ব্যক্তিগত উদ্যোগে ব্যতিক্রমী বক্সিং
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিকমিউনিকেশনসের ছাত্র এজাজ বিন সাদ শখের বশেই বক্সিংয়ে এসেছেন। ইউটিউবে ব্রিটিশ বক্সার আমির খানের বক্সিং দেখতেন প্রায়ই। দেখতে দেখতে নিজেরও বক্সার হওয়ার ইচ্ছা জাগল। প্রায় সাত মাস ধরে অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন মোহাম্মদ আলী বক্সিং স্টেডিয়ামে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোনো প্রতিযোগিতায় নামতে পারেননি। হাত নিশপিশ করে। অবশেষে পূরণ হচ্ছে সাদের ইচ্ছা। আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি মোহাম্মদ আলী বক্সিং স্টেডিয়ামে হবে বৈদ্যনাথ দত্ত স্মৃতি বক্সিং টুর্নামেন্ট। দিনব্যাপী টুর্নামেন্টের উদ্যোক্তা ভারোত্তোলন কোচ কাজল দত্ত।
স্টেডিয়ামের বক্সিং রিং শূন্য পড়ে আছে। নিয়মিত কোনো প্রতিযোগিতার আয়োজন নেই ফেডারেশনের। সর্বশেষ ২০১০ সালের জুলাইয়ে হয়েছিল জাতীয় বক্সিং। এরপর নামকাওয়াস্তে হয়েছে বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবসের মতো ছোটখাটো দিনব্যাপী টুর্নামেন্ট। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অনুদান ধরে রাখতেই মূলত এগুলোর আয়োজন। তবে কাজল দত্তের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ একেবারেই নিজের চেষ্টায়। বাবা বৈদ্যনাথ দত্তের স্মরণে টুর্নামেন্টের আয়োজন করছেন কোনো রকম আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াই।
সিনিয়র, জুনিয়রে ছয়টি বিভাগ ও ইন্টারমিডিয়েটে চারটি বিভাগে নকআউট পদ্ধতিতে হবে খেলা। অংশ নেবে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকার কয়েকটি ক্লাব, খুলনা, যশোর, রাজশাহী ও কুষ্টিয়া জেলা ক্রীড়া সংস্থা। বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে জয়ীদের দেওয়া হবে সনদ ও পদক।
নিজে ভারোত্তোলন কোচ হয়েও কেন বক্সিংয়ে এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ? কাজল দত্তের উত্তর, ‘আমি ভারোত্তোলনের কোচ হলেও বক্সিং ফেডারেশনের কার্যকরী কমিটির সদস্য। একসময় বক্সিংও করতাম। স্টেডিয়ামে এসে বক্সিং রিংটাকে শূন্য পড়ে থাকতে দেখি। কোনো খেলাধুলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না দেখে খারাপ লাগে নিজের কাছে। আগামী মার্চে বাবার মৃত্যুবার্ষিকী। ভাবলাম এর আগে বাবার স্মৃতির উদ্দেশে একটা টুর্নামেন্ট করি!’
ত্রিশের দশকের ফুটবলার বৈদ্যনাথ দত্ত খেলেছেন ভারতের মোহনবাগানে। কুষ্টিয়ার মোহিনী মিল, কসমস, দেবী প্রসাদ ও শিবকালী ক্লাবে। ফুটবলের পাশাপাশি খেলতেন কাবাডিও। ১৯৮১ সালের ৩১ মার্চ মারা যান কুষ্টিয়ার এই ক্রীড়াবিদ। এমন কৃতী ক্রীড়াবিদকে এই প্রজন্মের অনেকেই সেভাবে চেনেন না। আক্ষেপ করে বলছিলেন টুর্নামেন্ট আয়োজক কমিটির সচিব সৈয়দ মহিউদ্দিন, ‘ক্রীড়াঙ্গনে বৈদ্যনাথ স্যার অনেক অবদান রেখেছেন। নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর পরিচয় তুলে ধরতেই মূলত এই টুর্নামেন্ট। আমরা চাই, সবাই যেন তাঁর পরিচয় জানতে পারে।’
পাঠকের মন্তব্য
- আপনার মতামত দিন








সাইনইন
মন্তব্য প্রদানের জন্য সাইনইন করুন