পার্বত্য জেলা পরিষদের সঙ্গে ইউপি ও পৌরসভার দ্বন্দ্ব

হরি কিশোর চাকমা, রাঙামাটি | তারিখ: ৩১-০১-২০১৩

  • ০ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

হাটবাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোর সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভাগুলোর দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছে। পৌরসভার কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, বিভিন্ন হাটবাজার উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট পৌরসভা কাজ করে। কিন্তু বাজার ইজারা দেয় পার্বত্য জেলা পরিষদ। অপরদিকে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, সারা দেশে হাটবাজার ইজারার দায়িত্ব ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃপক্ষের। একমাত্র পার্বত্য চট্টগ্রামের হাট বাজারগুলো ইজারা দেয় পার্বত্য জেলা পরিষদ। এ নিয়ে দীর্ঘ দুই যুগের বেশি দ্বন্দ্ব চলছে পার্বত্য জেলা পরিষদের সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভাগুলোর মধ্যে।
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের জনসংযোগ কর্মকতা অরুণেন্দু ত্রিপুরা বলেন, ইউনিয়ন পরিষদব্যবস্থা প্রবর্তিত হওয়ার আগে পার্বত্য চট্টগ্রামে হাটবাজার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ছিল জেলা প্রশাসনের।
পরবর্তীকালে ১৯৩৭ সালে বাজারফান্ড প্রশাসন আইন প্রবর্তিত হয়। এ আইনের অধীনে জেলা প্রশাসন প্রত্যেক বাজারে একজন করে বাজার চৌধুরী নিয়োগ দিয়ে খাজনা আদায় করে।
১৯৮৯ সালে পার্বত্য তিন জেলা (রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান) স্থানীয় সরকার পরিষদ (বর্তমান পার্বত্য জেলা পরিষদ) ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়। ওই সময় বাজার ফান্ড প্রশাসন পার্বত্য জেলা পরিষদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তখন থেকে ইজারার মাধ্যমে হাটবাজারে টোল আদায় শুরু হয়।
রাঙামাটি পৌরসভার মেয়র মো. সাইফুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, পৌর এলাকার বাজারগুলোতে বাতির ব্যবস্থা ও পরিচ্ছন্নতার কাজ করে পৌরসভা। কিন্তু ইজারা দেয় জেলা পরিষদ। আয়ের কোনো অংশও পৌরসভাগুলোকে দেয় না। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জানিয়ে কোনো কাজ হয়নি।
বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ ফোরামের রাঙামাটি জেলা শাখার সভাপতি অরুণ কান্তি চাকমা বলেন, ইউনিয়ন পরিষদগুলোর আয়ের প্রধান মাধ্যম গ্রামের হাটবাজার। কিন্তু পার্বত্য এলাকায় হাটবাজারগুলোর ইজারা প্রদানসহ যাবতীয় ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পার্বত্য জেলা পরিষদের।
জেলা পরিষদ হাটবাজার থেকে আয়ের মাত্র ২০ শতাংশ সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদগুলোকে দেয়। আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি, হাটবাজার থেকে আয়ের ৫০ শতাংশ ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে সমানভাবে বণ্টন করতে হবে। রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের বাজার ফান্ড প্রশাসনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মারুফুর রশীদ খান বলেন, বাজারের আয় থেকে সংশ্লিষ্ট বাজার চৌধুরীকে ১৭ শতাংশ, ইউনিয়ন পরিষদকে ২০ শতাংশ, সরকারি কোষাগারে ভ্যাটসহ ১২ শতাংশ দেওয়া হয়।
অবশিষ্ট অর্থ বাজারের উন্নয়ন, বাজারফান্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বাজারের ঝাড়ুদারদের বেতন বাবদ ব্যয় করা হয়। তবে যে সব ইউনিয়নে বাজার নাই সে সব ইউনিয়ন পরিষদে কোনো অর্থ দেওয়া হয় না বলে নিশ্চিত করেন।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।


সাইনইন

মন্তব্য প্রদানের জন্য সাইনইন করুন 

 
আপনার মতামত দিন