মৌলভীবাজারে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০
মৌলভীবাজারে জেলা বিএনপির দুটি অংশের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় পক্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে একটি মোটরসাইকেল, বেশ কিছু দোকান এবং একজন আলোকচিত্রীর ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়েছে। গতকাল শনিবার বেলা সোয়া একটার দিকে মৌলভীবাজার শহরের পশ্চিমবাজারের কুসুমবাগ এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়।
বিএনপির দুটি অংশ, পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রের বিবরণ অনুযায়ী, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মহিলাবিষয়ক সম্পাদক ও মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খালেদা রব্বানীর নেতৃত্বাধীন অংশ দলের নিখোঁজ নেতা ইলিয়াস আলীর সন্ধান এবং কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুক্তির দাবিতে কাল সোমবার মৌলভীবাজারে একটি বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে। এতে অতিথি হিসেবে থাকার কথা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের।
এদিকে খালেদা জিয়ার বিগত ঢাকা-সিলেট লংমার্চের সময় গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমান সম্পর্কে কটূক্তি করেন বলে অভিযোগ করেছে জেলা বিএনপির সভাপতি এম নাসের রহমানের নেতৃত্বাধীন অংশ। নাসের রহমানের নেতৃত্বাধীন অংশ-সমর্থিত নাগরিক সমাজের ব্যানারে মৌলভীবাজারে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের আগমন প্রতিহত করতে গতকাল দুপুরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহীদ মিনার থেকে বের হয়ে শহরের পশ্চিমবাজারের কুসুমবাগ এলাকার এস আর প্লাজার সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে মৌলভীবাজার নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক সুনীল কুমার দাশের সভাপতিত্বে ও সরওয়ার মজুমদার ইমনের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন নাগরিক সমাজের যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ মতিন, বিএনপির নেতা আবদুল ওয়াদুদ, আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ। সমাবেশ থেকে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে মৌলভীবাজারে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে আজ রোববার শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও কাল সোমবার জনসমাবেশের ডাক দেওয়া হয়।
এদিকে খালেদা রব্বানীর নেতৃত্বাধীন অংশের অনুসারী ও মৌলভীবাজার পৌরসভার কাউন্সিলর স্বাগত কিশোর দাস চৌধুরী জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল মৌলভীবাজার জেলা কমিটির আহ্বায়ক নির্বাচিত হওয়ায় স্বেচ্ছাসেবক দলের পক্ষ থেকে গতকাল দুপুরের দিকে শহরে একটি আনন্দমিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বেলা সোয়া একটার দিকে শহরের পশ্চিমবাজারের কুসুমবাগ এলাকায় পৌঁছালে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে ইটপাটকেল ছোড়াছুড়ি শুরু হলে উভয় পক্ষে অন্তত ১০ জন আহত হন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে খালেদা রব্বানীর নেতৃত্বাধীন অংশের জিল্লুল খান এবং নাসের রহমানের নেতৃত্বাধীন অংশের কয়েস চৌধুরীকে মৌলভীবাজার আড়াই শ শয্যার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা প্রাথমিক চিকিত্সা নিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের সময় একটি মোটরসাইকেল, বেশ কিছু দোকান ভাঙচুর হয়েছে। মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক পূর্বদিক পত্রিকার আলোকচিত্রী জনি দত্তের ক্যামেরা ইটের আঘাতে ভেঙে গেছে। এ সময় এলাকায় ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে লোকজন জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে এম নাসের রহমানের নেতৃত্বাধীন অংশের নেতা সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবদুল ওয়ালী সিদ্দিকী প্রথম আলোকে বলেন, ‘মিছিল ও সমাবেশ শেষ করে আমরা অফিসে এসে বসেছি। এ সময় তাদের (অপর অংশ) মিছিল থেকে আমাদের অফিসে ঢিল পড়ে। এর পরই সংঘর্ষ বেধে যায়।’
খালেদা রব্বানীর নেতৃত্বাধীন অংশের অনুসারী ও জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক স্বাগত কিশোর দাস চৌধুরী গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা পৌরসভা থেকে আনন্দমিছিল নিয়ে বেরিয়েছি। এমন সময় কুসুমবাগ এলাকায় এসে সমাবেশ করার সময় তাদের দিক থেকে প্রথম আমাদের ওপর ঢিল ছোড়া হয়।’
পাঠকের মন্তব্য
- আপনার মতামত দিন







সাইনইন
মন্তব্য প্রদানের জন্য সাইনইন করুন