বাসে তরুণীকে ধর্ষণ
চালক ও হেলপারের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি
মানিকগঞ্জে চলন্ত বাসে তরুণীকে ধর্ষণচেষ্টা ও ধর্ষণের অপরাধ স্বীকার করেছেন বাসচালক দীপু মিয়া ও তাঁর সহযোগী (হেলপার) কাসেম মিয়া। তাঁরা মানিকগঞ্জের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির হয়ে গত শুক্রবার বিকেলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এরপর তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়।
ওই ধর্ষণের ঘটনায় মানিকগঞ্জে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। মামলার সুষ্ঠু বিচার এবং আসামিদের শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন সংগঠন দুই দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করেছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মানিকগঞ্জ সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শহিদুর রহমান বলেন, তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে
মামলার দুই আসামি দীপু ও কাসেম জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম শেখ মো. মুজাহিদ-উল ইসলামের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। এর আগে তাঁরা পুলিশের কাছে ১৬১ ধারায় জবানবন্দি দেন। কাসেম ওই তরুণীকে ধর্ষণ করেন এবং দীপু ওই তরুণীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে স্বীকার করেন। আসামিদের উভয়ের বাড়ি মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায়।
পুলিশ জানায়, মামলা শুরুর পর থেকে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেওয়ার বিধান রয়েছে। ধর্ষণের শিকার তরুণীর ডাক্তারি পরীক্ষার কাগজপত্র পাওয়ার পর অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের মানিকগঞ্জে একটি চলন্ত বাসে পোশাকশ্রমিক এক তরুণী (১৮) গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ধর্ষণের শিকার হন।
মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে সন্ধ্যায় ডাক্তারি পরীক্ষা শেষে ওই তরুণী বাদী হয়ে দীপু ও কাসেমকে আসামি করে সদর থানায় রাতে মামলা করেন। মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড থেকে দীপুকে ওই দিন বিকেলে এবং ঢাকার আশুলিয়ার নবীনগর এলাকা থেকে কাসেমকে রাতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
ধর্ষণের শিকার তরুণীকে তাঁর ভগ্নিপতির হেফাজতে রাখা হয়েছে। তিনি প্রথম আলোকে জানান, ওই তরুণী আশুলিয়ার একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। তিনি গতকাল শনিবার কাজে যোগ দিয়েছেন।
মানিকগঞ্জে প্রতিবাদ কর্মসূচি: চলন্ত বাসে তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। স্থানীয় প্রেসক্লাব চত্বরে গত শুক্রবারের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন: বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, বাংলাদেশ মহিলা সংস্থা, বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতি ও বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির স্থানীয় প্রতিনিধিরা।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), ছাত্র ইউনিয়ন, যুব ইউনিয়ন এবং রেইস নামের একটি ব্যান্ড দলের সদস্যরা মানববন্ধনে অংশ নেন। ওই ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে শহরে গতকাল শনিবারও মিছিল ও মানববন্ধন হয়েছে। সরকারি দেবেন্দ্র কলেজ ও সরকারি মহিলা কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে শহরের শহীদ রফিক সড়কে গতকাল বিক্ষোভ মিছিল হয়। এরপর প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি, কর্মজীবী নারী, নারী জোট, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), জাতীয় যুবজোট, ছাত্র ফেডারেশন ও জাতীয় কৃষক জোটের স্থানীয় প্রতিনিধি ও সদস্যরা মানববন্ধন করেন।
ধর্ষণের ঘটনাটি শুভযাত্রা পরিবহনের একটি বাসে ঘটেছিল। শুভযাত্রা বাসমালিক সমিতির সভাপতি আবদুল মতিন মোল্লা বলেন, শুভযাত্রা পরিবহনের মালিক ও শ্রমিকেরা গতকাল সকাল ছয়টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত কর্মবিরতি পালন করেছেন। এ সময় গুলিস্তান-মানিকগঞ্জ সড়কে চলাচলকারী শুভযাত্রা পরিবহনের সব বাস বন্ধ ছিল।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জানান, ওই ধর্ষণ ঘটনার প্রতিবাদে ও দোষীদের বিচারের দাবিতে গতকাল ক্যাম্পাসে মানববন্ধন ও মিছিল হয়েছে।
পাঠকের মন্তব্য
সাইনইন
মন্তব্য প্রদানের জন্য সাইনইন করুন







Subir Kashmir Pereira
২০১৩.০১.২৭ ০৩:৩৯Chonchol islam
২০১৩.০১.২৭ ১০:১৯MD: Tauhid Hossain
২০১৩.০১.২৭ ১০:১৯তারা সাজা পায়না বলে এমন কাজ করার সাহস পায়।
MITHUN
২০১৩.০১.২৭ ১২:৫৮Reaz
২০১৩.০১.২৭ ১৫:০৭Ibrahim
২০১৩.০১.২৭ ১৫:৩১Subir Kashmir Pereira
২০১৩.০১.২৭ ২২:১৯