বলিউড
ইলিয়েনার বলিউড-জয়
-
ইলিয়েনা
-
ইলিয়েনা
আলিয়া ভাট, সানি লিওন, এশা গুপ্ত, ডায়না পেন্টি, ইয়ামি গৌতম, হুমা কোরেশি ও ফারাহ খানেরা হিংসার আগুনে জ্বলেপুড়ে ছারখার হতেই পারেন! সবাইকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে শেষ পর্যন্ত কিনা ইলিয়েনা ডি ক্রুজ একাই শ্রেষ্ঠ নতুন অভিনেত্রীর পুরস্কার ঘরে তুলে নিলেন! ইয়ামি অবশ্য জি সিনে অ্যাওয়ার্ড যৌথভাবে স্পর্শ করার সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু স্ক্রিন, ফিল্মফেয়ার—সবই তো ঝুলিতে ভরলেন ২৫ বছরের ইলিয়েনা! নতুন নায়িকাদের হিংসার হেতুটিও ফেলে দেওয়ার মতো নয়। মিস ডি ক্রুজ সাত বছর আগেও ফিল্মফেয়ার থেকে একই পুরস্কার পেয়েছিলেন, অর্থাৎ শ্রেষ্ঠ নতুন অভিনেত্রীর পুরস্কার! সেটি অবশ্য ছিল দক্ষিণী ছবির জন্য। ২০০৬ সালে প্রথম তেলেগু ছবি দেভাদাসুতে অভিনয় করে এ পুরস্কার জিতে নিয়েছিলেন ইলিয়েনা। এরপর আরও ১৫টি তেলেগু, দুটি তামিল ও একটি কানাড়া ছবিতে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা পুঁজি করে ক্যারিয়ারের প্রথম হিন্দি ছবি বরফিতে বাঙালি বধূ শ্রুতি ঘোষের চরিত্রে অভিনয় করেন ইলিয়েনা। তেলেগু ছবির সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত ইলিয়েনা ছবিপিছু যা নেন, তা বলিউড অভিনেত্রীদের কাছে রেকর্ডতুল্য! এই অভিনেত্রী তাঁর প্রথম বলিউডি প্রকল্পে সু-অভিনয় করে সমালোচকদের ভ্রু নাচাতে বাধ্য করবেন—এটাই তো স্বাভাবিক।
শুধু কি সু-অভিনয়? ইলিয়েনার ক্যারিয়ারের ৯০ শতাংশ ছবিই সুপারহিট, নয়তো ব্লকবাস্টার হিট। অভিনয়জীবনের প্রথম বছরেই পোকিরি ছবিতে ধুন্দুমার জনপ্রিয়তা পেয়ে যান ইলিয়েনা। সেই ছবি সালমান খান রিমেকও করেন বলিউডে, ওয়ান্টেড নাম দিয়ে। নায়িকা চরিত্রে ইলিয়েনাকেই প্রথম পছন্দ ছিল সালমান ও পরিচালক প্রভু দেবার। কিন্তু ম্যাডাম ডি ক্রুজ তখনো নাকি বলিউডমুখী হওয়ার ব্যাপারে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছিলেন। বলিউডবাসীর আবার কারও আশায় বসে থাকার মতো সময় নেই। ইলিয়েনার ‘না’ আয়শা টাকিয়ার ক্যারিয়ারে বড় ধরনের সাফল্য এনে দেয়। সেই আফসোসের ক্ষত এখনো শুকোয়নি ইলিয়েনার মনে। এখন তাই নতুন আশায় দিন গুজরান করছেন তিনি।
২০০৯ সালে মুক্তি পাওয়া ইলিয়েনার কিক ছবিটি এবার সালমান খানই রিমেক করছেন। নায়িকা চরিত্রে লাইন ধরেছেন প্রিয়াঙ্কা থেকে দীপিকা, সোনম, সোনাক্ষী ও পরিণীতা। অবশ্য লাইনের খুঁটিটি শক্ত করে ধরে আছেন একমাত্র ইলিয়েনাই। মূল ছবিতে যে তিনি অভিনয় করেছিলেন। এবার হয়তো ভাগ্যের শিকে ছিঁড়বে, খান সাহেবের সঙ্গে অভিনয়ের সুযোগ মিলবে। অবশ্য প্রথম হিন্দি ছবিতেও ইলিয়েনার অন্তর্ভুক্তি অনেকটা সিনেমার চিত্রনাট্যের মতো। শুরুতে ক্যাটরিনা কাইফ ‘শিডিউল নেই’ অজুহাত দেখিয়ে এবং পরবর্তী সময় দীপিকা পাড়ুকোন চরিত্র পছন্দ হয়নি বলে পরিচালককে হতাশ করেন। বাধ্য হয়েই অনুরাগ বসু সিদ্ধান্ত নেন, নতুন কাউকে ‘ব্রেক’ দিয়ে দেখিয়ে দেবেন তথাকথিত ‘গ্ল্যামডল’দের। প্রথম হিন্দি ছবি বরফি সব মিলিয়ে ১৭৫ কোটি রুপি ঘরে তোলার পর ইলিয়েনা অবশ্য একটি মাত্র ছবিকেই ‘হ্যাঁ’ বলেছেন এখন পর্যন্ত—রাজকুমার সন্তোষীর ফাটা পোস্টার নিকলা হিরো (শহীদ কাপুর)। শহীদ কাপুরের অন্য নায়িকাদের মতো ইলিয়েনাও নাকি প্রেম-প্রেম খেলায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন ‘লাভ টয়’ শহীদের সঙ্গে। অবশ্য ‘যত্তসব গুজব’ আওড়িয়ে অস্ট্রেলিয়ান যুবকের সঙ্গেই এখানে-সেখানে দেখা যাচ্ছে ম্যাডাম ক্রুজকে। বিজ্ঞজনদের মতো ইলিয়েনা বলেন, ‘প্রেম করার মতো সময় আমার নেই। আমার ধ্যান-জ্ঞান এখন কাজ নিয়ে।’ তল্পিতল্পা গুটিয়ে এখন মুম্বাইয়ে নিবাস গড়েছেন ইলিয়েনা। কাজল, বিদ্যা বালান, মেরিল স্ট্রিপ ও জোডি ফোস্টারের অভিনয় খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছেন। শিখছেন হিন্দি উচ্চারণ। অবশ্য পরিচালক অনুরাগ বসুর সহযোগিতায় বরফি ছবিতেই প্রথমবারের মতো ডাবিং করেন ইলিয়েনা। এর আগে কোনো দক্ষিণী ছবিতেই ডাবিং করার সাহস করতে পারেননি তিনি। ইলিয়েনা বলেন, ‘প্রথম হিন্দি ছবিতেই সোজা পথে হাঁটিনি। আনকোরা চরিত্র বেছে নিয়েছি। এক তুড়িতেই ভেসে যাওয়ার ঝুঁকি ছিল, কিন্তু পিছু হটিনি। ফল পেয়েছি। এ কারণেই সাহস বেড়ে গেছে। আশা করছি, এখন থেকে প্রতি ছবিতেই নতুন ইলিয়েনাকে দর্শকদের উপহার দেব। এটাই আমার টার্গেট।’
বলিউড টাইমস, বলিউড হাঙ্গামা, ফিল্মফেয়ার, টাইমস অব ইন্ডিয়া, হিন্দুস্তান টাইমস ও রেডিফ অবলম্বনে
পাঠকের মন্তব্য
- আপনার মতামত দিন







সাইনইন
মন্তব্য প্রদানের জন্য সাইনইন করুন