বাসে তরুণীকে ধর্ষণ

চালক ও হেলপারের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি | তারিখ: ২৭-০১-২০১৩

  • ৯ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

মানিকগঞ্জে চলন্ত বাসে তরুণীকে ধর্ষণচেষ্টা ও ধর্ষণের অপরাধ স্বীকার করেছেন বাসচালক দীপু মিয়া ও তাঁর সহযোগী (হেলপার) কাসেম মিয়া। তাঁরা মানিকগঞ্জের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির হয়ে গত শুক্রবার বিকেলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এরপর তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়।
ওই ধর্ষণের ঘটনায় মানিকগঞ্জে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। মামলার সুষ্ঠু বিচার এবং আসামিদের শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন সংগঠন দুই দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করেছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মানিকগঞ্জ সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শহিদুর রহমান বলেন, তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে
মামলার দুই আসামি দীপু ও কাসেম জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম শেখ মো. মুজাহিদ-উল ইসলামের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। এর আগে তাঁরা পুলিশের কাছে ১৬১ ধারায় জবানবন্দি দেন। কাসেম ওই তরুণীকে ধর্ষণ করেন এবং দীপু ওই তরুণীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে স্বীকার করেন। আসামিদের উভয়ের বাড়ি মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায়।
পুলিশ জানায়, মামলা শুরুর পর থেকে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেওয়ার বিধান রয়েছে। ধর্ষণের শিকার তরুণীর ডাক্তারি পরীক্ষার কাগজপত্র পাওয়ার পর অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের মানিকগঞ্জে একটি চলন্ত বাসে পোশাকশ্রমিক এক তরুণী (১৮) গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ধর্ষণের শিকার হন।
মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে সন্ধ্যায় ডাক্তারি পরীক্ষা শেষে ওই তরুণী বাদী হয়ে দীপু ও কাসেমকে আসামি করে সদর থানায় রাতে মামলা করেন। মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড থেকে দীপুকে ওই দিন বিকেলে এবং ঢাকার আশুলিয়ার নবীনগর এলাকা থেকে কাসেমকে রাতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
ধর্ষণের শিকার তরুণীকে তাঁর ভগ্নিপতির হেফাজতে রাখা হয়েছে। তিনি প্রথম আলোকে জানান, ওই তরুণী আশুলিয়ার একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। তিনি গতকাল শনিবার কাজে যোগ দিয়েছেন।
মানিকগঞ্জে প্রতিবাদ কর্মসূচি: চলন্ত বাসে তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। স্থানীয় প্রেসক্লাব চত্বরে গত শুক্রবারের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন: বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, বাংলাদেশ মহিলা সংস্থা, বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতি ও বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির স্থানীয় প্রতিনিধিরা।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), ছাত্র ইউনিয়ন, যুব ইউনিয়ন এবং রেইস নামের একটি ব্যান্ড দলের সদস্যরা মানববন্ধনে অংশ নেন। ওই ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে শহরে গতকাল শনিবারও মিছিল ও মানববন্ধন হয়েছে। সরকারি দেবেন্দ্র কলেজ ও সরকারি মহিলা কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে শহরের শহীদ রফিক সড়কে গতকাল বিক্ষোভ মিছিল হয়। এরপর প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি, কর্মজীবী নারী, নারী জোট, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), জাতীয় যুবজোট, ছাত্র ফেডারেশন ও জাতীয় কৃষক জোটের স্থানীয় প্রতিনিধি ও সদস্যরা মানববন্ধন করেন।
ধর্ষণের ঘটনাটি শুভযাত্রা পরিবহনের একটি বাসে ঘটেছিল। শুভযাত্রা বাসমালিক সমিতির সভাপতি আবদুল মতিন মোল্লা বলেন, শুভযাত্রা পরিবহনের মালিক ও শ্রমিকেরা গতকাল সকাল ছয়টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত কর্মবিরতি পালন করেছেন। এ সময় গুলিস্তান-মানিকগঞ্জ সড়কে চলাচলকারী শুভযাত্রা পরিবহনের সব বাস বন্ধ ছিল।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জানান, ওই ধর্ষণ ঘটনার প্রতিবাদে ও দোষীদের বিচারের দাবিতে গতকাল ক্যাম্পাসে মানববন্ধন ও মিছিল হয়েছে।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।


সাইনইন

মন্তব্য প্রদানের জন্য সাইনইন করুন 

 

Subir Kashmir Pereira

Subir Kashmir Pereira

২০১৩.০১.২৭ ০৩:৩৯
কঠোর সাজা চাই।

Chonchol islam

Chonchol islam

২০১৩.০১.২৭ ১০:১৯
যারা এই রকম ঘটনা ঘটায় তাদের কে কঠিন শাস্তি দিয়ে, সাড়া দেশে দৃষ্টান্ত তৈরী করা উচিত যাতে কেউ এই রকম ঘটনা ঘটাতে সাহস না করে। আমি এর নিন্দা জানাই এবং এর সুবিচার আশা করি

MD: Tauhid Hossain

MD: Tauhid Hossain

২০১৩.০১.২৭ ১০:১৯
আসলে দোষ ধর্ষকদের না, দোষ আমাদের।
তারা সাজা পায়না বলে এমন কাজ করার সাহস পায়।
২০১৩.০১.২৭ ১১:২৪
আমি মেয়ে, মা, বোন, খালা, আরও অনেক কিছু হই কিন্তু আমি যখন রাস্তায় বের হই তখন হয়ে যাই পন্য। কারন আমাদের সমাজ এখন এমন অবস্থায় পৌছে গেছে ছেলেদের কাছে একটা মেয়ে হলেই হয় হোক সে শিশু বা বৃদ্ধা। আমরা আবারো সেই ববর যুগে ফিরে যাচ্ছি ???? মাঝে মাঝে মনে হয় দেশের সরকার বলতে কিছু নাই??? যদি থাকতো তাহলে আমরা নিরাপদে থাকতাম।

MITHUN

MITHUN

২০১৩.০১.২৭ ১২:৫৮
First of all we have to make sure................that the criminal"s should be condem to death.Then we have to put forward our steps .............how fast it can be done.Moreover we have to make more awareness avoiding this kind of unexpected situation.For that The Government,The Opposition leader,The social worker,The people...................should all work together.I hope at least at this point of view no one deny my opinion..............am i wright?????????????????
২০১৩.০১.২৭ ১৪:৪৮
দয়া করে এই কেইস খুব বেশী দীর্ঘায়িত করবেন না । এদের দু'জনকে জনসমক্ষে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করুন , আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি, সেই ঘটনা দেখে এ জাতিয় লোকজনের মাথা থেকে ধর্ষণ নামক চিন্তা বিলুপ্ত হতে বাধ্য । যদি তা না করা হয়, তাহলে এই ঘটনা দিনে দিনে আরো বাড়বে । কেউ তা প্রতিরোধ করতে পারবেন না।

Reaz

Reaz

২০১৩.০১.২৭ ১৫:০৭
হিন্দি রোবট ছবির মতো (চলন্ত ট্রেনে গণধর্ষণের) ধর্ষণের চিত্র ধর্ষকদের উৎসাহিত করে। প্রায় দেখা যায় নাটক - চলচিত্র থেকে ধর্ষণ বা নারি নির্যাতনের দৃশ্য সমাজে প্রতিফলিত হয়। তাই নাটক - চলচিত্র থেকে ধর্ষণ বা নারি নির্যাতনের দৃশ্য বাদ দিতে হবে। পুলিশকে রাজনৈতিক/ ক্ষমতার প্রভাব মুক্ত করতে হবে। রাজনৈতিক/ ক্ষমতার প্রভাব মুক্ত বিচার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে এবং এমন একটি সমাজকে (রাষ্টের বিচার ব্যবস্থাকে) মডেল হিসাবে নিতে হবে যেখানে ধর্ষণ বা নারি নির্যাতন নাই বা সবছে কম। এমন কোন সমাজের (রাষ্টের বিচার ব্যবস্থার) দিকে ধাবিত হওয়া যাবেনা যেখানে ধর্ষণ বা নারি নির্যাতনের হার বেশি।

Ibrahim

Ibrahim

২০১৩.০১.২৭ ১৫:৩১
ধর্ষকের জবানবন্দীর চেয়ে আমাদের দেশের ভূয়া ডাক্তারের পরীক্ষার রিপোর্ট কি বেশী জরুরী। টাকা দিলে, এই রিপোর্টে অন্য কিছুও আসতে পারে। কোনো অপেক্ষা নয়, দ্রুত রায় এবং তা কার্যকর করা হোক।

Subir Kashmir Pereira

Subir Kashmir Pereira

২০১৩.০১.২৭ ২২:১৯
এ তো গেল ধর্ষণের ঘটনা, যারা নিয়মিত ফার্মগেট এলাকা দিয়ে চলাচল করেন তারা জানেন, সেখানে প্রতিদিন কিভাবে নারীরা নির্যাতিত হচ্ছে। কিছু মানুষরূপী অসভ্য পুরুষ সবার সামনে নারীদের গায়ে হাত দিচ্ছে! ব্যাপারটা সবারই জানা, কিন্তু কেঊ মুখ খুলছে না! পুলিশ নিরব! এসব পুরুষরাই ধর্ষক। এদের জব্ধ করতে পারলেই ধর্ষণ অনেকাশেং বন্ধ হবে।