাছড়ি গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, হাজার হাজার একর ফসলি জমিতে তামাকের চাষ হচ্ছে। বাঁকখালী নদীর কচ্ছপিয়া ও গর্জনিয়া অংশেও ব্যাপকভাবে হচ্ছে তামাক চাষ।
রামু উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মুসরাত জাহান বলেন, চলতি মৌসুমে রামুর অন্তত নয়টি ইউনিয়নে পাঁচ হাজার একর জমিতে তামাকের চাষ হচ্ছে। আগে এসব জমিতে সবজির চাষ হতো। তামাক চাষের কারণে মুষ্টিমেয় কিছু লোক লাভবান হলেও শত শত কৃষক বেকার হয়ে পড়ছেন। সদর উপজেলার ঈদগাঁও এলাকার চাষি আমিন উল্লাহ (৪৫) বলেন, শীত মৌসুমে ফুলেশ্বরী নদীর দুই তীরের সরকারি জমিতে আলু, বেগুন, কপি, মূলা, টমেটোসহ শাকসবজির চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করত শতাধিক চাষি পরিবার। এখন ওই জমি দখলে নিয়ে প্রভাবশালীরা তামাক চাষ করছেন। চকরিয়া উপজেলায়ও দেখা যায়, চিরিঙ্গা, হারবাং, মাতামুহুরী নদীর তীর ও সংরক্ষিত বনাঞ্চলজুড়ে তামাক আর তামাক। দেশি ও বিদেশি কয়েকটি বিড়ি-সিগারেট তৈরির কোম্পানি আর্থিক সহযোগিতা দিয়ে চাষিদের তামাক চাষে উৎসাহিত করছে বলে জানা গেছে। সংরক্ষিত বনের জমিতে তামাক চাষ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কক্সবাজারের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এম এ খালেক খান বলেন, সম্প্রতি রামু ও কক্সবাজার সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় ১০ একর জমি থেকে তামাকগাছ উচ্ছেদ করা হয়েছে। বনের অন্যান্য জমিতেও উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। এ ছাড়া চুল্লিতে তামাক পোড়ানোর সময় যেন বনের গাছ উজাড় না হয়, সে ব্যাপারে নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, আগামী মার্চ-এপ্রিল মাসে মাঠের সবুজ তামাক পাতা কেটে চুল্লিতে বনের কাঠ পুড়িয়ে তা শুকানো হবে। তারপর বিক্রির জন্য বান্ডিল করা হয় তামাক পাতা। পরে এই শুকনা তামাক দিয়ে তৈরি হবে বিড়ি-সিগারেট।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কক্সবাজারের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আশীষ কুমার বলেন, জেলার চকরিয়া ও রামুতে এক হাজার ৫০ হেক্টর (দুই হাজার ৯৪ একর) জমিতে (চকরিয়ায় ৯৫০ হেক্টর এবং রামুতে ১০০ হেক্টর) তামাক চাষ হচ্ছে। মাতামুহুরী ও বাঁকখালী নদীর দুই তীর এবং সংরক্ষিত বনভূমিতে তামাক চাষ হলেও এসবের হিসাব কৃষি বিভাগে নেই।
পরিবেশবাদী সংগঠন কক্সবাজার বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, কক্সবাজারে তামাক চাষ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। বিশেষ করে জেলার সাত-আটটি নদীর দুই তীর, সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও পতিত জমিতে এখন বিষাক্ত তামাকের আগ্রাসন চলছে।
নদীর তীরের সরকারি খাস জমিতে তামাক চাষ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সৈয়দ মো. নুরুল বাসির বলেন, ‘সরকারি জমিতে তামাক চাষের জন্য কাউকে ইজারা দেওয়া হয়নি। এর পরও কেউ তামাক চাষ করে থাকলে তা উচ্ছেদ করা হবে।’

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।


সাইনইন

মন্তব্য প্রদানের জন্য সাইনইন করুন 

 
আপনার মতামত দিন