উৎসবে মাতল খুদে গণিতবিদেরা
রাজধানীর রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত ঢাকা-২ আঞ্চলিক পর্বের গণিত উত্সবে অতিথিদের সঙ্গে বিজয়ীরা
ছবি: প্রথম আলো
শীতের সকালের কনকনে বাতাস কাঁপুনি ধরিয়ে দিচ্ছিল। নয়টা বেজে গেলেও রোদের দেখা নেই। কিন্তু হিমেল এই আবহাওয়া ডাচ্-বাংলা ব্যাংক-প্রথম আলো গণিত উৎসবে অংশ নেওয়া গণিতভক্তদের উৎসাহের উষ্ণতা কেড়ে নিতে পারেনি।
গণিতের সমস্যার সমাধান, মজার প্রশ্নোত্তর পর্ব আর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দারুণ সময় কাটিয়েছে তারা।
‘গণিত শেখো, স্বপ্ন দেখো’ স্লোগান নিয়ে গত শুক্রবার রাজধানীর রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে অনুষ্ঠিত হয়েছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক-প্রথম আলো গণিত উৎসবের ঢাকা-২ আঞ্চলিক পর্ব। বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি এই উৎসবের আয়োজন করে। উৎসব সকাল সাড়ে নয়টায় শুরু হয়ে শেষ হয় বিকেল সাড়ে তিনটায়।
চার বিভাগে (প্রাথমিক, জুনিয়র, সেকেন্ডারি ও হায়ার সেকেন্ডারি) বিভক্ত হয়ে তৃতীয় থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীরা এতে অংশ নেয়।
সকালে উৎসবের শুরুতে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির সহসভাপতি মুহম্মদ জাফর ইকবাল শিক্ষার্থীদের বলেন, ‘গণিতকে ভালোবাসতে হলে বেশি বেশি গণিত জানতে হবে। গণিত অলিম্পিয়াড কোনো প্রতিযোগিতা নয়, এটি একটি উৎসব। তাই আজ যারা পুরস্কার পাবে না, তারা মন খারাপ করবে না।’
প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম বলেন, গণিত উৎসব সারা দেশে তরুণ, মেধাবী ও চৌকস শিক্ষার্থীদের আকর্ষণ করেছে। বিজ্ঞানমনস্ক নতুন প্রজন্ম গড়ে উঠেছে, যা দেশের জন্য বড় প্রাপ্তি।
উৎসবের পৃষ্ঠপোষক ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এস তাবরেজ বলেন, ‘ইতিমধ্যে গণিত উৎসবে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দারুণ সফলতা দেখিয়েছে। এ উৎসব বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের কাছে একটি প্রাণের উৎসবে রূপ নিয়েছে।’
উৎসবের উদ্বোধন ঘোষণা করেন রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের গণিত বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এ টি এস এম মাসুদুল হাকিম। এরপর শুরু হয় পরীক্ষা। ছাত্রছাত্রীরা সোয়া এক ঘণ্টার মধ্যে ১০টি গাণিতিক সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করে। এরপর একে একে হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রশ্ন-উত্তর পর্ব ও রুবিকস কিউবের ধাঁধা মেলানোর প্রতিযোগিতা।
নিজেদের পরীক্ষার পর খুদে গণিতবিদেরা নানা বিচিত্র প্রশ্ন করে অতিথিদের পরীক্ষা নেয়! একজন শিক্ষার্থী জানতে চায়, ঘড়িতে তিনটি কাঁটার বদলে চারটি কাঁটা থাকলে কী হতো। প্রশ্নটি কিছুটা চিন্তায় ফেলে দেয় অতিথিদের। কিছুক্ষণ নিজেদের মধ্যে আলোচনার পর অতিথি গবেষক বিজ্ঞানীরা জবাব দেন, ঘড়ির কাঁটা চারটি হলে কাজের সূক্ষ্মতা আরও বাড়ত। তখন ন্যানো সেকেন্ডের সময় হিসাব করতে হতো। মানুষ স্বপ্ন দেখে কেন, ‘ঈশ্বর কণা’র ভর এল কোথা থেকে, সংখ্যার শুরু কোথায়, বিশ্বের প্রথম বিজ্ঞানীর নাম কী—এমন অনেক প্রশ্ন করে শিক্ষার্থীরা। সেরা প্রশ্নের জন্য কেউ কেউ তাৎক্ষণিক পুরস্কারও পায়। এ পর্বটি ছিল তুমুল উত্তেজনায় ভরা।
এবারই প্রথম ডাচ্-বাংলা ব্যাংক-প্রথম আলো গণিত উৎসবে অংশ নিয়েছে সাউথ পয়েন্ট স্কুল ও কলেজের সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী হাসিবুর রহমান। মা নাহিদা হানিফ জানান, হাসিব গণিতকে ভয় পায় না। ওর আগ্রহের কারণেই তিনিও উৎসব দেখতে এসেছেন।
দিনব্যাপী উৎসবে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক মোহাম্মদ কায়কোবাদ, গণিতবিদ সুব্রত মজুমদার, বিজ্ঞান লেখক রেজাউর রহমান, জ্যোতির্বিজ্ঞানী এফ আর সরকার, গণিত অলিম্পিয়াডের সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান, বাংলাদেশ গণিত দলের কোচ মাহাবুব মজুমদার, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হাম্মাদ আলী, প্রগতি সিস্টেমসের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা শাহাদাতউল্লাহ, রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের উপাধ্যক্ষ নাজমা আক্তার বানু, এভারেস্ট বিজয়ী প্রথম বাংলাদেশি মুসা ইব্রাহীম প্রমুখ।
ঢাকা-২ আঞ্চলিক উৎসবে মানিকগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদী ও ঢাকা মহানগরের ১৪৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৯২৭ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে চার বিভাগের ৬০ জনকে জাতীয় উৎসবের জন্য নির্বাচিত করা হয়। এদের প্রত্যেককে দেওয়া হয় পদক ও সনদ।
পাঠকের মন্তব্য
- আপনার মতামত দিন







সাইনইন
মন্তব্য প্রদানের জন্য সাইনইন করুন