ভোলায় ‘নির্বাচনী কম্বল’ বিতরণের ধুম

ভোলা অফিস | তারিখ: ২৭-০১-২০১৩

  • ০ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ভোলায় বর্তমান সাংসদ ও নির্বাচন করতে ইচ্ছুক প্রার্থীরা গরিব-দুঃখীদের মধ্যে প্রচুর শীতবস্ত্র বিতরণ করছেন। বেড়ে গেছে তাঁদের সাহায্য-সহযোগিতামূলক নানা কর্মকাণ্ড। বিষয়টি তাঁরা মানবসেবা বলছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় নেতা-কর্মীদের ভাষ্যমতে, ভোলা-৪ (চরফ্যাশন-মনপুরা) আসনের সাংসদ আবদুল্যাহ আল ইসলাম চলতি মাসে পাঁচ হাজার কম্বল ও নগদ টাকা বিতরণ করেছেন। এ আসনের বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী লায়ন নজরুল ইসলাম ১৫ হাজার শীতবস্ত্র ও নগদ টাকা বিতরণ করেছেন।
সাংসদ আবদুল্যাহ আল ইসলাম বলেন, ‘এখানে মানবতাবোধ ও ভোট দুটোই উদ্দেশ্য। যেহেতু মনোনয়ন পাইনি, সেহেতু নির্বাচন সামনে রেখে এসব করছি না। করছি সেবার লক্ষ্যেই।’ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বিএনপি থেকে আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশ নেব। সে লক্ষ্যেই গত সাত-আট বছর মেহনতি মানুষের সেবা করে আসছি। আশা করি, বিএনপির সমর্থন পাব।’
ভোলা-৩ (লালমোহন-তজুমদ্দিন) আসনের সাংসদ নুরুন্নবী চৌধুরী চলতি মাসে তাঁর নির্বাচনী এলাকায় পাঁচ হাজার শীতবস্ত্র, নগদ টাকা ও টিন বিতরণ করেছেন। একটি সংস্থার মাধ্যমে তিন হাজার ১০০ মাকে সাত হাজার ২০০ টাকা করে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। ঘন ঘন এলাকায় এসে গণসংযোগ, সভা-সমিতিতে যোগ দিচ্ছেন তিনি। নুরুন্নবী চৌধুরী বলেন, ‘কেন্দ্রের নির্দেশে নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ শুরু করেছি। তবে শীতবস্ত্র মানবতার সেবায় প্রদান করছি।’
ভোলা-১ আসনের আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী, বাংলাদেশ যুবলীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রূপালী ব্যাংকের পরিচালক মাহবুবুর রহমান চলতি মাসে প্রায় আট হাজার শীতবস্ত্র ও নগদ টাকা বিতরণ করেছেন। ভোলা-১-এর সাংসদ আন্দালিব রহমান চলতি মাসে প্রায় ১৫ হাজার কম্বল ও নগদ টাকা বিতরণ করেছেন।
মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘ভোলা-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে ইচ্ছা করছি। এ জন্য মানুষের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। তবে শীতবস্ত্র বিতরণ, দান-সদকা এগুলো মানবসেবার অংশ।’
বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা নির্বাচনে ভোট পাওয়ার জন্য নয়, মানবতার সেবায় ১৫ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ করেছি। আমাদের সাংসদ আন্দালিব রহমান বাড়ি বাড়ি গিয়ে এসব বিতরণ করেছেন।’
জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা আবদুল ওয়াহেদ প্রথম আলোকে জানান, এ বছর ভোলার সাত উপজেলার শীতার্ত মানুষের জন্য তিন হাজার ৫৪৪টি কম্বল ও নগদ সাত লাখ ৫৪ হাজার টাকা এসেছে। যা প্রত্যেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) শীতার্ত মানুষের মধ্যে বণ্টন করার কথা।
তবে প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিদের ভাষ্য, এসব অনুদান সাংসদেরাই বণ্টন করছেন। তাই সাধারণ লোকজন এসব সাহায্য-সহযোগিতাকে ‘নির্বাচনী কম্বল’ বলতে পিছু হটছেন না।
এ প্রসঙ্গে ভোলা জেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক মো. শাহজাহান এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোবাশ্বির উল্লাহ চৌধুরী বলেন, নির্বাচনের আগে ঢাকঢোল পিটিয়ে এ রকম সাহায্য-সহযোগিতা বিতরণ নির্বাচনের নিরপেক্ষতা বিনষ্ট করবে।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।


সাইনইন

মন্তব্য প্রদানের জন্য সাইনইন করুন 

 
আপনার মতামত দিন