শিরোনাম:

রুমা এখন অনেক কাছে!

বুদ্ধজ্যোতি চাকমা, বান্দরবান | তারিখ: ৩১-০১-২০১৩

  • ০ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

কেওক্রাডং, তাজিংডং কিংবা বগালেকের অপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে প্রথমেই আসতে হয় পাহাড়ি জনপদ রুমায়। ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে বান্দরবান হয়ে বারবার যানবাহন পরিবর্তন করে সড়ক ও নৌপথে এত দিন রুমা যেতে হতো। এখন রুমা-সাঙ্গু সেতু সেই দুর্ভোগ দূর করেছে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে দূরত্ব ঘুচিয়েছে কেওক্রাডংয়ের।
গত ১৭ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রুমা-সাঙ্গু সেতু উদ্বোধনের পর বান্দরবান থেকে সরাসরি সড়কপথে পর্যটকেরা রুমা যাচ্ছেন। পাশাপাশি কৃষিপণ্য কেনাবেচার জন্য ব্যবসায়ীদের আনাগোনাও বেড়েছে। হঠাৎই যেন কোলাহলমুখর হয়ে উঠেছে ছোট্ট এই উপজেলা শহরটি।
পরিবহন ব্যবসায়ী লুপ্রু মারমা জানান, সাঙ্গু সেতু উদ্বোধনের পর বান্দরবান-রুমা রুটে গাড়ির সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু এর পরও যাত্রীদের চাপ সামাল দেওয়া যাচ্ছে না।
তবে যাতায়াতব্যবস্থা এখন সুগম হলেও সরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারী তাঁদের কার্যালয়ে আগের মতোই অনুপস্থিত থাকছেন। ফলে রুমার বাসিন্দাদের ছুটতে হচ্ছে জেলা সদরে।
সম্প্রতি রুমায় গিয়ে দেখা যায় পর্যটক, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের আনাগোনায় মুখর এক পরিবেশ। বেথেলপাড়ার ব্যবসায়ী জুয়েল বম বলেন, ‘একটি সেতুর অভাবে এত দিন বিচ্ছিন্ন ছিল রুমা।
সেতু হওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকের আয় বেড়েছে। এলাকার বহু তরুণ ট্যুরিস্ট গাইডের কাজ নিচ্ছেন। বেড়েছে খেতে উৎপন্ন ফসলের বিক্রি।’
রুমা বাজারের আবাসিক হোটেল ব্যবসায়ী জসীম উদ্দিন জানন, বগালেক, কেওক্রাডং ও তাজিংডং পাহাড়ে পর্যটকের ভিড় বেশি। শহর থেকে আসা মানুষ উপজেলা সদরে থাকতে চান না। তাই ওইসব এলাকার মানুষজনও পর্যটন থেকে লাভবান হচ্ছেন।
চাষি রিয়ালদো বম বলেন, ‘আগে কাজুবাদাম, কমলা, আম, কাঁঠাল, আদা, হলুদ বিক্রির জন্য ব্যবসায়ীদের কাছে নিয়ে গিয়ে অপেক্ষা করতে হতো। এখন সরাসরি যোগাযোগের সুবিধা হওয়ায় পরিস্থিতি পাল্টেছে। ব্যবসায়ীরাই এখন ট্রাক নিয়ে পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে পণ্যের জন্য অপেক্ষা করেন।’
রুমা উপজেলা চেয়ারম্যান অংথোয়াই চিং মারমা বলেন, ‘রুমা-সাঙ্গু সেতু হওয়ায় এই এলাকার মানুষের উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তবে এর সুফল পেতে আরও কয়েক বছর অপেক্ষা করতে হবে।’

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।


সাইনইন

মন্তব্য প্রদানের জন্য সাইনইন করুন 

 
আপনার মতামত দিন