আট কোটি টাকার কাজের দরপত্র জমায় বাধা
অভিযুক্ত ঠিকাদারকে উচ্চ দরে কাজ দিতে তোড়জোড়!
ঝিনাইদহে এক ঠিকাদারের বিরুদ্ধে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) প্রায় আট কোটি টাকার কাজের দরপত্র জমাদানে অন্য ঠিকাদারদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের তদন্ত না করে অভিযুক্ত ঠিকাদারকেই ৭ শতাংশ উচ্চ দরে কাজ দেওয়ার তোড়জোড় চলছে।
ঠিকাদারদের সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার শৈলকুপা-গাড়াগঞ্জ ও মহেশপুর উপজেলার মহেশপুর-আজমপুর সড়কের ২১ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নে মোট সাত কোটি ৮৩ লাখ টাকার কাজের দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল গত ১৯ নভেম্বর। খুলনার অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তর এই দরপত্র আহ্বান করে। খুলনার অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তর ও যশোর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর দপ্তরে দরপত্র জমা দিতে বলা হয়। ১৪ জন ঠিকাদার দরপত্র কেনেন।
ঝিনাইদহের ঠিকাদার নিশীত বসু জানান, দুই স্থানেই ঝিনাইদহের ঠিকাদার শাহিনুর আলম সন্ত্রাসীদের বসিয়ে রেখে তাঁদের দরপত্র জমায় বাধা দেন। তিনি নিজে খুলনায় দরপত্র জমা দিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁকে জমা দিতে দেওয়া হয়নি। ঠিকাদার শরিফ হোসেন জানান, যশোর কার্যালয়েও সন্ত্রাসীদের বসিয়ে রেখেছিলেন শাহিনুর আলম। ১৪টি দরপত্র বিক্রি হলেও জমা পড়েছে তিনটি। শাহিনুর আলম ৭ শতাংশ উচ্চ দর দিয়ে দরপত্র জমা দিয়েছেন। আর তিনি যাতে সর্বনিম্ন দরদাতা থাকতে পারেন, সে জন্য তাঁর পক্ষের দুজন ঠিকাদারকে দিয়ে আরও দুটি দরপত্র জমা দেওয়া হয়েছে; যার একটি ৮ শতাংশ এবং আরেকটি ১০ শতাংশ উচ্চ দরের। এখন সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে শাহিনুর আলমকে ৭ শতাংশ উচ্চ দরে কাজ দেওয়া হচ্ছে।
নিশীত বসু আরও জানান, তাঁরা দরপত্র জমা দিতে না পেরে ২০ নভেম্বর সওজের প্রধান প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত ওই অভিযোগের কোনো তদন্ত করা হয়নি। অথচ সড়ক বিভাগের কতিপয় কর্মকর্তা ওই ঠিকাদারের (শাহিনুর আলম) সঙ্গে আঁতাত করে তাঁকে কাজ দেওয়ার জন্য তোড়জোড় চালাচ্ছেন।
এ ব্যাপারে সওজের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (খুলনা) গুলজার হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ধরেননি। তাঁর কার্যালয়ের প্রধান সহকারী শহিদুল ইসলাম জানান, জমা পড়া তিনটি দরপত্রের মধ্যে মেসার্স শাহিনুর আলমের দর সর্বনিম্ন হওয়ায় তাঁর নামে কাজটি বরাদ্দ দেওয়ার সুপারিশ ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তিনি ৭ শতাংশ উচ্চ দর দিয়েছেন। দরপত্র জমাদানে বাধা প্রদান প্রসঙ্গে তিনি জানান, এভাবে বাধা দেওয়ার বিষয়ে তাঁরা অবগত নন। ঠিকাদারদের লিখিত অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিস্তারিত কিছু জানেন না বলে উল্লেখ করেন।
সওজের প্রধান প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম লস্করের কাছে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে পরে কথা বলবেন বলে সংযোগ কেটে দেন। পরে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি প্রতিবারই সংযোগ কেটে দেন। শাহিনুর আলমের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করে তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে শাহিনুরের ব্যবসা দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা তারই ভগ্নিপতি মাজেদুল ইসলাম জানান, কাজটি আলোচনার মাধ্যমে তাঁরা নিচ্ছেন। কাউকে দরপত্র জমাদানে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ঠিক নয়।
পাঠকের মন্তব্য
সাইনইন
মন্তব্য প্রদানের জন্য সাইনইন করুন







ABDUL MAJID QUAZI
২০১৩.০১.২৭ ০৮:৫১