চাই সরকার ও সমাজের জাতীয় জাগরণ

চলন্ত বাসে ধর্ষণ!

| তারিখ: ২৭-০১-২০১৩

  • ৩ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

দিল্লির ঘটনার পর বাংলাদেশেও চলন্ত বাসে ধর্ষণ এক কঠিন ও কুৎসিত বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে আমাদের। বিশেষত, নারীদের জন্য এ ঘটনা আতঙ্কের। দুই ধর্ষক গ্রেপ্তার হয়ে অপরাধের স্বীকারোক্তি দেওয়ায় তদন্তকাজ হয়তো সহজ হয়ে গেল। কিন্তু কেন এমনটা ঘটছে, কীভাবে ধর্ষণ ঘটার আগেই প্রতিরোধ করা সম্ভব, তার পথ বের করা আগের যেকোনো সময়ের চেয়েও এখন বেশি জরুরি।
যে পোশাকশ্রমিকেরা দেশের অর্থনীতিতে বিপুল অবদান রেখে চলেছেন, তাঁদের পরিবহন ও আবাসনের উপযুক্ত ব্যবস্থা কারখানার মালিকেরা করেন না। তাঁদের ভোরে বা রাতে কর্মস্থলে যাওয়া-আসা করতে হয়। ফলে সর্বদাই তাঁরা বিভিন্ন রকম ঝুঁকির মুখেই থাকেন। এ রকম অবস্থায় দিনদুপুরে মানিকগঞ্জে চলন্ত বাসে পোশাকশ্রমিকের ধর্ষণের শিকার হওয়া খুবই উদ্বেগজনক ঘটনা। এরই মধ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে গৃহপরিচারিকাকে ধর্ষণের অভিযোগও উঠেছে। একের পর এক অভাবিত ঘটনা পরিস্থিতির চরম অবনতিরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। আর কত মর্মান্তিক নিষ্ঠুরতা ঘটলে নারীর জন্য ঘর ও বাহিরকে নিরাপদ করায় সরকার সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে এগিয়ে আসবে?
মানিকগঞ্জের ঘটনার প্রতিবাদ হয়েছে এবং হচ্ছে। পুলিশ অপরাধীদের আটকও করেছে। এত অন্ধকারের মধ্যে আশা জাগিয়েছে দুটি প্রতিক্রিয়া। রাস্তার পাশে দাঁড়ানো একজন ফেরিওয়ালা চলন্ত বাসে ঘটনাটি দেখে বাসটির পিছু নেন এবং দুই দুর্বৃত্ত মেয়েটিকে ফেলে যাওয়ার পর তাঁর সহায়তায় এগিয়ে আসেন। অন্যদিকে ঘটনা জানামাত্রই পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের মানিকগঞ্জ শাখার নেতারা পুলিশে খবর দেন এবং দোষী ব্যক্তিদের আটকে কার্যকর সহায়তা করেন। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, ইউনিয়নের বাধার কারণে অপরাধীকে আটকে সমস্যা হয়। সহায়তায় এগিয়ে আসা ফেরিওয়ালা হান্নান মিয়া ও পরিবহন শ্রমিকনেতা বাবুল সরকারের দৃষ্টান্ত সবার জন্য অনুকরণীয়।
পাশাপাশি দিল্লিতে চলন্ত বাসে ধর্ষণের বিশ্বব্যাপী নিন্দা জাগানো ঘটনার সঙ্গে এই ঘটনার কোনো মনস্তাত্ত্বিক যোগাযোগ আছে কি না, তা-ও ভেবে দেখা দরকার। অপরাধবিজ্ঞানী ও গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞদের অনেকে মনে করেন, গণমাধ্যমে অপরাধের ফলাও প্রচার থেকেও অপরাধ উৎসাহিত হতে পারে। দেশে ধর্ষণের সংবাদ প্রকাশ এবং তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ধর্ষণের ঘটনা বাড়তে থাকায় এই নেতিবাচক আশঙ্কাটি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও গণমাধ্যম কর্তৃপক্ষেরও ভাবনাচিন্তা প্রয়োজন।
ধর্ষণের অপরাধে লঘু শাস্তি বা বিচার না হওয়ার নজিরই বেশি। তা ছাড়া যত ঘটনা ঘটে, তার কমই প্রকাশিত হয়, আরও কম ঘটনা আদালত পর্যন্ত গড়ায়। ধর্ষণের শিকার ব্যক্তিকেই অপরাধ প্রমাণের দায় দিয়ে রাখলে এবং বিচার-প্রক্রিয়ায় অসম্মানকর পরিস্থিতি বজায় থাকলে নির্যাতিত ব্যক্তিরা আদালতে যাবেন না। আমরা চাই, অপরাধীদের দ্রুত বিচারের মাধ্যমে শাস্তি হোক। নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনা প্রতিরোধে এই মুহূর্তে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিতে হবে সরকারকে। পাশাপাশি নারী-পুরুষ উভয়ে মিলে নিরাপদ সমাজ ও পরিবেশ সৃষ্টিতে জাগরিত হওয়া প্রয়োজন।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।


সাইনইন

মন্তব্য প্রদানের জন্য সাইনইন করুন 

 

munkasir fuad

munkasir fuad

২০১৩.০১.২৭ ০৭:৫৩
অপরাধবিজ্ঞানী ও গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞদের অনেকে মনে করেন, গণমাধ্যমে অপরাধের ফলাও প্রচার থেকেও অপরাধ উৎসাহিত হতে পারে। বিষয়টি ভেবে দেখার মতো।
২০১৩.০১.২৭ ১০:৪৯
হ্যা, অপরাধবিজ্ঞানী ও গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞদের অনেকে মনে করেন, গণমাধ্যমে অপরাধের ফলাও প্রচার থেকেও অপরাধ উৎসাহিত হতে পারে , শুধু তাই নয় , এ বিষয়ে রাষ্ট্র , সমাজ এবং বুদ্ধির ধারক বাহক বলে কথিত মানুষের উদাসীনতাও অনেকাংশে দায়ী । আরো জরুরী বিষয় হল যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে সত্যিকার অর্থে এই ধরনের দু:স্বাহস দেখানোর সাহস দুবৃত্তদের হত না, সেই মূল কাজটা মূলত কেউই করতে চাচ্ছেন না। যেমন ভারতের কথাই ধরুন । তারা জোর দাবী করছে ধর্ষকের শাস্তি মৃত্যুদন্ড দেয়া হোক । কিন্তু আইন প্রণেতারা তাতে নারাজ । আমাদের দেশের বোদ্ধারা এ বিষয়ে আরো কয়েকধাপ শীর্ষে অবস্থান করেন । তাদের কাছে এ প্রস্তাব দিলে তারা কেবলই চিন্তা করে সেই মধ্যযুগে ফিরে যাব ? তা কি হয় ? এখন বুঝুন । সমাজে ধর্ষকদের জন্য দ্বার উন্মোচন করে রাখবেন, অথচ ধর্ষণ হবে না, তা কি করে হয় ? অতএব সমাধান একটাই - ধর্ষণের শাস্তি প্রকাশ্যে জনসমক্ষে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করে মানবতাকে সত্যিকার অর্থে প্রতিষ্ঠা করা । হিপোক্রাসী দিয়ে সমাধান হবে না।

Kamol Krishna Debnath

Kamol Krishna Debnath

২০১৩.০১.২৭ ১৬:১৮
অপরাধবিজ্ঞানী ও গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞদের অনেকে মনে করেন, গণমাধ্যমে অপরাধের ফলাও প্রচার থেকেও অপরাধ উৎসাহিত হতে পারে। বিষয়টি ভেবে দেখার মতো আবার গণমাধ্যমে অপরাধের ফলাও প্রচার থেকেও মাণু্ষ সচেতন হতে পারে যেমন ফেরিওয়ালা ও শ্রমিক ইউনিয়নের ।