ঝাড়ুদারের ইনজেকশন, স্কুল ছাত্রীর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, কিশোরগঞ্জ | তারিখ: ২৭-০১-২০১৩

  • ৭ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

কিশোরগঞ্জে ঝাড়ুদারের দেওয়া ইনজেকশনে ইমা আক্তার (৯) নামের তৃতীয় শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত শুক্রবার রাতে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক সদর হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। এর প্রতিবাদে রাতেই ছাত্রীর স্বজনসহ এলাকার বিক্ষুব্ধ জনতা মিছিল বের করে ও কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ সড়ক চার ঘণ্টা অবরোধ করে রাখে। তারা গতকাল শনিবারও হাসপাতাল ঘেরাও করে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত সেবিকা আকলিমা খাতুন ও ঝাড়ুদার রাফিজা আক্তারকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। এ ঘটনায় আকলিমা, রাফিজাসহ চিকিৎসক হাবীবুর রহমানকে আসামি করে একটি মামলা করা হয়েছে। তাঁরা তিনজনই পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনায় চার সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ইমার পরিবার ও পুলিশ জানায়, গত বুধবার দুপুরে শহরের মুন্নাপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় ইমা গুরুতর আহত হয়। সঙ্গে সঙ্গে অটোরিকশার মালিক ও স্বজনদের সহায়তায় ইমাকে ২৫০ শয্যার আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন সকালে অর্থোপেডিক বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক হাবীবুর রহমান উন্নত চিকিৎসার জন্য ইমাকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। ইমার কাঠমিস্ত্রি বাবা জালাল মিয়া আর্থিক অক্ষমতার কারণে এখানেই চিকিৎসার অনুরোধ করেন। পরে বৃহস্পতিবার রাতে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে হাবীবুর তার অস্ত্রোপচার করেন। জ্ঞান ফেরার পর শুক্রবার সকালে ইমাকে সদর হাসপাতালে আনা হয়।
ইমার মা রেখা আক্তার জানান, অস্ত্রোপচারের পর ইমার অবস্থার দ্রুত উন্নতি ঘটে। শুক্রবার সন্ধ্যায় চিকিৎসকের পরামর্শে ইনজেকশন দিতে আকলিমাকে অনুরোধ করলে তিনি ৫০ টাকা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় তিনি ইনজেকশন দেননি। পরে ইমাকে রাফিজা ইনজেকশন দেন। এর পরই ইমার অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। রাত সাড়ে সাতটার দিকে তার মৃত্যু হয়।
এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইমার মৃত্যুর খবর পেয়ে তার স্বজনসহ এলাকার লোকজন মিছিল বের করে এবং হাসপাতালের সামনের সড়ক অবরোধ করে। এর ফলে কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ সড়কের হাসপাতাল এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়।
অবরোধ চলাকালে জড়িতদের বিচারের দাবি করে প্রতিবাদ সমাবেশ করা হয়। এ সময় এর সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শেখ সেলিম কবীর ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম। রাত সাড়ে ১১টার দিকে আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মোহাম্মদ আলী, জেলা বিএমএর সভাপতি মাহবুব ইকবাল ও সাধারণ সম্পাদক নওশাদ খান সমাবেশে উপস্থিত হয়ে আকলিমা ও রাফিজাকে সাময়িক বরখাস্তের ঘোষণা এবং তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল শনিবারও সকালে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মিছিল নিয়ে হাসপাতাল ঘেরাও করলে পুলিশ ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা তাদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা হাসপাতালে ঢুকতে চাইলে সিভিল সার্জন হাসপাতালে মূল গেটে এসে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আশ্বাস দিলে জনতা শান্ত হয়।
আকলিমা ও রাফিজাকে টাকা চাওয়া ও ইনজেকশন দেওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তাঁরা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। সিভিল সার্জন হুসাইন সারোয়ার খান জানান, সেবিকা ও ঝাড়ুদারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। মৃত্যুর কারণ ও দায়ীদের চিহ্নিত করতে বিশেষজ্ঞ সার্জন মোল্লা নজরুলকে প্রধান করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন জানান, এ ঘটনায় ইমার বড় ভাই হেলাল মিয়া চিকিৎসক হাবীবুর, আকলিমা ও রাফিজাকে আসামি করে মামলা করেছেন। তাঁদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।


সাইনইন

মন্তব্য প্রদানের জন্য সাইনইন করুন 

 
২০১৩.০১.২৭ ০৬:২১
oh Celucas--truly its a strange country...

riaz

riaz

২০১৩.০১.২৭ ১১:১১
বাংলাদেশে এর কোন বিচার হবে না। তদন্ত শেষ হবে না। আকলিমা ও রাফিজার নয়, কতৃপক্ষ বলতে যাদেরকে বুঝায় তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার হতে হবে। যাতে অন্যকোন কতৃপক্ষের অবহেলা না থাকে।

২০১৩.০১.২৭ ১২:৩৫
দূর্নীতি আরো একটি প্রাণ কেড়ে নিল। আমি বুঝতে পারছিনা এরপরো কিভাবে রাষ্ট্র বসে থাকে?

২০১৩.০১.২৭ ১৩:৫২
আমি আমার অফিসের কাজে ভ্যাট অফিস গেলাম গত ২২.০১.২০১৩ তারিখে; ঐখানকার বুয়াও দেখলাম ঘুষ দাবি করে! মূসক-১৯ দেবে তারা বিনা মূল্যে কিন্ত বুয়া ২০ টাকা দাবি করছে! এবং আমি খিয়াল করে দেখলাম প্রত্যেকের চেহারা পিশাচের মত হোএ গেছে! চেহারায় কোনো মাধুর্যতা নাই! ৫০ টাকার বলি একটি শিশু! চিন্তা করতেও ঘৃনা লাগে!
২০১৩.০১.২৭ ১৪:৪৩
কেবল সেবিকা আকলিমা খাতুন ও ঝাড়ুদার রাফিজা আক্তারকে সাময়িক বরখাস্ত করে এর দায় মিটবে না। এই খুনের দায়ে হাসপাতালের দায়িত্ব নিয়োজিত চিকিতসককে ফাসি দিলেই কেবল এর সুষ্ঠূ বিচার হবে ।

Nishanka Mandal

Nishanka Mandal

২০১৩.০১.২৭ ১৫:৪৫
বাংলাদেশের ডাক্তাররা দ্বায়িত্ববান না তার নজির এটা !

Riaz

Riaz

২০১৩.০১.২৮ ০০:১০
ইঞ্জেকশান দেয়া নার্সের কাজ,তা না করায় দায়ী নার্সই হবে। এখানে ডাক্তারকে জড়ানো হচ্ছে কেন? সে তো তার দায়িত্ব ঠিক ভাবেই পালন করেছে এবং মেয়েটি সুস্থ ও হয়ে উঠছিল।