শিরোনাম:

লাল শাপলা, সরালি হাঁস ও উত্সুক দর্শক

আশীষ-উর-রহমান | তারিখ: ২৭-০১-২০১৩

  • ০ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

বসন্তকে মিনতি করে কবিগুরু বলেছিলেন, ‘যাও গো এবার যাবার আগে রাঙিয়ে দিয়ে যাও’। তবে শীতকে তেমন মিনতি করতে হচ্ছে না। মাঘ চলে যাচ্ছে। নিজের গরজেই যাওয়ার আগে কাঁপিয়ে দিয়ে যাচ্ছে শেষবারের মতো।
শুক্রবার সকালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রক্তিম শাপলা ফোটা লেকের পাশে দাঁড়িয়ে অতিথি পাখির জলকেলি দেখার সময় বেশ ভালো করেই টের পাওয়া যাচ্ছিল শেষবেলার শীতের দাপট। হু হু করে আসা কনকনে হাওয়ার ঝাপটা কাঁপিয়ে দিচ্ছিল আক্ষরিক অর্থেই। তা সত্ত্বেও লেকের স্বচ্ছ পানিতে ডানা ঝাপটে ঝাঁক ধরে উড়ে ওঠা পাখিদের নীলাকাশে চক্কর দেওয়ার মনোহর দৃশ্য দেখতে উত্সাহে ঘাটতি ছিল না পক্ষীপ্রেমীদের।
ছুটির দিনে পাখিমেলার আয়োজন করেছিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগ। সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনের সামনে আয়োজিত দিনব্যাপী এ মেলার উদ্বোধন করেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আনোয়ার হোসেন। সভাপতিত্ব করেন প্রাণীবিদ্যা বিভাগের সভাপতি সাজেদা বেগম। উদ্বোধনী এবং সমাপনী অনুষ্ঠানের অতিথিদের মধ্যে ছিলেন উপ-উপাচার্য ফরহাদ হোসেন, বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক ম. হামিদ, বনসংরক্ষক তপন কুমার দে, পাখিবিদ ইনাম আল হক, বাংলাদেশ পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম চৌধুরী, মেলার আহ্বায়ক অধ্যাপক মোস্তফা ফিরোজ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে পাখি নিয়ে গবেষণায় অবদান রাখার জন্য রোল্যান্ড হালদারকে বিশেষ পদক দেওয়া হয়।
অতিথি পাখিরা আশ্রয় নিয়েছে প্রধান মিলনায়তনের পশ্চিম দিকের লেক ও দক্ষিণের বন্য প্রাণী পুনর্বাসনকেন্দ্রের সংরক্ষিত লেকে। মেলা উপলক্ষে এ এলাকার দ্বার খুলে দেওয়া হয়েছিল পাখি অনুরাগীদের জন্য। গোল গোল পাতার ওপরে মাথা তুলে আছে টকটকে লাল শাপলার রাশি। তার পাশে যূথবদ্ধ হংসমিথুন। কলকাকলিতে মুখর। সাতসকালে তাদের রৌদ্রতাপ উপভোগে বিঘ্ন ঘটানো কৌতূহলী নর-নারীদের উপস্থিতিতে কিছুটা বিরক্ত বলেই মনে হচ্ছিল তাদের। অনেকেই চোখে বাইনোকুলার লাগিয়ে পরখ করছিলেন। ছবি তোলাটা কোনো সমস্যা নয় এখন। পেশাদার আলোকচিত্রী ও চিত্রগ্রাহকেরা ব্যস্ত হয়ে উঠেছিলেন তাদের জলে সাঁতার কাটা, অন্তরিক্ষে উড়ে বেড়ানোর দৃশ্য ধারণে। কেউ কেউ হুস হুস শব্দ করে তাদের উড়তে প্ররোচিত করছিলেন।
অতিথি পাখিরা সাধারণত আসতে থাকে অক্টোবর থেকে, থাকে এপ্রিল পর্যন্ত। গড়পড়তা ১৮০ প্রজাতির জলচরসহ প্রায় ২৮০ প্রজাতির অতিথি পাখি এসে থাকে শীতকালে। অতিথিদের আপ্যায়ন করাই শিষ্টাচার বলে মানা হয় বটে। তবে ব্যতিক্রম একটু উষ্ণতার জন্য কঠিন শীতের দেশ থেকে হাজার হাজার মাইল পেরিয়ে আসা এই পাখিদের ক্ষেত্রে। অবলীলায় তাদের গুলি করে হত্যা করা হয়। ধরা হয় ফাঁদ পেতে। বাঁচতে এসে তারা প্রাণ হারায়, কেউ একাকী ফিরে যায় সঙ্গীহারা হয়ে।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।


সাইনইন

মন্তব্য প্রদানের জন্য সাইনইন করুন 

 
আপনার মতামত দিন