কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক

সরে যাচ্ছে রাস্তার পাশের মাটি, ঝুঁকিতে চলাচল

রতন কান্তি দে, উখিয়া | তারিখ: ৩১-০১-২০১৩

  • ০ মন্তব্য
  • প্রিন্ট
  • Share on Facebook

পর্যটন এলাকা কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে কোনো ফুটপাত নেই। সংকীর্ণ এই সড়কের দুই পাশের শতাধিক স্থানে ভেঙে গিয়ে গর্ত হয়েছে। পথচারী ও যানবাহনগুলো পড়েছে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ৭৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কের দুই পাশে শতাধিক স্থানে মাটি নেই। খাদ ও গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। গাড়ি চালকেরা নিরাপদে অন্য গাড়িকে পাশ কাটিয়ে সহজে যেতে পারে না। এলাকাবাসীরা জানায়, একটি গাড়ি অন্য গাড়িকে সাইড দিতে গিয়ে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায়। কক্সবাজার থেকে ভোরে পর্যটকবাহী শতাধিক মিনিবাস সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। সড়ক সরু হওয়ার কারণে এগুলো স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারে না।
সড়ক ও জনপদ বিভাগের (সওজ) কক্সবাজার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সড়কটির প্রস্থ ২০ ফুট। দুই পাশে আরও অন্তত ১২ ফুট জায়গা থাকলেও মূল সড়কের সঙ্গে এর কোনো সংযোগ স্থাপন করা হয়নি। ফলে পণ্য বোঝাই কোনো ভারী যানবাহন অন্য যানবাহনকে সাইড দিতে গিয়ে খাদে পড়ে উল্টে যায়। ২৬ জানুয়ারি কোট বাজার স্টেশনের অদূরে টেকনাফ স্থলবন্দর থেকে বাণিজ্য চুক্তির কাঠ বোঝাই একটি ট্রাক খাদে পড়ে উল্টে যায়। এতে ড্রাইভার ও হেলপারসহ তিনজন আহত হয়। গেল ডিসেম্বর মাসের শেষে রাজাপালং হিজলিয়ায় বাণিজ্য চুক্তির পণ্যবাহী ট্রাক খাদে পড়ে সহজেই উঠতে পারেনি। বালুখালী ব্রিজসংলগ্ন স্থানে ১ জানুয়ারি সেন্ট মার্টিন থেকে কক্সবাজারগামী পর্যটকবাহী মিনিবাস খাদে পড়ে। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
সড়কের পাশের ব্যবসায়ী প্রভাষ দাশ ও নুরুল কবির জানান, পর্যটন এবং মিয়ানমারের সঙ্গে বাণিজ্যের কারণে সড়কটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি স্থানীয় কোনো বিষয় নয়। এই সড়ক দিয়ে চলাচল করেন সারা দেশের মানুষ। পর্যটন মৌসুমে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সচিব, উচ্চ পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, সরকারি দলের প্রভাবশালী কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, বিদেশি রাষ্ট্রদূত, কুটনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও বিদেশি পর্যটকেরা চলাচল করেন। অথচ বছরের পর বছর ধরে সড়কের দুই পাশে মাটি দিয়ে ভাঙন থেকে রক্ষা করা হচ্ছে না।
উখিয়া বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, বিগত এক বছরে এ সড়কে ২৫ জনের মতো মানুষ হতাহত হয়েছেন। সড়কটির পাশে ২৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। বেশির ভাগ শিক্ষার্থী পায়ে হেঁটে যাওয়া আসা করে। অথচ সড়কে দুই পাশে হাঁটার কোনো জায়গা নেই। বিশেষ করে মহিলা শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে চলাচলে বেশি সমস্যা দেখা দেয়।
সওজ কক্সবাজারের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আসিফ আশরাফ উদ্দিন এ প্রসঙ্গে প্রথম আলোকে বলেন, সড়কের দুই পাশের শতাধিক স্থানে মাটি নেই এটা সত্য। তবে সামনে প্রকল্পের মাধ্যমে সড়কের পাশের ওইসব স্থানে মাটি ভরাট করে ফুটপাত তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

পাঠকের মন্তব্য

পাঠকদের নির্বাচিত মন্তব্য প্রতি সোমবার প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে।


সাইনইন

মন্তব্য প্রদানের জন্য সাইনইন করুন 

 
আপনার মতামত দিন